ঢাকা ০৯:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা সত্ত্বেও প্রবাসী আয়ে রেকর্ড বৃদ্ধি: জুলাই থেকে মার্চে এলো ২৪৬৫ কোটি ডলার

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং যুদ্ধের আশঙ্কার মধ্যেও বাংলাদেশে প্রবাসী আয়ে (রেমিট্যান্স) উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। চলতি মার্চ মাসের প্রথম ১৪ দিনে প্রবাসীরা দেশে ২২০ কোটি ৫০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৩৬ শতাংশ বেশি। গত বছর এই সময়ে এসেছিল ১৬২ কোটি ৫০ লাখ ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের (জুলাই থেকে ১৪ মার্চ পর্যন্ত) মোট প্রবাসী আয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৪৬৫ কোটি ডলার। এটি গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২২ দশমিক ৬০ শতাংশ বেশি, যেখানে গত বছর একই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ২ হাজার ১১ কোটি ডলার।

খাতসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংকট সত্ত্বেও প্রবাসীরা পবিত্র ঈদুল ফিতর এবং জাকাতের খরচ মেটাতে পরিবারের কাছে অর্থ পাঠাচ্ছেন। এটি রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। এছাড়াও, হুন্ডি ও অর্থ পাচার রোধে বাংলাদেশ ব্যাংকের কঠোর অবস্থান এবং ঋণের নামে অর্থ আত্মসাৎ বন্ধে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে বৈধ পথে রেমিট্যান্স আসার প্রবণতা বেড়েছে।

প্রবাসী আয়ের এই ইতিবাচক ধারা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও প্রভাব ফেলেছে। গত ১১ মার্চ দেশের রিজার্ভ বেড়ে ৩ হাজার ৪৩৫ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এর বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুযায়ী, এই রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৯৬৪ কোটি ডলার।

এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের প্রভাবে ডলারের মূল্য বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ব্যাংকগুলো প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ৩০ পয়সা দরে প্রবাসী আয় কিনেছে, যা আগের দিনের চেয়ে বেশি। আমদানি ব্যয় মেটাতে ব্যাংকগুলো ডলার বিক্রি করছে ১২৩ টাকা ৫০ পয়সারও বেশি দরে, যা এক সপ্তাহ আগেও ১২২ টাকা ৫০ পয়সা ছিল।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তিতে নতুন আবেদন: সংসদে শিক্ষামন্ত্রী

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা সত্ত্বেও প্রবাসী আয়ে রেকর্ড বৃদ্ধি: জুলাই থেকে মার্চে এলো ২৪৬৫ কোটি ডলার

আপডেট সময় : ০৬:৪৮:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং যুদ্ধের আশঙ্কার মধ্যেও বাংলাদেশে প্রবাসী আয়ে (রেমিট্যান্স) উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। চলতি মার্চ মাসের প্রথম ১৪ দিনে প্রবাসীরা দেশে ২২০ কোটি ৫০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৩৬ শতাংশ বেশি। গত বছর এই সময়ে এসেছিল ১৬২ কোটি ৫০ লাখ ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের (জুলাই থেকে ১৪ মার্চ পর্যন্ত) মোট প্রবাসী আয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৪৬৫ কোটি ডলার। এটি গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২২ দশমিক ৬০ শতাংশ বেশি, যেখানে গত বছর একই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ২ হাজার ১১ কোটি ডলার।

খাতসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংকট সত্ত্বেও প্রবাসীরা পবিত্র ঈদুল ফিতর এবং জাকাতের খরচ মেটাতে পরিবারের কাছে অর্থ পাঠাচ্ছেন। এটি রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। এছাড়াও, হুন্ডি ও অর্থ পাচার রোধে বাংলাদেশ ব্যাংকের কঠোর অবস্থান এবং ঋণের নামে অর্থ আত্মসাৎ বন্ধে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে বৈধ পথে রেমিট্যান্স আসার প্রবণতা বেড়েছে।

প্রবাসী আয়ের এই ইতিবাচক ধারা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও প্রভাব ফেলেছে। গত ১১ মার্চ দেশের রিজার্ভ বেড়ে ৩ হাজার ৪৩৫ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এর বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুযায়ী, এই রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৯৬৪ কোটি ডলার।

এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের প্রভাবে ডলারের মূল্য বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ব্যাংকগুলো প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ৩০ পয়সা দরে প্রবাসী আয় কিনেছে, যা আগের দিনের চেয়ে বেশি। আমদানি ব্যয় মেটাতে ব্যাংকগুলো ডলার বিক্রি করছে ১২৩ টাকা ৫০ পয়সারও বেশি দরে, যা এক সপ্তাহ আগেও ১২২ টাকা ৫০ পয়সা ছিল।