ঢাকা ০২:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে পটুয়াখালীর ৩০ গ্রামে আগাম ঈদুল ফিতর উদযাপন

পটুয়াখালী জেলার ৩০টি গ্রামে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আগাম ঈদুল ফিতর উদযাপন করা হয়েছে। জেলার বিভিন্ন স্থানে চাঁনটুপির অনুসারী অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ এই ঈদ পালন করেন। শুক্রবার (২০ মার্চ) সকাল ৯টায় পটুয়াখালী সদর উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের বদরপুর দরবার শরীফে ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এই জামাতে ইমামতি করেন বদরপুর দরবার শরীফ জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব আলহাজ মাওলানা মো. শফিকুল ইসলাম গনি।

স্থানীয়দের মতে, পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে ঈদের চাঁদ দেখা গেলেই তারা ঈদ উদযাপন করেন এবং একদিন আগে রোজা রাখেন। শুধু ঈদুল ফিতর নয়, ঈদুল আজহাও তারা একদিন আগেই পালন করেন। ঈদের জামাতে অংশগ্রহণকারী রফিকুল ইসলাম জানান, জন্মের পর থেকেই তারা এভাবে ঈদ উদযাপন করে আসছেন এবং প্রায় ১০০ বছর ধরে এই নিয়ম প্রচলিত আছে। তিনি আরও জানান, এদিন বাড়িতে সেমাই-পায়েস রান্না করা হয় এবং বন্ধু-বান্ধবরা বেড়াতে আসেন। স্থানীয় বাসিন্দা মো. করিম বেপারী বলেন, তাদের পীরসাহেবের নির্দেশক্রমে তারা ঈদ পালন করেন এবং কোরবানির ঈদও বাংলাদেশের একদিন আগেই পালন করেন।

সদর উপজেলার বদরপুর, ছোটবিঘাই; গলাচিপা উপজেলার পশুরী বুনিয়া, সেনের হাওলা, কানকুনি পাড়া, মৌডুবি, নিজ হাওলা; বাউফল উপজেলার রাজনগর, বগা, ধাউরাভাঙ্গা, মদনপুরা, সুরদি, চন্দ্রপাড়া, দ্বিপাশা, শাপলা খালী, আমিরাবাদ, কনকদিয়া; কলাপাড়া উপজেলার ইটবাড়ীয়া, শহরের নাঈয়া পট্টি, টিয়াখালী, তেগাছিয়া এবং দক্ষিণ দেবপুরসহ আরও বেশ কয়েকটি গ্রামে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানা যায়, ১৯২৮ সালে এক পীরের উদ্যোগে সৌদি আরবের চাঁদের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ পালনের এই প্রথার সূচনা হয়। আগাম ঈদ উদযাপনকারী এসব মানুষ হানিফি মাজহাব ও কাদেরিয়া তরিকার অনুসারী। তাদের বর্তমান পীর হলেন চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার হজরত শাহসুফি মাওলানা মুফতি মোহাম্মদ মমতাজ আলী। বদরপুর দরবার শরীফ মসজিদের ইমাম ও খতিব আলহাজ মাওলানা মো. শফিকুল ইসলাম গনি বলেন, ‘১০০ বছর পূর্বে থেকে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে একদিন আগে রোজা এবং ঈদ-পালন করে আসছি।’ বদরপুর দরবার শরীফে প্রধান জামাতে দরবার শরীফ এর অন্যতম পরিচালক বিশিষ্ট সমাজসেবক আলহাজ নাজমুস শাহাদাতসহ চাঁনটুপি অনুসারীরা এবং স্থানীয় বিপুলসংখ্যক মুসুল্লি অংশগ্রহণ করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যুদ্ধকালীন উত্তেজনার মাঝেও হরমুজ প্রণালীতে রেকর্ড সংখ্যক জাহাজ চলাচল

সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে পটুয়াখালীর ৩০ গ্রামে আগাম ঈদুল ফিতর উদযাপন

আপডেট সময় : ০৫:৪৬:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬

পটুয়াখালী জেলার ৩০টি গ্রামে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আগাম ঈদুল ফিতর উদযাপন করা হয়েছে। জেলার বিভিন্ন স্থানে চাঁনটুপির অনুসারী অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ এই ঈদ পালন করেন। শুক্রবার (২০ মার্চ) সকাল ৯টায় পটুয়াখালী সদর উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের বদরপুর দরবার শরীফে ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এই জামাতে ইমামতি করেন বদরপুর দরবার শরীফ জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব আলহাজ মাওলানা মো. শফিকুল ইসলাম গনি।

স্থানীয়দের মতে, পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে ঈদের চাঁদ দেখা গেলেই তারা ঈদ উদযাপন করেন এবং একদিন আগে রোজা রাখেন। শুধু ঈদুল ফিতর নয়, ঈদুল আজহাও তারা একদিন আগেই পালন করেন। ঈদের জামাতে অংশগ্রহণকারী রফিকুল ইসলাম জানান, জন্মের পর থেকেই তারা এভাবে ঈদ উদযাপন করে আসছেন এবং প্রায় ১০০ বছর ধরে এই নিয়ম প্রচলিত আছে। তিনি আরও জানান, এদিন বাড়িতে সেমাই-পায়েস রান্না করা হয় এবং বন্ধু-বান্ধবরা বেড়াতে আসেন। স্থানীয় বাসিন্দা মো. করিম বেপারী বলেন, তাদের পীরসাহেবের নির্দেশক্রমে তারা ঈদ পালন করেন এবং কোরবানির ঈদও বাংলাদেশের একদিন আগেই পালন করেন।

সদর উপজেলার বদরপুর, ছোটবিঘাই; গলাচিপা উপজেলার পশুরী বুনিয়া, সেনের হাওলা, কানকুনি পাড়া, মৌডুবি, নিজ হাওলা; বাউফল উপজেলার রাজনগর, বগা, ধাউরাভাঙ্গা, মদনপুরা, সুরদি, চন্দ্রপাড়া, দ্বিপাশা, শাপলা খালী, আমিরাবাদ, কনকদিয়া; কলাপাড়া উপজেলার ইটবাড়ীয়া, শহরের নাঈয়া পট্টি, টিয়াখালী, তেগাছিয়া এবং দক্ষিণ দেবপুরসহ আরও বেশ কয়েকটি গ্রামে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানা যায়, ১৯২৮ সালে এক পীরের উদ্যোগে সৌদি আরবের চাঁদের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ পালনের এই প্রথার সূচনা হয়। আগাম ঈদ উদযাপনকারী এসব মানুষ হানিফি মাজহাব ও কাদেরিয়া তরিকার অনুসারী। তাদের বর্তমান পীর হলেন চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার হজরত শাহসুফি মাওলানা মুফতি মোহাম্মদ মমতাজ আলী। বদরপুর দরবার শরীফ মসজিদের ইমাম ও খতিব আলহাজ মাওলানা মো. শফিকুল ইসলাম গনি বলেন, ‘১০০ বছর পূর্বে থেকে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে একদিন আগে রোজা এবং ঈদ-পালন করে আসছি।’ বদরপুর দরবার শরীফে প্রধান জামাতে দরবার শরীফ এর অন্যতম পরিচালক বিশিষ্ট সমাজসেবক আলহাজ নাজমুস শাহাদাতসহ চাঁনটুপি অনুসারীরা এবং স্থানীয় বিপুলসংখ্যক মুসুল্লি অংশগ্রহণ করেন।