বৈশাখের তপ্ত দহন আর জ্বালানি সংকটে সৃষ্ট ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের মধ্যেই আজ মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) থেকে দেশজুড়ে শুরু হচ্ছে ২০২৬ সালের এসএসসি, দাখিল ও সমমানের পরীক্ষা। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর ৯টি সাধারণ বোর্ডসহ মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন শিক্ষার্থী এই পাবলিক পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। সারাদেশে ৩ হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে মোট ৩০ হাজার ৬৬৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীরা পরীক্ষায় বসছে, যার মধ্যে ছাত্রের সংখ্যা ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ এবং ছাত্রীর সংখ্যা ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন। বরাবরের মতো সবচেয়ে বেশি ৩ লাখ ৬৬ হাজার ৬৫০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে ঢাকা বোর্ড থেকে। তবে পরীক্ষার শেষ মুহূর্তের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিতে গিয়ে দেশব্যাপী চলমান তীব্র বিদ্যুৎ বিভ্রাটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। বিশেষ করে মফস্বল ও গ্রামাঞ্চলে দিনে-রাতে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকায় মোমবাতি ও হারিকেনই এখন পরীক্ষার্থীদের একমাত্র ভরসায় পরিণত হয়েছে।
পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের হিসাব মতে, ২০ এপ্রিল দুপুরে দেশজুড়ে ১ হাজার ২১৯ মেগাওয়াট লোডশেডিং থাকলেও মাঠপর্যায়ের চিত্র আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গ্যাস সরবরাহ হ্রাস ও জ্বালানি সংকটের কারণে চট্টগ্রামের ২৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে ১০টিই বর্তমানে বন্ধ রয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৬৮ জন পরীক্ষার্থীর ওপর। চট্টগ্রামের রাউজান ও জুলধার মতো বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো বন্ধ থাকায় এবং তীব্র গরমে শিক্ষার্থীদের দমবন্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নগরের ও গ্রামাঞ্চলের শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে, পরীক্ষার আগের রাতেও এমন দীর্ঘস্থায়ী লোডশেডিংয়ের ফলে পড়ার টেবিলে মন বসানো বা স্বাভাবিক প্রস্তুতি নেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অনেক অভিভাবক আক্ষেপ করে জানিয়েছেন, আইপিএস ব্যবহারের সামর্থ্য না থাকায় অনেক শিক্ষার্থীকে বাধ্য হয়ে অন্ধকার ও অসহনীয় গরমের মধ্যেই প্রস্তুতির চেষ্টা চালাতে হচ্ছে।
বিদ্যুৎ বিভাগ ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলো জানাচ্ছে, চাহিদার তুলনায় সরবরাহে ব্যাপক ঘাটতি থাকায় লোডশেডিং করা ছাড়া তাদের হাতে বিকল্প কোনো পথ নেই। রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে পিক আওয়ারে ২৫ থেকে ৩০ মেগাওয়াট পর্যন্ত ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। পিডিবির চট্টগ্রাম স্কাডা বিভাগের তথ্যমতে, মূলত গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং প্রচণ্ড গরমে বিদ্যুতের চাহিদা অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এমন প্রতিকূল পরিস্থিতিতে চট্টগ্রামের পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলো মাইকিং করে গ্রাহকদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানাচ্ছে। তবে ভয়াবহ গরম আর অন্ধকারের মাঝে জীবনের প্রথম বড় এই পাবলিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা নিয়ে অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টদের মাঝে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 























