ঢাকা ০৯:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

প্রাথমিক শিক্ষক বদলি: ক্ষমতা এখন স্থানীয় প্রশাসনের হাতে, দুর্নীতি রোধে নতুন নীতিমালা

প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলি প্রক্রিয়াকে বিকেন্দ্রীকরণ করে স্থানীয় প্রশাসনের হাতে ন্যস্ত করার ঘোষণা দিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে এখন থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বদলি সংক্রান্ত সব কার্যক্রম স্থানীয় প্রশাসনই সম্পন্ন করবে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ রোববার রাজধানীর বনানীতে ইউনিসেফ আয়োজিত ‘বাংলাদেশের শিক্ষা খাত বিশ্লেষণ’ শীর্ষক এক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই তথ্য জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে শিক্ষক বদলি একটি বড় ধরনের সিন্ডিকেট ও দুর্নীতির ক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত ছিল, যা শিক্ষার গুণগতমান উন্নয়নের পথে অন্যতম প্রধান প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এই নতুন বিকেন্দ্রীভূত ব্যবস্থা শিক্ষক বদলি প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও দুর্নীতিমুক্ত করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

নতুন নীতিমালার আওতায় উপজেলা, জেলা, বিভাগীয় ও সিটি কর্পোরেশন পর্যায়ে পৃথক কমিটি গঠন করা হচ্ছে। এই কমিটিগুলো নির্দিষ্ট সময় অন্তর বদলির আবেদনসমূহ পর্যালোচনা করবে। প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ আরও জানান, উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি কমিটি থাকবে, যারা আবেদন যাচাই-বাছাই করে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে বদলির আদেশ জারি করবে।

একইভাবে, জেলা, বিভাগীয় ও সিটি কর্পোরেশন পর্যায়ে পাঁচ থেকে ছয় সদস্যের কমিটি গঠিত হবে, যারা সংশ্লিষ্ট বদলি আবেদনগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বদলির আদেশ প্রদান করবে। এই কমিটিগুলোর সভাপতিত্ব করবেন যথাক্রমে অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর), বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসক।

একই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন দেশের মাধ্যমিক, উচ্চশিক্ষা, মাদ্রাসা এবং কারিগরি শিক্ষা খাতের বিস্তারিত কার্যক্রম তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার শিক্ষা খাতে অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ করেছে, যা মোট জাতীয় বাজেটের ২ শতাংশ। তবে, তিনি স্বীকার করেন যে ‘লার্নিং আউটকাম’ বা শিক্ষার ফলাফল এখনও পুরোপুরি সন্তোষজনক নয়। মন্ত্রী জানান, সরকার চিহ্নিত সমস্যাগুলো সমাধানে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দের সঙ্গে শিক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক শিক্ষাকে পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার কথাও জানান তিনি। এছাড়া, প্রাথমিক স্তরে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার কমাতে স্কুল ইউনিফর্ম এবং মিড-ডে মিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন শিক্ষামন্ত্রী।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চুয়াডাঙ্গায় ৫০ অসহায় পরিবারে নিরাপদ পানির জন্য টিউবওয়েল বিতরণ

প্রাথমিক শিক্ষক বদলি: ক্ষমতা এখন স্থানীয় প্রশাসনের হাতে, দুর্নীতি রোধে নতুন নীতিমালা

আপডেট সময় : ০৭:৫১:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলি প্রক্রিয়াকে বিকেন্দ্রীকরণ করে স্থানীয় প্রশাসনের হাতে ন্যস্ত করার ঘোষণা দিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে এখন থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বদলি সংক্রান্ত সব কার্যক্রম স্থানীয় প্রশাসনই সম্পন্ন করবে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ রোববার রাজধানীর বনানীতে ইউনিসেফ আয়োজিত ‘বাংলাদেশের শিক্ষা খাত বিশ্লেষণ’ শীর্ষক এক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই তথ্য জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে শিক্ষক বদলি একটি বড় ধরনের সিন্ডিকেট ও দুর্নীতির ক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত ছিল, যা শিক্ষার গুণগতমান উন্নয়নের পথে অন্যতম প্রধান প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এই নতুন বিকেন্দ্রীভূত ব্যবস্থা শিক্ষক বদলি প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও দুর্নীতিমুক্ত করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

নতুন নীতিমালার আওতায় উপজেলা, জেলা, বিভাগীয় ও সিটি কর্পোরেশন পর্যায়ে পৃথক কমিটি গঠন করা হচ্ছে। এই কমিটিগুলো নির্দিষ্ট সময় অন্তর বদলির আবেদনসমূহ পর্যালোচনা করবে। প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ আরও জানান, উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি কমিটি থাকবে, যারা আবেদন যাচাই-বাছাই করে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে বদলির আদেশ জারি করবে।

একইভাবে, জেলা, বিভাগীয় ও সিটি কর্পোরেশন পর্যায়ে পাঁচ থেকে ছয় সদস্যের কমিটি গঠিত হবে, যারা সংশ্লিষ্ট বদলি আবেদনগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বদলির আদেশ প্রদান করবে। এই কমিটিগুলোর সভাপতিত্ব করবেন যথাক্রমে অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর), বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসক।

একই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন দেশের মাধ্যমিক, উচ্চশিক্ষা, মাদ্রাসা এবং কারিগরি শিক্ষা খাতের বিস্তারিত কার্যক্রম তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার শিক্ষা খাতে অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ করেছে, যা মোট জাতীয় বাজেটের ২ শতাংশ। তবে, তিনি স্বীকার করেন যে ‘লার্নিং আউটকাম’ বা শিক্ষার ফলাফল এখনও পুরোপুরি সন্তোষজনক নয়। মন্ত্রী জানান, সরকার চিহ্নিত সমস্যাগুলো সমাধানে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দের সঙ্গে শিক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক শিক্ষাকে পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার কথাও জানান তিনি। এছাড়া, প্রাথমিক স্তরে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার কমাতে স্কুল ইউনিফর্ম এবং মিড-ডে মিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন শিক্ষামন্ত্রী।