দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র কক্সবাজার জেলা। ক্রমবর্ধমান পর্যটকদের চাপ, দ্রুত বর্ধনশীল জনসংখ্যা এবং দুর্গম দ্বীপ ও উপকূলীয় অঞ্চলে চিকিৎসা সেবার তীব্র সংকট – এই সকল বিষয়কে কেন্দ্র করে দক্ষিণ চট্টগ্রামে একটি পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হচ্ছিল। এর সাথে যুক্ত হয়েছিল মিয়ানমার থেকে আসা বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা সেবার বিষয়টিও। জেলা সদরের ২৫০ শয্যার হাসপাতালটি চাহিদামতো সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছিল। ফলে, সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের দাবি জোরালো হতে থাকে।
বিগত শতাব্দীর নব্বইয়ের দশক থেকেই কক্সবাজারের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন, চিকিৎসক সমাজ এবং রাজনৈতিক নেতারা এই দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তাদের মূল দাবি ছিল দক্ষিণ চট্টগ্রামের একমাত্র সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা। জনসাধারণের এই চাহিদা বিবেচনায় ২০০৮ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে ‘কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ’।
২০০৯ সালে মাত্র ৪২ জন শিক্ষার্থী নিয়ে প্রথম ব্যাচের শ্রেণি কার্যক্রম শুরু হয়। ডা. বিএম আলী ইউসুফ কলেজের প্রথম অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। শুরুতে কলেজের ক্লাস ও ক্লিনিক্যাল কার্যক্রম কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের একটি অংশে অস্থায়ীভাবে চললেও, ২০১৭ সালে কক্সবাজার শহরের ঝিলংজা এলাকায় নিজস্ব ক্যাম্পাসে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়। ৩৪ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এই ক্যাম্পাসে একটি ছয়তলা একাডেমিক ভবন এবং তিনতলাবিশিষ্ট দুটি ছাত্র ও ছাত্রী হোস্টেল নির্মাণ করা হয়েছে। বর্তমানে প্রতি শিক্ষাবর্ষে ৫০ জন করে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয় এবং ১৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা এখানে ডাক্তারি বিদ্যা অর্জন করছেন।
বর্তমানে ভর্তি সুযোগ ৫০ থেকে বাড়িয়ে ১০০ জনে উন্নীত করার প্রক্রিয়া চলছে, যা এই অঞ্চলের চিকিৎসা শিক্ষায় আরও নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 

























