ঢাকা ১০:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ছে না: ইরানের ওপর পুনরায় হামলার স্পষ্ট ইঙ্গিত ট্রাম্পের

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৩২:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

ইরানের সাথে চলমান সাময়িক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আর না বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী ২২ এপ্রিল (বুধবার) এই যুদ্ধবিরতির সময়সীমা আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হতে যাচ্ছে। সোমবার ব্লুমবার্গকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোনো চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন না হলে সংঘাত পুনরায় শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাড়াহুড়ো করে কোনো ‘খারাপ চুক্তিতে’ স্বাক্ষর না করার বিষয়ে নিজের অনড় অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, মার্কিন প্রশাসনের হাতে যথেষ্ট সময় আছে এবং প্রয়োজনে তিনি আবারও লড়াই শুরু করার পক্ষে। ট্রাম্পের এমন কঠোর অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে নতুন করে অনিশ্চয়তা ও উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।

গত কয়েকদিন ধরে যুদ্ধবিরতি নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যে কিছুটা অস্পষ্টতা থাকলেও বর্তমানে তিনি তাঁর অবস্থানে বেশ কঠোর। যদিও মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফেরাতে পাকিস্তান ও ওমান মধ্যস্থতার জোর চেষ্টা চালাচ্ছে, তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী নিয়ে দুই দেশের অনমনীয় মনোভাব সমঝোতার পথে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত রোববার ট্রাম্প আলোচনার জন্য তাঁর প্রতিনিধিদলকে ইসলামাবাদে পাঠানোর কথা ঘোষণা করলেও ইরান সোমবার সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, আপাতত তাদের আলোচনার কোনো পরিকল্পনা নেই। তেহরানের এই প্রত্যাখ্যান এবং ট্রাম্পের ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের কৌশল দুই দেশকে আবারও একটি বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন শান্তি আলোচনার আড়ালে মূলত ইরানের ওপর কূটনৈতিক ও সামরিক চাপ বজায় রাখতে চাইছে। অন্যদিকে, তেহরান তাদের পারমাণবিক ও কৌশলগত স্বার্থ রক্ষায় কোনো ধরনের ছাড় দিতে রাজি নয়। ২২ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল আশঙ্কা করছে যে, কার্যকর কোনো সমঝোতা না হলে মধ্যপ্রাচ্য আবারও এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের কবলে পড়তে পারে, যার প্রভাব পড়বে বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতির ওপর।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ছে না: ইরানের ওপর পুনরায় হামলার স্পষ্ট ইঙ্গিত ট্রাম্পের

আপডেট সময় : ০৮:৩২:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

ইরানের সাথে চলমান সাময়িক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আর না বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী ২২ এপ্রিল (বুধবার) এই যুদ্ধবিরতির সময়সীমা আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হতে যাচ্ছে। সোমবার ব্লুমবার্গকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোনো চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন না হলে সংঘাত পুনরায় শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাড়াহুড়ো করে কোনো ‘খারাপ চুক্তিতে’ স্বাক্ষর না করার বিষয়ে নিজের অনড় অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, মার্কিন প্রশাসনের হাতে যথেষ্ট সময় আছে এবং প্রয়োজনে তিনি আবারও লড়াই শুরু করার পক্ষে। ট্রাম্পের এমন কঠোর অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে নতুন করে অনিশ্চয়তা ও উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।

গত কয়েকদিন ধরে যুদ্ধবিরতি নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যে কিছুটা অস্পষ্টতা থাকলেও বর্তমানে তিনি তাঁর অবস্থানে বেশ কঠোর। যদিও মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফেরাতে পাকিস্তান ও ওমান মধ্যস্থতার জোর চেষ্টা চালাচ্ছে, তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী নিয়ে দুই দেশের অনমনীয় মনোভাব সমঝোতার পথে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত রোববার ট্রাম্প আলোচনার জন্য তাঁর প্রতিনিধিদলকে ইসলামাবাদে পাঠানোর কথা ঘোষণা করলেও ইরান সোমবার সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, আপাতত তাদের আলোচনার কোনো পরিকল্পনা নেই। তেহরানের এই প্রত্যাখ্যান এবং ট্রাম্পের ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের কৌশল দুই দেশকে আবারও একটি বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন শান্তি আলোচনার আড়ালে মূলত ইরানের ওপর কূটনৈতিক ও সামরিক চাপ বজায় রাখতে চাইছে। অন্যদিকে, তেহরান তাদের পারমাণবিক ও কৌশলগত স্বার্থ রক্ষায় কোনো ধরনের ছাড় দিতে রাজি নয়। ২২ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল আশঙ্কা করছে যে, কার্যকর কোনো সমঝোতা না হলে মধ্যপ্রাচ্য আবারও এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের কবলে পড়তে পারে, যার প্রভাব পড়বে বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতির ওপর।