ঢাকা ১২:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

৭৮ ঘণ্টা ধরে চলছে তারেকের অনশন, নিবন্ধন না পেলে উঠবেন না

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:২৮:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ নভেম্বর ২০২৫
  • ১৬ বার পড়া হয়েছে

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) দল নিবন্ধনের তালিকায় নিজেদের দল ‘আমজনতার দল’ না থাকায় ইসির প্রধান ফটকের সামনে আমরণ অনশনে রয়েছেন দলটির সদস্যসচিব তারেক রহমান। অনশনের ৭৮ ঘণ্টা চলছে, তার শারিরীক অবস্থারও অবনতি ঘটেছে; তবুও দাবিতে অটল তারেক রহমান। দলের নিবন্ধন না পাওয়া পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার (৭ নভেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, অনশনরত অবস্থায় রয়েছেন ‘আমজনতার দল’ এর সদস্যসচিব তারেক রহমান। তার হাতে স্যালাইন লাগানো। তাকে ঘিরে রয়েছেন অনেক মানুষ। তিনি সবাইকে নিজ দলের কাগজপত্র দেখিয়ে বলছেন, সব থাকার পরও কেন তাকে নিবন্ধন দেওয়া হচ্ছে না। অনেক উৎসুক জনতা এসে তার ভিডিও করছে, ছবি তুলছে।

এ সময় নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কেউ যোগাযোগ করেছিল কিনা জানতে চাইলে তারেক রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ইসির পক্ষ থেকে উপসচিব পর্যায়ে একজনকে পাঠিয়েছিল। তিনি আমার অনশন ভাঙানোর জন্য এসেছিলেন। আমি তাকে বলেছি, আপনারা যে চিঠিটা দিয়েছেন, এটা নিজেরা পড়েছেন? তিনি বলেন, পড়েন নাই। যিনি আমাকে অনশন ভাঙাতে এসেছেন, যারা চিঠি দিয়েছেন সেটা তারা পড়েন নাই। তারপর যখন চিঠি থেকে একটা একটা করে প্রশ্ন আমরা গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরলাম, তখন তিনি একটা কথাও বলতে পারলেন না। তিনি বললেন, আমি ওপরে গিয়ে স্যারদের সঙ্গে আলোচনা করে জানাচ্ছি। তিনি গেছেন বৃহস্পতিবার, আর ফিরে আসেননি। আজ শুক্রবার বন্ধের দিন। শনিবার বন্ধের দিন। এটুকু মানবিকতা তাদের নেই।’

‘আমজনতার দল’ এর সদস্যসচিব বলেন, ‘তারা (ইসি) ভেবেছিল আমি অনশনে বসছি। এখান থেকে বেইজ্জতি হয়ে অনশন ভেঙে আবার চলে যাবো এবং নিবন্ধন পাবো না। আমি স্পষ্ট করতে চাই, আমার দলের সহযোদ্ধারা এতদিন ধরে ভোটের অধিকারের জন্য লড়াই করেছেন। তারা এখন এসে নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবে না, এটা আমি মানতেই পারছি না। তাদের কাছে আমি কী জবাব দেবো? কোনও জবাব দিতে পারি না, তাদের মুখের দিকে তাকাতে পারি না। আমরা কেন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবো না? আমরা যখন তাদের (ইসি) কাছে যাচ্ছি, তারা ঘোরাচ্ছে, টালবাহানা করছে। একটার পর একটা যুক্তি দেখাচ্ছে। তারা বলছে, তদন্ত তো আপনাকে না জানিয়েও করতে পারি। এখন এই যে একটা শর্ত ছিল, যে যথাযথ সন্দেহের কারণে পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারবে। যথাযথ সন্দেহ যে কেমন সন্দেহ সেই ব্যাখ্যা কোনোদিন দেয় না। তেমন তারা বলছে, আমি তো আপনাকে না জানিয়েও তদন্ত করতে পারি।’

তিনি সবাইকে দলের কাগজপত্র দেখিয়ে বলছেন, সব থাকার পরও কেন তাকে নিবন্ধন দেওয়া হচ্ছে না

