আসন্ন ঈদে রাজধানী ঢাকার সদরঘাট থেকে দূরপাল্লার লঞ্চ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশ্ববাজারে তেলের তীব্র সংকটের কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব এখন বাংলাদেশেও স্পষ্ট। ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের ফলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ চেইন বিঘ্নিত হওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন সদরঘাটের লঞ্চ ও কার্গো জাহাজের জন্য প্রায় আড়াই থেকে তিন লাখ লিটার তেলের প্রয়োজন হয়। কিন্তু বর্তমানে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৫০ থেকে ৬০ হাজার লিটার। এই ভয়াবহ ঘাটতির কারণে লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল সংস্থার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আলহাজ বদিউজ্জামান বাদল। তিনি এ বিষয়ে নৌপরিবহন, রেলপথ এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর কাছে লিখিত আবেদনও করেছেন।
এদিকে, লঞ্চে তেল সরবরাহকারীদের সংগঠন বাংলাদেশ রিভার ফুয়েল ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জিএম সারোয়ার হোসেন জানান, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের মেঘনা পেট্রোলিয়াম ও যমুনা পেট্রোলিয়ামের ফতুল্লা ডিপো থেকে চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ করা হচ্ছে না। সারাদিন অপেক্ষার পরও তারা চাহিদার তুলনায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ কম তেল পাচ্ছেন। এর ফলে সদরঘাট থেকে দক্ষিণাঞ্চলের লঞ্চ চলাচল কমে গেছে বলে তিনি দাবি করেন।
গত মঙ্গলবার সদরঘাট ও তেলঘাট এলাকা ঘুরে এই পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়। সেদিন দুপুরে বাংলাদেশ রিভার ফুয়েল ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জিএম সারোয়ার হোসেন সংগঠনের সদস্যদের নিয়ে একটি জরুরি সভা করেন। সভায় জানানো হয়, যমুনা পেট্রোলিয়ামের ফতুল্লা ডিপো থেকে ওটি প্রিন্স ও ওটি ছোঁয়া নামের দুটি প্রতিষ্ঠান লঞ্চে তেল সরবরাহ করে থাকে। অন্যদিকে, মেঘনা পেট্রোলিয়ামের ফতুল্লা ডিপো থেকে ওটি বাংলাদেশ ফ্লোটিং পাম্প ও জহুরা করপোরেশনসহ মোট চারটি প্রতিষ্ঠান লঞ্চে তেল সরবরাহ করে থাকে, যারা সবাই বর্তমানে পর্যাপ্ত তেলের অভাবে ভুগছে।
রিপোর্টারের নাম 





















