বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহন হয় যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে, সেই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের ওপর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে ইরান। দেশটির অনুমতি ছাড়া এখন কোনো জাহাজই এই সরু প্রণালি ব্যবহার করতে পারছে না। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যার প্রভাবে বিশ্বজুড়ে হু হু করে বাড়ছে তেল ও গ্যাসের দাম।
এই অপ্রত্যাশিত জ্বালানি সংকটের চাপ সরাসরি গিয়ে পড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে মিলে ইরানে হামলা শুরু করার পর থেকেই পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করে। হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের একক কর্তৃত্বের কারণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বর্তমানে একপ্রকার অসহায় অবস্থায় পড়েছেন। তিনি মিত্র দেশগুলোর কাছে সাহায্য চাইলেও প্রত্যাশিত সাড়া পাচ্ছেন না।
যুদ্ধের ১৬তম দিনে এসে ট্রাম্প ইরানের ওপর আরও হামলার হুমকি দিয়েছেন এবং আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন। অন্যদিকে, ইরানও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে তারা কোনো ধরনের আলোচনায় রাজি নয়। ফলে হামলা ও পাল্টা হামলার এই সংঘাত তৃতীয় সপ্তাহে গড়িয়ে আরও জটিল রূপ নিয়েছে, যা বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি হুমকি দিয়েছেন যে হরমুজ প্রণালি তেহরানের শত্রুদের জন্য বন্ধ থাকবে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১৬টি জাহাজ এই প্রণালিতে হামলার শিকার হয়েছে, যা জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি নিরাপদ রাখতে আবারও সহযোগী দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। এর আগে যুক্তরাজ্যসহ অন্যান্য দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগ দেওয়ার অনুরোধ করলেও উল্লেখযোগ্য সাড়া মেলেনি, এবং এবারও ওয়াশিংটনের মিত্রদের মধ্যে তেমন আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না।
জাপানের স্থানীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির যুক্তরাষ্ট্র সফরে এই বিষয়ে আলোচনা হতে পারে, তবে টোকিও এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন যে তারা বর্তমানে মিত্র ও অংশীদারদের সঙ্গে এই অঞ্চলে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনা করছে। তবে কোনো দেশই সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়ার আগ্রহ দেখাচ্ছে না।
রিপোর্টারের নাম 
























