ঢাকা ০৭:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬

মৃত খাল-নালা পুনরুজ্জীবনে সরকারের মহাপরিকল্পনা: ২০৩০ সালের মধ্যে ৭ হাজার কিমি খনন

দেশের মৃত ও বিলুপ্তপ্রায় খাল-নালা পুনরুজ্জীবিত করতে পাঁচ বছর মেয়াদি এক মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। ২০৩০ সালের মধ্যে এই বৃহৎ কর্মযজ্ঞ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই মহাপরিকল্পনার আওতায় সারাদেশে মোট সাত হাজার কিলোমিটার নতুন খাল খনন, পুনঃখনন ও সংস্কার করা হবে। এর মধ্যে চলতি বছরেই দেড় হাজার কিলোমিটার মৃতপ্রায় খাল, নালা ও জলাধারা তৈরির লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী ১৬ ও ১৭ মার্চ দেশের ১২টি জেলায় মোট ১৮টি খাল খনন ও পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হবে। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সেচ বিভাগ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের নির্ভরযোগ্য সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের মানুষ সরাসরি তিন ধরনের সুবিধা পাবে। এর মধ্যে দুটি সুবিধা দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের অবদান রাখবে। প্রথমত, খাল খননের ফলে সেচ সুবিধার আওতা বাড়বে, যা কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। দ্বিতীয়ত, জলাধারা তৈরি হওয়ায় মাছের সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে, যা বাঙালির চিরায়ত ‘মাছে-ভাতে’ ঐতিহ্যের ধারা ফিরিয়ে আনবে। তৃতীয়ত, সামান্য বৃষ্টিতেই রাজধানীসহ সারাদেশে যে জলবদ্ধতা ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়, তা থেকে সাধারণ মানুষ মুক্তি পাবে।

এই বিশাল কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে কাজ করবে। এক্ষেত্রে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার বিভাগ—এই চারটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ সমন্বিতভাবে কাজ করবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, দেশে আনুমানিক ৩০ হাজারেরও বেশি খাল রয়েছে। শুধু রাজধানী ঢাকার খালের সংখ্যা নিয়েই বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে তথ্যের ভিন্নতা দেখা যায়। ঢাকা ওয়াসার হিসাবে নগরীতে খালের সংখ্যা ২৬টি, অন্যদিকে ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের হিসাবে এই সংখ্যা ৫০টি। সর্বশেষ ঢাকা ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যানে (ড্যাপ) ঢাকায় মোট খালের সংখ্যা ৪৩টি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই খালগুলোর মধ্যে ওয়াসার হিসাবে ১২টি এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী ২৪টি খাল আংশিকভাবে এখনো প্রবহমান। তবে বাকি খালগুলোর অধিকাংশই অবৈধ দখলে বিলীন হয়ে গেছে অথবা আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। সারাদেশের খালগুলোর চিত্রও প্রায় একই। অনেক ক্ষেত্রে বিএস বা আরএস খতিয়ানে খালের অস্তিত্ব থাকলেও বাস্তবে বহু স্থানে খাল ভরাট করে ভবন, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আজ পবিত্র লাইলাতুল কদর, হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ রজনী

মৃত খাল-নালা পুনরুজ্জীবনে সরকারের মহাপরিকল্পনা: ২০৩০ সালের মধ্যে ৭ হাজার কিমি খনন

আপডেট সময় : ০৪:৪৯:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬

দেশের মৃত ও বিলুপ্তপ্রায় খাল-নালা পুনরুজ্জীবিত করতে পাঁচ বছর মেয়াদি এক মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। ২০৩০ সালের মধ্যে এই বৃহৎ কর্মযজ্ঞ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই মহাপরিকল্পনার আওতায় সারাদেশে মোট সাত হাজার কিলোমিটার নতুন খাল খনন, পুনঃখনন ও সংস্কার করা হবে। এর মধ্যে চলতি বছরেই দেড় হাজার কিলোমিটার মৃতপ্রায় খাল, নালা ও জলাধারা তৈরির লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী ১৬ ও ১৭ মার্চ দেশের ১২টি জেলায় মোট ১৮টি খাল খনন ও পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হবে। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সেচ বিভাগ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের নির্ভরযোগ্য সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের মানুষ সরাসরি তিন ধরনের সুবিধা পাবে। এর মধ্যে দুটি সুবিধা দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের অবদান রাখবে। প্রথমত, খাল খননের ফলে সেচ সুবিধার আওতা বাড়বে, যা কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। দ্বিতীয়ত, জলাধারা তৈরি হওয়ায় মাছের সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে, যা বাঙালির চিরায়ত ‘মাছে-ভাতে’ ঐতিহ্যের ধারা ফিরিয়ে আনবে। তৃতীয়ত, সামান্য বৃষ্টিতেই রাজধানীসহ সারাদেশে যে জলবদ্ধতা ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়, তা থেকে সাধারণ মানুষ মুক্তি পাবে।

এই বিশাল কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে কাজ করবে। এক্ষেত্রে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার বিভাগ—এই চারটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ সমন্বিতভাবে কাজ করবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, দেশে আনুমানিক ৩০ হাজারেরও বেশি খাল রয়েছে। শুধু রাজধানী ঢাকার খালের সংখ্যা নিয়েই বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে তথ্যের ভিন্নতা দেখা যায়। ঢাকা ওয়াসার হিসাবে নগরীতে খালের সংখ্যা ২৬টি, অন্যদিকে ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের হিসাবে এই সংখ্যা ৫০টি। সর্বশেষ ঢাকা ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যানে (ড্যাপ) ঢাকায় মোট খালের সংখ্যা ৪৩টি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই খালগুলোর মধ্যে ওয়াসার হিসাবে ১২টি এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী ২৪টি খাল আংশিকভাবে এখনো প্রবহমান। তবে বাকি খালগুলোর অধিকাংশই অবৈধ দখলে বিলীন হয়ে গেছে অথবা আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। সারাদেশের খালগুলোর চিত্রও প্রায় একই। অনেক ক্ষেত্রে বিএস বা আরএস খতিয়ানে খালের অস্তিত্ব থাকলেও বাস্তবে বহু স্থানে খাল ভরাট করে ভবন, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে।