আসন্ন ঈদযাত্রায় গাজীপুরের প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ লাখ তৈরি পোশাক ও অন্যান্য খাতের শ্রমিকেরা এক ভয়াবহ পরিবহন সংকটের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন। এই বিপুল সংখ্যক শ্রমিক প্রতি বছর ঈদ উপলক্ষে গাজীপুর থেকে দেশের উত্তরাঞ্চলের ১৬টি জেলায় নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে যাতায়াত করে থাকেন। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির ঈদযাত্রা পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
রোববার প্রকাশিত পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে যাত্রী কল্যাণ সমিতি জানিয়েছে, ঢাকা থেকে গাজীপুর হয়ে উত্তরাঞ্চলগামী সকল বাসের টিকিট রাজধানী ঢাকাতেই বিক্রি শেষ হয়ে যাওয়ায় গাজীপুরের চন্দ্রায় অবস্থিত এসব বাসের কাউন্টারগুলোতে বিক্রির জন্য কোনো টিকিট বরাদ্দ ছিল না। এই বিষয়টি নজরে আসার পর পুলিশ সম্প্রতি গাজীপুরের চন্দ্রায় অবস্থিত উত্তরাঞ্চলগামী সকল বাস কাউন্টার তুলে দিয়েছে।
এছাড়াও, বিপুল সংখ্যক শ্রমিক অধ্যুষিত গাজীপুর থেকে দেশের উত্তরাঞ্চলের জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট বাস সার্ভিস এখনো গড়ে ওঠেনি। ফলে আশুলিয়া ইপিজেড, চন্দ্রা, বাইপাইলসহ গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত তৈরি পোশাক কারখানাসহ অন্যান্য কলকারখানার প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ লাখ শ্রমিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের এবারের ঈদে বাড়ি যাওয়ার জন্য কার্যত কোনো যানবাহনের ব্যবস্থা নেই।
এই পরিস্থিতিতে অনেক শ্রমিক এলাকাভিত্তিক লোকজনকে সংগঠিত করে ২০-৩০ জন মিলে ট্রাক-পিকআপ অথবা ঢাকা মহানগরীতে চলাচলকারী লক্কড়-ঝক্কড় সিটি সার্ভিসের বাস-মিনিবাস রিজার্ভ হিসেবে ভাড়া করছেন।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণে আরও উঠে এসেছে যে, সরকার প্রতি বছর ঈদে লক্কড়-ঝক্কড় বাস ও খোলা ট্রাক-পিকআপে যাত্রী বহন নিষিদ্ধ করলেও তৈরি পোশাক ও অপ্রতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকসহ নিম্ন আয়ের লোকজনের জন্য কম ভাড়ায় যাতায়াতের বিকল্প পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হচ্ছে। এর ফলস্বরূপ গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় নিম্ন আয়ের মানুষজন এমন ভয়াবহ যাত্রী দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
সংগঠনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, গণপরিবহনের সংকট, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়সহ নানান ভোগান্তি এড়াতে এবারের ঈদে ঢাকা থেকে প্রায় ৮ লাখ, গাজীপুর থেকে ৩ লাখ, নারায়ণগঞ্জ থেকে ২ লাখসহ সারা দেশে ২২ লাখের বেশি পরিবার জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মোটরসাইকেলে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে গ্রামের বাড়ি যাবে। ফলে এবারের ঈদেও সড়ক দুর্ঘটনার হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিতে যাত্রী কল্যাণ সমিতি সরকারের কাছে জরুরি ভিত্তিতে গাজীপুরের শ্রমিকদের জন্য অন্তত ৫০০ বিআরটিসি এবং ৫০০ অন্যান্য বেসরকারি কোম্পানির বাস বরাদ্দের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 






