এখন অনশন ভাঙবেন কিনা বা পরবর্তী পদক্ষেপ কী জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আপনাকে বলছি, সবাইকে বলছি…আমি উঠছি না এখান থেকে। আমার ভেতরে অনেক কষ্ট হচ্ছে। বাহিরে যেভাবে সবার সঙ্গে হাসিখুশি আছি, ভেতরটা এরকম হাসিখুশি হওয়ার কথা না। পেছনে সিসি ক্যামেরা আছে, নির্বাচন কমিশনের লোকজন দেখলে বুঝতে পারবেন যে আমি এই সময়ের মধ্যে ৭৮ ঘণ্টার মধ্যে এক ফোটা পানিও খাইনি। কোনও খাবার শুকনা বা ভেজা; খাইনি। আমি যে কীভাবে আছি সেটা নিজে জানি।’

এ সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা এসে সংহতি জ্ঞাপন করেছেন জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘গতকাল রুহুল কবির রিজভী ভাই এসেছিলেন। প্রথমত বিএনপি আমাকে অনেক কেয়ার করে। তারা ছোট ভাই, ক্ষেত্রবিশেষে সন্তান এবং ক্ষেত্রবিশেষে সহযোদ্ধা মনে করেন। তিনি এসে আমার সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে গিয়েছেন। রিজভী ভাইয়ের পরে জাসাসের ভাইয়েরা এসেছিল। তারপর যুবদলের ভাইয়েরা, স্বেচ্ছাসেবক দলের ভাইয়েরা, মোটরশ্রমিক দলের ভাইয়েরা এসেছেন। বারো দলীয় জোটের হুদা ভাইরা এসেছেন। সেলিম ভাই এসেছেন। আরও অনেক রাজনৈতিক দলের ভাইয়েরা এসেছেন। তারা আসছেন সংহতি জ্ঞাপন করছেন। সবাই সহযোগিতাই করছেন।’

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) চূড়ান্ত পর্যালোচনা শেষে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্ক্সবাদী) ও  বাংলাদেশ আম জনগণ পার্টিকে নিবন্ধন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এখন দাবি-আপত্তি চেয়ে পত্রিকায় গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে। এরপর দাবি-আপত্তি না এলে তা নিষ্পত্তি করে চূড়ান্ত নিবন্ধন দেওয়া হবে। সেদিন দল নিবন্ধনের তালিকা থেকে ছিটকে পড়ে তারেক রহমানের ‘আম জনতার দল’। এরপর বিকাল থেকেই আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের মূলক ফটকে অনশনে রয়েছেন তারেক রহমান।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় লিজেন্ডারি সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলেকে শেষ বিদায়

৭৮ ঘণ্টা ধরে চলছে তারেকের অনশন, নিবন্ধন না পেলে উঠবেন না

আপডেট সময় : ০৯:২৮:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ নভেম্বর ২০২৫

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) দল নিবন্ধনের তালিকায় নিজেদের দল ‘আমজনতার দল’ না থাকায় ইসির প্রধান ফটকের সামনে আমরণ অনশনে রয়েছেন দলটির সদস্যসচিব তারেক রহমান। অনশনের ৭৮ ঘণ্টা চলছে, তার শারিরীক অবস্থারও অবনতি ঘটেছে; তবুও দাবিতে অটল তারেক রহমান। দলের নিবন্ধন না পাওয়া পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার (৭ নভেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, অনশনরত অবস্থায় রয়েছেন ‘আমজনতার দল’ এর সদস্যসচিব তারেক রহমান। তার হাতে স্যালাইন লাগানো। তাকে ঘিরে রয়েছেন অনেক মানুষ। তিনি সবাইকে নিজ দলের কাগজপত্র দেখিয়ে বলছেন, সব থাকার পরও কেন তাকে নিবন্ধন দেওয়া হচ্ছে না। অনেক উৎসুক জনতা এসে তার ভিডিও করছে, ছবি তুলছে।

এ সময় নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কেউ যোগাযোগ করেছিল কিনা জানতে চাইলে তারেক রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ইসির পক্ষ থেকে উপসচিব পর্যায়ে একজনকে পাঠিয়েছিল। তিনি আমার অনশন ভাঙানোর জন্য এসেছিলেন। আমি তাকে বলেছি, আপনারা যে চিঠিটা দিয়েছেন, এটা নিজেরা পড়েছেন? তিনি বলেন, পড়েন নাই। যিনি আমাকে অনশন ভাঙাতে এসেছেন, যারা চিঠি দিয়েছেন সেটা তারা পড়েন নাই। তারপর যখন চিঠি থেকে একটা একটা করে প্রশ্ন আমরা গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরলাম, তখন তিনি একটা কথাও বলতে পারলেন না। তিনি বললেন, আমি ওপরে গিয়ে স্যারদের সঙ্গে আলোচনা করে জানাচ্ছি। তিনি গেছেন বৃহস্পতিবার, আর ফিরে আসেননি। আজ শুক্রবার বন্ধের দিন। শনিবার বন্ধের দিন। এটুকু মানবিকতা তাদের নেই।’

