ঢাকা ০৩:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

পেকুয়ায় গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, স্বামী উধাও: পারিবারিক কলহ ও হত্যার অভিযোগ

কক্সবাজারের পেকুয়ায় এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ আনা হয়েছে এবং স্বামী পলাতক রয়েছেন। স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

শুক্রবার (১৯ মার্চ) দুপুরে উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ মেহেরনামা মুরারপাড়া এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। নিহত গৃহবধূ শাহিদা বেগম (২৮) একই এলাকার সৌদি প্রবাসী মকসুদ আহমদের স্ত্রী ছিলেন। তিনি সদর ইউনিয়নের আন্নরআলী মাতবরপাড়া এলাকার বদিউল আলমের মেয়ে।

নিহতের পিতা বদিউল আলম অভিযোগ করেছেন যে, তার মেয়েকে সকাল থেকে মারধর করা হচ্ছিল। তিনি জানান, মকসুদ দ্বিতীয় বিয়ে করতে চেয়ে শাহিদার ওপর প্রায়ই নির্যাতন চালাতেন। শুক্রবারের মারধরের এক পর্যায়ে বালিশ চাপা দিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। এরপর ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে এবং আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার জন্য লাশ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে এতে ব্যর্থ হয়ে পাষণ্ড স্বামী লাশ ফেলে পালিয়ে যায়। তিনি তার মেয়ের হত্যার ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শাহিদা বেগম ও মকসুদ আহমদের প্রায় ১০ বছর আগে বিয়ে হয়েছিল। তাদের কোনো সন্তান নেই, তবে পাঁচ বছর বয়সী একটি পালিত কন্যা রয়েছে। সকালে তাদের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ চলছিল বলে প্রতিবেশীরা শুনেছেন। বাড়ির চারপাশে দেয়াল ও গেট বন্ধ থাকায় বাহির থেকে কারো প্রবেশ সম্ভব ছিল না। জুমার নামাজের পর পালিত কন্যা মাহি কান্নাকাটি শুরু করলে স্থানীয়রা বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশে খবর দেয়।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য শাহেদুল ইসলাম বলেন, জুমার নামাজের পর গৃহবধূ মৃত্যুর খবর শুনে তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশকে সহায়তা করেন। ঘটনার পর থেকে স্বামী মকসুদ পলাতক রয়েছেন।

পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খাইরুল আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানান, পেকুয়া সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ মেহেরনামা মোরারপাড়া এলাকা থেকে এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। নিহতের স্বামী পলাতক রয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অবরোধ প্রত্যাহার করলেই যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনা সম্ভব: ইরান

পেকুয়ায় গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, স্বামী উধাও: পারিবারিক কলহ ও হত্যার অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৯:১৫:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬

কক্সবাজারের পেকুয়ায় এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ আনা হয়েছে এবং স্বামী পলাতক রয়েছেন। স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

শুক্রবার (১৯ মার্চ) দুপুরে উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ মেহেরনামা মুরারপাড়া এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। নিহত গৃহবধূ শাহিদা বেগম (২৮) একই এলাকার সৌদি প্রবাসী মকসুদ আহমদের স্ত্রী ছিলেন। তিনি সদর ইউনিয়নের আন্নরআলী মাতবরপাড়া এলাকার বদিউল আলমের মেয়ে।

নিহতের পিতা বদিউল আলম অভিযোগ করেছেন যে, তার মেয়েকে সকাল থেকে মারধর করা হচ্ছিল। তিনি জানান, মকসুদ দ্বিতীয় বিয়ে করতে চেয়ে শাহিদার ওপর প্রায়ই নির্যাতন চালাতেন। শুক্রবারের মারধরের এক পর্যায়ে বালিশ চাপা দিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। এরপর ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে এবং আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার জন্য লাশ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে এতে ব্যর্থ হয়ে পাষণ্ড স্বামী লাশ ফেলে পালিয়ে যায়। তিনি তার মেয়ের হত্যার ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শাহিদা বেগম ও মকসুদ আহমদের প্রায় ১০ বছর আগে বিয়ে হয়েছিল। তাদের কোনো সন্তান নেই, তবে পাঁচ বছর বয়সী একটি পালিত কন্যা রয়েছে। সকালে তাদের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ চলছিল বলে প্রতিবেশীরা শুনেছেন। বাড়ির চারপাশে দেয়াল ও গেট বন্ধ থাকায় বাহির থেকে কারো প্রবেশ সম্ভব ছিল না। জুমার নামাজের পর পালিত কন্যা মাহি কান্নাকাটি শুরু করলে স্থানীয়রা বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশে খবর দেয়।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য শাহেদুল ইসলাম বলেন, জুমার নামাজের পর গৃহবধূ মৃত্যুর খবর শুনে তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশকে সহায়তা করেন। ঘটনার পর থেকে স্বামী মকসুদ পলাতক রয়েছেন।

পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খাইরুল আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানান, পেকুয়া সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ মেহেরনামা মোরারপাড়া এলাকা থেকে এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। নিহতের স্বামী পলাতক রয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।