ঢাকা ১২:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

বাস ও লঞ্চে একচেটিয়া ভাড়া বৃদ্ধির পাঁয়তারা বন্ধের দাবি যাত্রী কল্যাণ সমিতির

আন্তর্জাতিক ক্রেতা-ভোক্তা অধিকার আইন লঙ্ঘন করে বাস ও লঞ্চ মালিকদের একচেটিয়া ভাড়া বৃদ্ধির পাঁয়তারার অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সোমবার বিকেলে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী এই দাবি জানান। তিনি বলেন, যাত্রীদের সাথে কোনো আলোচনা বা দরকষাকষি ছাড়াই মালিকপক্ষ ভাড়া বাড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছে যা সাধারণ মানুষের জন্য ভোগান্তির কারণ হবে।

মোজাম্মেল হক চৌধুরী আরও বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে গণপরিবহনের ভাড়া বাড়া স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হলেও মালিক সমিতি সরকারের কিছু অসাধু কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে একতরফা সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট এই ভাড়া নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় গোপনীয়তা অবলম্বন এবং মিডিয়াকে এড়িয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বাসে ও লঞ্চে বাড়তি ভাড়া নিয়ে যাত্রীদের লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনাগুলোও তিনি উল্লেখ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে বেশ কিছু অনিয়মের কথা তুলে ধরে বলা হয়, ৫২ আসনের বাসের ব্যয় বিশ্লেষণ করে ভাড়া নির্ধারণ করা হলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে যাত্রী সাধারণের সাথে প্রতারণা করা হয়। আরামদায়ক ভ্রমণের কথা বলে ৪০ আসনের ভাড়ার তালিকায় ৫২ থেকে ৬০ আসনের যাত্রী বহন করা হচ্ছে। এছাড়া লক্কড়-ঝক্কড় বাসগুলোর অস্বাভাবিক রক্ষণাবেক্ষণ খরচ ও টায়ার-টিউবের কাল্পনিক দাম দেখিয়ে ভাড়া বৃদ্ধির টেবিল গরম করা হয়।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীর জরাজীর্ণ বাসগুলোকে উচ্চমূল্যের ব্যাংক ঋণে কেনা দেখিয়ে ভাড়া বৃদ্ধির অজুহাত তৈরি করা হয়। এসব অনিয়ম ও জালিয়াতি বন্ধ করে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে এবং যাত্রী প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে ভাড়া নির্ধারণের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় নোয়াখালীর প্রবাসীর মৃত্যু, আহত ২

বাস ও লঞ্চে একচেটিয়া ভাড়া বৃদ্ধির পাঁয়তারা বন্ধের দাবি যাত্রী কল্যাণ সমিতির

আপডেট সময় : ১০:৪১:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

আন্তর্জাতিক ক্রেতা-ভোক্তা অধিকার আইন লঙ্ঘন করে বাস ও লঞ্চ মালিকদের একচেটিয়া ভাড়া বৃদ্ধির পাঁয়তারার অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সোমবার বিকেলে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী এই দাবি জানান। তিনি বলেন, যাত্রীদের সাথে কোনো আলোচনা বা দরকষাকষি ছাড়াই মালিকপক্ষ ভাড়া বাড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছে যা সাধারণ মানুষের জন্য ভোগান্তির কারণ হবে।

মোজাম্মেল হক চৌধুরী আরও বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে গণপরিবহনের ভাড়া বাড়া স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হলেও মালিক সমিতি সরকারের কিছু অসাধু কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে একতরফা সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট এই ভাড়া নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় গোপনীয়তা অবলম্বন এবং মিডিয়াকে এড়িয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বাসে ও লঞ্চে বাড়তি ভাড়া নিয়ে যাত্রীদের লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনাগুলোও তিনি উল্লেখ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে বেশ কিছু অনিয়মের কথা তুলে ধরে বলা হয়, ৫২ আসনের বাসের ব্যয় বিশ্লেষণ করে ভাড়া নির্ধারণ করা হলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে যাত্রী সাধারণের সাথে প্রতারণা করা হয়। আরামদায়ক ভ্রমণের কথা বলে ৪০ আসনের ভাড়ার তালিকায় ৫২ থেকে ৬০ আসনের যাত্রী বহন করা হচ্ছে। এছাড়া লক্কড়-ঝক্কড় বাসগুলোর অস্বাভাবিক রক্ষণাবেক্ষণ খরচ ও টায়ার-টিউবের কাল্পনিক দাম দেখিয়ে ভাড়া বৃদ্ধির টেবিল গরম করা হয়।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীর জরাজীর্ণ বাসগুলোকে উচ্চমূল্যের ব্যাংক ঋণে কেনা দেখিয়ে ভাড়া বৃদ্ধির অজুহাত তৈরি করা হয়। এসব অনিয়ম ও জালিয়াতি বন্ধ করে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে এবং যাত্রী প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে ভাড়া নির্ধারণের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়েছে।