‘আমজনতার দল’ এর সদস্যসচিব বলেন, ‘তারা (ইসি) ভেবেছিল আমি অনশনে বসছি। এখান থেকে বেইজ্জতি হয়ে অনশন ভেঙে আবার চলে যাবো এবং নিবন্ধন পাবো না। আমি স্পষ্ট করতে চাই, আমার দলের সহযোদ্ধারা এতদিন ধরে ভোটের অধিকারের জন্য লড়াই করেছেন। তারা এখন এসে নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবে না, এটা আমি মানতেই পারছি না। তাদের কাছে আমি কী জবাব দেবো? কোনও জবাব দিতে পারি না, তাদের মুখের দিকে তাকাতে পারি না। আমরা কেন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবো না? আমরা যখন তাদের (ইসি) কাছে যাচ্ছি, তারা ঘোরাচ্ছে, টালবাহানা করছে। একটার পর একটা যুক্তি দেখাচ্ছে। তারা বলছে, তদন্ত তো আপনাকে না জানিয়েও করতে পারি। এখন এই যে একটা শর্ত ছিল, যে যথাযথ সন্দেহের কারণে পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারবে। যথাযথ সন্দেহ যে কেমন সন্দেহ সেই ব্যাখ্যা কোনোদিন দেয় না। তেমন তারা বলছে, আমি তো আপনাকে না জানিয়েও তদন্ত করতে পারি।’

তিনি সবাইকে দলের কাগজপত্র দেখিয়ে বলছেন, সব থাকার পরও কেন তাকে নিবন্ধন দেওয়া হচ্ছে না

এখন অনশন ভাঙবেন কিনা বা পরবর্তী পদক্ষেপ কী জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আপনাকে বলছি, সবাইকে বলছি…আমি উঠছি না এখান থেকে। আমার ভেতরে অনেক কষ্ট হচ্ছে। বাহিরে যেভাবে সবার সঙ্গে হাসিখুশি আছি, ভেতরটা এরকম হাসিখুশি হওয়ার কথা না। পেছনে সিসি ক্যামেরা আছে, নির্বাচন কমিশনের লোকজন দেখলে বুঝতে পারবেন যে আমি এই সময়ের মধ্যে ৭৮ ঘণ্টার মধ্যে এক ফোটা পানিও খাইনি। কোনও খাবার শুকনা বা ভেজা; খাইনি। আমি যে কীভাবে আছি সেটা নিজে জানি।’

এ সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা এসে সংহতি জ্ঞাপন করেছেন জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘গতকাল রুহুল কবির রিজভী ভাই এসেছিলেন। প্রথমত বিএনপি আমাকে অনেক কেয়ার করে। তারা ছোট ভাই, ক্ষেত্রবিশেষে সন্তান এবং ক্ষেত্রবিশেষে সহযোদ্ধা মনে করেন। তিনি এসে আমার সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে গিয়েছেন। রিজভী ভাইয়ের পরে জাসাসের ভাইয়েরা এসেছিল। তারপর যুবদলের ভাইয়েরা, স্বেচ্ছাসেবক দলের ভাইয়েরা, মোটরশ্রমিক দলের ভাইয়েরা এসেছেন। বারো দলীয় জোটের হুদা ভাইরা এসেছেন। সেলিম ভাই এসেছেন। আরও অনেক রাজনৈতিক দলের ভাইয়েরা এসেছেন। তারা আসছেন সংহতি জ্ঞাপন করছেন। সবাই সহযোগিতাই করছেন।’

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) চূড়ান্ত পর্যালোচনা শেষে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্ক্সবাদী) ও  বাংলাদেশ আম জনগণ পার্টিকে নিবন্ধন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এখন দাবি-আপত্তি চেয়ে পত্রিকায় গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে। এরপর দাবি-আপত্তি না এলে তা নিষ্পত্তি করে চূড়ান্ত নিবন্ধন দেওয়া হবে। সেদিন দল নিবন্ধনের তালিকা থেকে ছিটকে পড়ে তারেক রহমানের ‘আম জনতার দল’। এরপর বিকাল থেকেই আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের মূলক ফটকে অনশনে রয়েছেন তারেক রহমান।