ঢাকা ০৯:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

নোমানী হত্যায় বিচার দাবি: ছাত্রশিবির ছাত্রলীগ ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের শাস্তির আওতায় আনার আহ্বান

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ছাত্রনেতা শহীদ শরীফুজ্জামান নোমানী হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং এই ঘটনার সাথে জড়িত ছাত্রলীগ নেতাকর্মী ও তৎকালীন প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।

শুক্রবার এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবির, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল এবং সেক্রেটারি হাফেজ মেহেদী হাসান বলেন, ২০০৯ সালের এই দিনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একটি কলঙ্কজনক অধ্যায় রচিত হয়েছিল। তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের ক্যাডার বাহিনী এবং প্রশাসনের কিছু দলদাস শিক্ষক ও কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে মেধাবী ছাত্রনেতা শরীফুজ্জামান নোমানীকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। এই হত্যাকাণ্ড ছিল ক্যাম্পাসে ভিন্নমত ও আদর্শিক নেতৃত্বকে দমন করার একটি সুপরিকল্পিত রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পার হলেও এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা হয়নি। তৎকালীন প্রশাসন খুনিদের রক্ষা করতে এবং মামলার তদন্ত ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে যে ভূমিকা পালন করেছিল, তা স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে বিচারহীনতার এক নিকৃষ্টতম উদাহরণ। এই রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তি এবং ক্ষমতার অপব্যবহার শিক্ষার পরিবেশকে বিষাক্ত করে তুলেছে। তারা মনে করেন, শহীদ নোমানী হত্যার বিচারহীনতার এই সংস্কৃতিই ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতির নামে নৈরাজ্য, টেন্ডারবাজি ও সহিংসতার পথ প্রশস্ত করেছে।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে, তারা স্পষ্টভাবে বলতে চান যে, কোনো সুনির্দিষ্ট হত্যাকাণ্ডের বিচার ব্যতিরেকে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। শহীদ নোমানী হত্যার নেপথ্যে থাকা পরিকল্পনাকারী এবং সরাসরি অংশগ্রহণকারী ছাত্রলীগ ক্যাডারদের পাশাপাশি তৎকালীন প্রশাসনের যারা তথ্যপ্রমাণ লোপাট ও খুনিদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছিল, তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তারা বিশ্বাস করেন, শহীদের রক্ত কখনো বৃথা যায় না এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার এই লড়াই অব্যাহত থাকবে, যেখানে খুনিরা জনতার আদালতে ও আইনের কাঠগড়ায় বিচার পাবেই।

পরিশেষে, নেতৃবৃন্দ বলেন, ক্যাম্পাসে ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র ও নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে শহীদ নোমানীর আদর্শ আমাদের অনুপ্রাণিত করবে। তারা রাজপথের সকল গণতান্ত্রিক ও ইসলামী শক্তিকে এই আন্দোলনে শামিল হওয়ার আহ্বান জানান।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লেবাননে হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলায় ১১ ইসরাইলি সেনা আহত, আশঙ্কাজনক ৩

নোমানী হত্যায় বিচার দাবি: ছাত্রশিবির ছাত্রলীগ ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের শাস্তির আওতায় আনার আহ্বান

আপডেট সময় : ০৮:১৭:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ছাত্রনেতা শহীদ শরীফুজ্জামান নোমানী হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং এই ঘটনার সাথে জড়িত ছাত্রলীগ নেতাকর্মী ও তৎকালীন প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।

শুক্রবার এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবির, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল এবং সেক্রেটারি হাফেজ মেহেদী হাসান বলেন, ২০০৯ সালের এই দিনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একটি কলঙ্কজনক অধ্যায় রচিত হয়েছিল। তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের ক্যাডার বাহিনী এবং প্রশাসনের কিছু দলদাস শিক্ষক ও কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে মেধাবী ছাত্রনেতা শরীফুজ্জামান নোমানীকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। এই হত্যাকাণ্ড ছিল ক্যাম্পাসে ভিন্নমত ও আদর্শিক নেতৃত্বকে দমন করার একটি সুপরিকল্পিত রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পার হলেও এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা হয়নি। তৎকালীন প্রশাসন খুনিদের রক্ষা করতে এবং মামলার তদন্ত ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে যে ভূমিকা পালন করেছিল, তা স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে বিচারহীনতার এক নিকৃষ্টতম উদাহরণ। এই রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তি এবং ক্ষমতার অপব্যবহার শিক্ষার পরিবেশকে বিষাক্ত করে তুলেছে। তারা মনে করেন, শহীদ নোমানী হত্যার বিচারহীনতার এই সংস্কৃতিই ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতির নামে নৈরাজ্য, টেন্ডারবাজি ও সহিংসতার পথ প্রশস্ত করেছে।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে, তারা স্পষ্টভাবে বলতে চান যে, কোনো সুনির্দিষ্ট হত্যাকাণ্ডের বিচার ব্যতিরেকে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। শহীদ নোমানী হত্যার নেপথ্যে থাকা পরিকল্পনাকারী এবং সরাসরি অংশগ্রহণকারী ছাত্রলীগ ক্যাডারদের পাশাপাশি তৎকালীন প্রশাসনের যারা তথ্যপ্রমাণ লোপাট ও খুনিদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছিল, তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তারা বিশ্বাস করেন, শহীদের রক্ত কখনো বৃথা যায় না এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার এই লড়াই অব্যাহত থাকবে, যেখানে খুনিরা জনতার আদালতে ও আইনের কাঠগড়ায় বিচার পাবেই।

পরিশেষে, নেতৃবৃন্দ বলেন, ক্যাম্পাসে ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র ও নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে শহীদ নোমানীর আদর্শ আমাদের অনুপ্রাণিত করবে। তারা রাজপথের সকল গণতান্ত্রিক ও ইসলামী শক্তিকে এই আন্দোলনে শামিল হওয়ার আহ্বান জানান।