সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে বজ্রপাতে প্রাণহানির ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। সরকারিভাবে বজ্রনিরোধক দণ্ড স্থাপন করা হলেও রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং ভুল স্থানে স্থাপনের কারণে সেগুলো সাধারণ মানুষের কোনো কাজে আসছে না। ফলে প্রতিবছর বজ্রপাতে কৃষক ও জেলেদের মৃত্যুর মিছিলে যোগ হচ্ছে নতুন নতুন নাম, যা পুরো জেলাজুড়ে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
তথ্যমতে, সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চল দেশের অন্যতম বজ্রপাতপ্রবণ এলাকা। বিশেষ করে মার্চ থেকে জুন মাসে এখানে বজ্রপাতে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। সরকারি হিসেবে গত কয়েক বছরে এখানে অন্তত ৬৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এই ক্ষয়ক্ষতি কমাতে ২০২১-২২ অর্থবছরে প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে ১৮টি বজ্রনিরোধক দণ্ড স্থাপন করা হয়। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, এসব দণ্ড উন্মুক্ত হাওরে স্থাপন না করে বিভিন্ন সরকারি ভবন ও কার্যালয়ের ছাদে বসানো হয়েছে। ফলে খোলা মাঠে কাজ করা কৃষক ও জেলেরা এর কোনো সুফল পাচ্ছেন না।
সরেজমিনে তদন্তে দেখা গেছে, স্থাপিত অধিকাংশ বজ্রনিরোধক দণ্ডই বর্তমানে অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে। যন্ত্রগুলোর মিটার সচল না থাকায় বজ্রপাতের তীব্রতা বা সংখ্যা কোনোটিই পরিমাপ করা সম্ভব হচ্ছে না। স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো একে চরম অব্যবস্থাপনা হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তারা দাবি তুলেছেন, হাওরের গভীর এলাকায় দণ্ড স্থাপনের পাশাপাশি ছোট ছোট আশ্রয়কেন্দ্র ও একটি পূর্ণাঙ্গ আবহাওয়া কেন্দ্র নির্মাণ করা প্রয়োজন, যাতে প্রাকৃতিক এই দুর্যোগ থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করা যায়।
রিপোর্টারের নাম 

























