ঢাকা ০৯:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

কাঁচা রাস্তা পাকা করার দাবিতে সড়কে ধানের চারা রোপণ করে প্রতিবাদ

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বেহাল রাস্তা পাকা না হওয়ায় এলাকাবাসী সড়কটিতে ধানের চারা রোপণ করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। রোববার দুপুরে উপজেলার লতিফপুর ইউনিয়নের চাঁনপুর গ্রামের খন্দকার পাড়া মসজিদের সামনে এই প্রতীকী প্রতিবাদ অনুষ্ঠিত হয়।

এলাকাবাসী জানান, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও চাঁনপুর ব্রিজ থেকে ভুলুয়া ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা পাকা হয়নি। রাস্তাটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধের উপর নির্মিত। প্রায় চার দশক আগে করা বাঁধের আশেপাশের কয়েকটি অংশ পাকা হলেও ওইটুকু কাঁচা রয়ে গেছে। তারা আরও জানান, রাস্তাটি দিয়ে অবৈধভাবে মাটি ও ইট বোঝাই ট্রাক চলাচল করার ফলে অধিকাংশ স্থানে দুই পাশে নিচু এবং মাঝখানে উঁচু হয়ে গেছে। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাটি কর্দমাক্ত হয়ে যায় এবং পানি জমে চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এই খারাপ রাস্তার কারণে অসুস্থ কাউকে সহজেই হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয় না।

দীর্ঘদিনেও রাস্তাটি পাকা না হওয়ায় বর্তমান বৃষ্টি মৌসুমে রাস্তাটি চলাচলের প্রায় অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন স্থানে তদবির করেও এর কোনো সুরাহা না পেয়ে অবশেষে স্থানীয় বাসিন্দা ফজলে রাব্বিসহ কয়েকজন যুবক ওই রাস্তার খন্দকার পাড়া মসজিদের কাছে ধানের চারা রোপণ করে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

চাঁনপুর গ্রামের বাসিন্দা বিল্লাল হোসেন জানান, গ্রামের কেউ মারা গেলে লাশ কাঁধে নিয়ে কবরস্থান পর্যন্ত যেতে তাদের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়। কিন্তু এ বিষয়ে কেউ খেয়াল করে না। ফজলে রাব্বি বলেন, চাঁনপুর-হাটুভাঙা রাস্তার ওই অংশটুকু আশেপাশের মানুষের চলাচলের একমাত্র রাস্তা ছিল। রাস্তা দিয়ে অতিরিক্ত ভারী যানবাহন চলাচল করায় তা নষ্ট হয়ে গেছে। এই রাস্তা দিয়ে মির্জাপুর কলেজ, গোড়াই উচ্চ বিদ্যালয়, লতিফপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করে। এছাড়া হাঁটুভাঙা ও সোহাগপুর বাজারসহ আশেপাশে স্থানীয়রা যাতায়াত করে থাকেন। দ্রুত রাস্তাটি পাকা করার জন্য এলাকাবাসীর জোর দাবি।

লতিফপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী হোসেন রনি জানান, ওই রাস্তার আশেপাশে পাঁচটি ইটভাটা রয়েছে। ভাটাগুলোর কারণে প্রতিনিয়ত ভারী যানবাহন চলাচল করে, ফলে কাঁচা রাস্তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাস্তাটি পাকা করার জন্য এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ে একটি প্রকল্প পাঠানো হয়েছে, যা শীঘ্রই অনুমোদন হওয়ার পর পাকাকরণ কাজ শুরু হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চুয়াডাঙ্গায় ৫০ অসহায় পরিবারে নিরাপদ পানির জন্য টিউবওয়েল বিতরণ

কাঁচা রাস্তা পাকা করার দাবিতে সড়কে ধানের চারা রোপণ করে প্রতিবাদ

আপডেট সময় : ০৭:৪৮:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বেহাল রাস্তা পাকা না হওয়ায় এলাকাবাসী সড়কটিতে ধানের চারা রোপণ করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। রোববার দুপুরে উপজেলার লতিফপুর ইউনিয়নের চাঁনপুর গ্রামের খন্দকার পাড়া মসজিদের সামনে এই প্রতীকী প্রতিবাদ অনুষ্ঠিত হয়।

এলাকাবাসী জানান, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও চাঁনপুর ব্রিজ থেকে ভুলুয়া ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা পাকা হয়নি। রাস্তাটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধের উপর নির্মিত। প্রায় চার দশক আগে করা বাঁধের আশেপাশের কয়েকটি অংশ পাকা হলেও ওইটুকু কাঁচা রয়ে গেছে। তারা আরও জানান, রাস্তাটি দিয়ে অবৈধভাবে মাটি ও ইট বোঝাই ট্রাক চলাচল করার ফলে অধিকাংশ স্থানে দুই পাশে নিচু এবং মাঝখানে উঁচু হয়ে গেছে। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাটি কর্দমাক্ত হয়ে যায় এবং পানি জমে চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এই খারাপ রাস্তার কারণে অসুস্থ কাউকে সহজেই হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয় না।

দীর্ঘদিনেও রাস্তাটি পাকা না হওয়ায় বর্তমান বৃষ্টি মৌসুমে রাস্তাটি চলাচলের প্রায় অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন স্থানে তদবির করেও এর কোনো সুরাহা না পেয়ে অবশেষে স্থানীয় বাসিন্দা ফজলে রাব্বিসহ কয়েকজন যুবক ওই রাস্তার খন্দকার পাড়া মসজিদের কাছে ধানের চারা রোপণ করে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

চাঁনপুর গ্রামের বাসিন্দা বিল্লাল হোসেন জানান, গ্রামের কেউ মারা গেলে লাশ কাঁধে নিয়ে কবরস্থান পর্যন্ত যেতে তাদের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়। কিন্তু এ বিষয়ে কেউ খেয়াল করে না। ফজলে রাব্বি বলেন, চাঁনপুর-হাটুভাঙা রাস্তার ওই অংশটুকু আশেপাশের মানুষের চলাচলের একমাত্র রাস্তা ছিল। রাস্তা দিয়ে অতিরিক্ত ভারী যানবাহন চলাচল করায় তা নষ্ট হয়ে গেছে। এই রাস্তা দিয়ে মির্জাপুর কলেজ, গোড়াই উচ্চ বিদ্যালয়, লতিফপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করে। এছাড়া হাঁটুভাঙা ও সোহাগপুর বাজারসহ আশেপাশে স্থানীয়রা যাতায়াত করে থাকেন। দ্রুত রাস্তাটি পাকা করার জন্য এলাকাবাসীর জোর দাবি।

লতিফপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী হোসেন রনি জানান, ওই রাস্তার আশেপাশে পাঁচটি ইটভাটা রয়েছে। ভাটাগুলোর কারণে প্রতিনিয়ত ভারী যানবাহন চলাচল করে, ফলে কাঁচা রাস্তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাস্তাটি পাকা করার জন্য এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ে একটি প্রকল্প পাঠানো হয়েছে, যা শীঘ্রই অনুমোদন হওয়ার পর পাকাকরণ কাজ শুরু হবে।