ঢাকা ০৯:০২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

নওগাঁয় কালবৈশাখীর তাণ্ডব: শতকোটি টাকার ফসলহানি, দিশেহারা কৃষক

নওগাঁর ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জেলার ১১টি উপজেলায় মাত্র আধা ঘণ্টার এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে ৭৩১ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কলার বাগান, যা স্থানীয় কৃষকদের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ঝড়ে ২২৫ হেক্টর জমির কলা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ১৬৭ কোটি টাকা। এছাড়া ৫ কোটি টাকার বেশি মূল্যের ভুট্টাসহ গম, আলু ও শাকসবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক স্থানে গমের শীষ ভেঙে পড়েছে এবং বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে সবজি ও আলুর ক্ষেত।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঝড়ে অসংখ্য কলা ও পেঁপে গাছ ভেঙে মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। অনেক কৃষক তাদের শেষ সম্বল হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। কৃষকরা জানান, আর মাত্র এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যেই কলার ফলন ঘরে তোলার কথা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে প্রকৃতির এই রুদ্ররূপে তাদের সব স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। বিশেষ করে যারা ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছিলেন, তারা এখন দিশেহারা।

স্থানীয় কৃষি বিভাগ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করছে এবং দুর্যোগ পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় পরামর্শ দিচ্ছে। তবে কৃষকদের দাবি, সরকারি সহায়তা বা বিশেষ প্রণোদনা ছাড়া এই বিশাল আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা তাদের পক্ষে অসম্ভব। কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত কলা ও ভুট্টার মতো ফসলগুলো পুনরায় জীবিত করা সম্ভব নয়, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ছে না: ইরানের ওপর পুনরায় হামলার স্পষ্ট ইঙ্গিত ট্রাম্পের

নওগাঁয় কালবৈশাখীর তাণ্ডব: শতকোটি টাকার ফসলহানি, দিশেহারা কৃষক

আপডেট সময় : ০৬:৫৯:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬

নওগাঁর ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জেলার ১১টি উপজেলায় মাত্র আধা ঘণ্টার এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে ৭৩১ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কলার বাগান, যা স্থানীয় কৃষকদের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ঝড়ে ২২৫ হেক্টর জমির কলা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ১৬৭ কোটি টাকা। এছাড়া ৫ কোটি টাকার বেশি মূল্যের ভুট্টাসহ গম, আলু ও শাকসবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক স্থানে গমের শীষ ভেঙে পড়েছে এবং বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে সবজি ও আলুর ক্ষেত।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঝড়ে অসংখ্য কলা ও পেঁপে গাছ ভেঙে মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। অনেক কৃষক তাদের শেষ সম্বল হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। কৃষকরা জানান, আর মাত্র এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যেই কলার ফলন ঘরে তোলার কথা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে প্রকৃতির এই রুদ্ররূপে তাদের সব স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। বিশেষ করে যারা ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছিলেন, তারা এখন দিশেহারা।

স্থানীয় কৃষি বিভাগ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করছে এবং দুর্যোগ পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় পরামর্শ দিচ্ছে। তবে কৃষকদের দাবি, সরকারি সহায়তা বা বিশেষ প্রণোদনা ছাড়া এই বিশাল আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা তাদের পক্ষে অসম্ভব। কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত কলা ও ভুট্টার মতো ফসলগুলো পুনরায় জীবিত করা সম্ভব নয়, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলবে।