ঢাকা ০১:০৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬

রবীন্দ্রনাথের চিত্রকর্ম: তুলির আঁচড়ে এক অনন্য সৃজনশীল জগৎ

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কেবল সাহিত্যের বরপুত্রই ছিলেন না, চিত্রশিল্পী হিসেবেও তিনি ছিলেন অসামান্য প্রতিভার অধিকারী। জীবনের অপরাহ্ণে অর্থাৎ ৬৩ বছর বয়সে তিনি নিয়মিত ছবি আঁকা শুরু করেন। জীবনের শেষ ১৭ বছরে তিনি প্রায় আড়াই হাজারেরও বেশি চিত্রকর্ম উপহার দিয়ে গেছেন। ১৯২৮ সাল থেকে তিনি স্বাধীনভাবে ছবি আঁকা শুরু করেন এবং একজন স্বশিক্ষিত শিল্পী হিসেবে আধুনিক ও প্রকাশবাদী ধারার চিত্রকলায় নতুন মাত্রা যোগ করেন।

রবীন্দ্রনাথের চিত্রে বিশেষ করে প্রতিকৃতি বা পোর্ট্রেটগুলো অত্যন্ত রহস্যময় ও বৈচিত্র্যপূর্ণ। বিষণ্নতা, রোমাঞ্চ আর এক ধরনের গূঢ় অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে তাঁর এই শিল্পকর্মে। তাঁর চিত্রকলায় ছন্দ ও গতির এক অনন্য মেলবন্ধন লক্ষ করা যায়, যা সমসাময়িক শিল্পজগতে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। জাপানি শিল্পকলা এবং ইউরোপীয় এক্সপ্রেশনিজম বা অভিব্যক্তিবাদের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ ছিল, যা তাঁর আঁকা ছবির রেখা ও রঙের ব্যবহারে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।

শিল্পীর আঁকা নারী প্রতিকৃতিগুলো গতানুগতিক ধারার চেয়ে আলাদা। তিনি নারীকে কোনো নির্দিষ্ট দেবীর ছাঁচে না ফেলে বরং তাদের অন্তর্নিহিত শক্তি, একাকীত্ব ও বেদনার্ত রূপকে ফুটিয়ে তুলেছেন। তাঁর চিত্রকর্মে সুরিয়ালিজম বা পরাবাস্তববাদের ছোঁয়াও পাওয়া যায়। প্রকৃতির দৃশ্য আঁকার ক্ষেত্রে তিনি এক স্বপ্নময় জগতের অবতারণা করেছেন, যেখানে রেখার সহজতর প্রয়োগ থাকলেও তা দর্শককে এক জটিল ও মনস্তাত্ত্বিক ভাবনার জগতে নিয়ে যায়। ভারতীয় চিরাচরিত চিত্রকলার গণ্ডি ভেঙে রবীন্দ্রনাথের এই শিল্পচেতনা আজও সৃজনশীলতার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

তৃণমূলের বিদায়ে ১৫ বছরের ‘জটা’ বিসর্জন দিলেন বিজেপি সমর্থক বানেশ্বর

রবীন্দ্রনাথের চিত্রকর্ম: তুলির আঁচড়ে এক অনন্য সৃজনশীল জগৎ

আপডেট সময় : ১২:০৪:৩৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কেবল সাহিত্যের বরপুত্রই ছিলেন না, চিত্রশিল্পী হিসেবেও তিনি ছিলেন অসামান্য প্রতিভার অধিকারী। জীবনের অপরাহ্ণে অর্থাৎ ৬৩ বছর বয়সে তিনি নিয়মিত ছবি আঁকা শুরু করেন। জীবনের শেষ ১৭ বছরে তিনি প্রায় আড়াই হাজারেরও বেশি চিত্রকর্ম উপহার দিয়ে গেছেন। ১৯২৮ সাল থেকে তিনি স্বাধীনভাবে ছবি আঁকা শুরু করেন এবং একজন স্বশিক্ষিত শিল্পী হিসেবে আধুনিক ও প্রকাশবাদী ধারার চিত্রকলায় নতুন মাত্রা যোগ করেন।

রবীন্দ্রনাথের চিত্রে বিশেষ করে প্রতিকৃতি বা পোর্ট্রেটগুলো অত্যন্ত রহস্যময় ও বৈচিত্র্যপূর্ণ। বিষণ্নতা, রোমাঞ্চ আর এক ধরনের গূঢ় অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে তাঁর এই শিল্পকর্মে। তাঁর চিত্রকলায় ছন্দ ও গতির এক অনন্য মেলবন্ধন লক্ষ করা যায়, যা সমসাময়িক শিল্পজগতে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। জাপানি শিল্পকলা এবং ইউরোপীয় এক্সপ্রেশনিজম বা অভিব্যক্তিবাদের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ ছিল, যা তাঁর আঁকা ছবির রেখা ও রঙের ব্যবহারে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।

শিল্পীর আঁকা নারী প্রতিকৃতিগুলো গতানুগতিক ধারার চেয়ে আলাদা। তিনি নারীকে কোনো নির্দিষ্ট দেবীর ছাঁচে না ফেলে বরং তাদের অন্তর্নিহিত শক্তি, একাকীত্ব ও বেদনার্ত রূপকে ফুটিয়ে তুলেছেন। তাঁর চিত্রকর্মে সুরিয়ালিজম বা পরাবাস্তববাদের ছোঁয়াও পাওয়া যায়। প্রকৃতির দৃশ্য আঁকার ক্ষেত্রে তিনি এক স্বপ্নময় জগতের অবতারণা করেছেন, যেখানে রেখার সহজতর প্রয়োগ থাকলেও তা দর্শককে এক জটিল ও মনস্তাত্ত্বিক ভাবনার জগতে নিয়ে যায়। ভারতীয় চিরাচরিত চিত্রকলার গণ্ডি ভেঙে রবীন্দ্রনাথের এই শিল্পচেতনা আজও সৃজনশীলতার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।