রাজধানীর একটি হাসপাতালে বারান্দা থেকে পড়ে অভিনেত্রী আসমা আক্তার ঝিলিকের মৃত্যুর ঘটনায় তার স্বামী সাফি উল্লাহ ওরফে মহব্বতকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। রোববার (১৪ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত এই আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবুল বাশার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ধানমন্ডি মডেল থানার এসআই কাজী আব্দুল মান্নান এদিন আসামিকে আদালতে হাজির করেন। এরপর তিনি আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আসামিকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
গত শুক্রবার দুপুরে বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অষ্টম তলার বারান্দা থেকে পড়ে অভিনেত্রী ঝিলিকের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় তার বড় ভাই মোজাম্মেল হক গত শনিবার ধানমন্ডি মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় অভিনেত্রীর স্বামী সাফি উল্লাহকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর শনিবার তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
আদালতে দাখিল করা আবেদনে বলা হয়, আসামি সাফি উল্লাহ রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন, যা মামলার তদন্তে যথেষ্ট সহায়ক হবে। আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যাদি বর্তমানে অনুসন্ধান ও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তথ্যাদি অনুসন্ধানের স্বার্থে এবং মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখা একান্ত প্রয়োজন। এতে আরও উল্লেখ করা হয় যে, আসামি জামিনে মুক্তি পেলে তার দেওয়া তথ্যাদি অনুসন্ধানে এবং মামলা তদন্তে বিঘ্ন ঘটবে। তবে, আসামির পক্ষে জামিনের কোনো আবেদন ছিল না বলে এসআই আবুল বাশার জানান।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১০ জুন ভোর সাড়ে ৫টার দিকে সাফি উল্লাহর তীব্র পেটে ব্যথা হলে ঝিলিক ও তার ভাই মোজাম্মেল তাকে গুলিস্তানের ফুলবাড়িয়ার সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরামর্শ দেওয়া হয়। এরপর ভোর সাড়ে ৬টার দিকে তাকে ধানমন্ডির ইবনে সিনা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সাফি উল্লাহর শারীরিক অবস্থা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট দেখে ইবনে সিনা হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে চিকিৎসার পরামর্শ দেন। তবে, ইবনে সিনা হাসপাতালে সিট বা কেবিন খালি না থাকায় তাকে ধানমন্ডির বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অষ্টম তলার ৮১৩ নম্বর কেবিনে ভর্তি করা হয়। স্বামী দেখাশোনার জন্য ঝিলিক হাসপাতালেই অবস্থান করছিলেন। শুক্রবার সকালে সাফি উল্লাহকে দেখতে তার বোন, ভগ্নিপতি ও প্রথম স্ত্রী হাসপাতালে এসেছিলেন।
রিপোর্টারের নাম 
























