নরসিংদীর শিবপুর উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুন অর রশিদ খান হত্যা মামলার প্রধান আসামিদের একজন আরিফ সরকারকে (৪০) ইন্টারপোলের সহায়তায় দুবাই থেকে দেশে ফিরিয়ে এনে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ঘটনার তিন বছর পর এই আসামিকে দেশে আনা সম্ভব হলো।
পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, আরিফ সরকারকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করে শিবপুর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এর আগে, গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে শিবপুর উপজেলা চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ খানকে নিজ বাসায় গুলি করা হয়েছিল। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরবর্তীতে ভারতের দিল্লির একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অস্ত্রোপচারের পর তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হলেও শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বছরের ৩১ মে তিনি মারা যান।
গুলি করার ঘটনার দুই দিন পর নিহতের ছেলে আমিনুর রশীদ খান তাপস শিবপুর থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা করেন। এজাহারনামীয় প্রধান আসামিসহ চারজন দুবাইয়ে অবস্থান করছিলেন। গত বছরের ২৩ জুন মামলাটির তদন্তভার পায় পিবিআই।
পিবিআই আরও জানায়, এই মামলার আরেক আসামি মহসিন মিয়াকে গত বছরের জুলাই মাসে ইন্টারপোলের সহায়তায় দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। গ্রেপ্তার মহসিন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে আরিফ সরকারসহ অন্য আসামিদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয়। তদন্তে আরিফের জড়িত থাকার সুস্পষ্ট তথ্য পাওয়ার পর পিবিআই তার অবস্থান জানতে ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোতে (এনসিবি) আবেদন করে।
আরিফের অবস্থান দুবাইতে নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে ফেরাতে পিবিআইয়ের আবেদনের ভিত্তিতে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এরপর তাকে গ্রেপ্তারের জন্য ইন্টারপোলের রেড নোটিশের মাধ্যমে আবেদন করা হয়। গত বছরের নভেম্বরে আরিফসহ অন্যান্য আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পিবিআই।
ইন্টারপোলের সহায়তায় দুবাই পুলিশ আরিফ সরকারকে গ্রেপ্তার করে বাংলাদেশ পুলিশকে অবহিত করে। এর প্রেক্ষিতে পিবিআই এবং পুলিশ সদর দপ্তরের সমন্বয়ে গঠিত একটি দল দুবাই গিয়ে আরিফকে দেশে ফিরিয়ে আনে।
রিপোর্টারের নাম 






















