রাজনীতি মানুষের ব্যক্তিগত জীবনে কতটা গভীর প্রভাব ফেলতে পারে, তার এক অনন্য ও বিস্ময়কর দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহারের বাসিন্দা বানেশ্বর বর্মণ। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে নিজের চুলে কাঁচি না ছোঁয়ানোর যে কঠোর সংকল্প তিনি করেছিলেন, অবশেষে তা পূরণ করলেন। নিজ বাসভবনের সামনে প্রতিবেশীদের উপস্থিতিতে মাথা ন্যাড়া করে দীর্ঘদিনের সেই প্রতীক্ষার অবসান ঘটান তিনি।
পেশায় পরিযায়ী শ্রমিক এবং একনিষ্ঠ বিজেপি সমর্থক বানেশ্বর বর্মণ ২০১১ সালে এক অদ্ভুত শপথ নিয়েছিলেন। তার অঙ্গীকার ছিল, পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় থাকা পর্যন্ত তিনি চুল কাটবেন না। দীর্ঘ দেড় দশক ধরে সেই জটাধারী রূপ নিয়েই তিনি বিভিন্ন ইটভাটায় কাজ করে গেছেন। সবসময় চুলে খোঁপা বেঁধে রাখতেন যাতে কাজে কোনো অসুবিধা না হয়।
সম্প্রতি নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর যখন তিনি দেখলেন রাজনৈতিক সমীকরণে পরিবর্তন আসছে, তখন তিনি খুশিতে আত্মহারা হয়ে যান। বানেশ্বর জানান, গত ১৫ বছরে তার এলাকায় কোনো দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়নি। এক ছেলে ও দুই মেয়েকে নিয়ে অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করতে হয়েছে তাকে। এই ক্ষোভ থেকেই তিনি ক্ষমতার পরিবর্তনের আশায় এমন প্রতীকী প্রতিবাদ বেছে নিয়েছিলেন।
বানেশ্বরের এই ভিন্নধর্মী উদযাপন দেখতে তার বাড়িতে গ্রামবাসীর ভিড় জমেছিল। মাথা ন্যাড়া করার পর তিনি উপস্থিত সবার মাঝে মুড়ি বিতরণ করে আনন্দ ভাগ করে নেন। এখন থেকে তিনি নিয়মিত চুল কাটবেন এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাবেন বলে জানিয়েছেন।
রিপোর্টারের নাম 






















