গাজীপুরে রেলওয়ের জমি দখল করে অবৈধভাবে গড়ে তোলা শতাধিক দোকান ও ঘরবাড়ি ভেঙে ফেলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জেলা প্রশাসন, গাজীপুর সিটি করপোরেশন এবং রেলওয়ে বিভাগের যৌথ উদ্যোগে এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়।
এই অভিযানে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারিয়া তাবাসসুম, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-৩ এর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফিরোজ আল মামুন, অঞ্চল-৪ এর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইলিশায় রিছিল, রেলওয়ে পুলিশ এবং জয়দেবপুর রেলওয়ে জংশনের স্টেশন মাস্টার মাহমুদুল হাসানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইলিশায় রিছিল এই অভিযানের বিষয়ে বলেন, গাজীপুর শহরের ঢোকার মুখেই জয়দেবপুর রেলগেট এলাকায় প্রতিদিন তীব্র যানজট লেগে থাকে। স্থানীয়দের কাছ থেকে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ আসছিল যে, রেললাইনের পাশের জমিতে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা এই শত শত দোকানপাটের কারণে মানুষের চলাচলে অসুবিধা হয় এবং যানজট ভয়াবহ আকার ধারণ করে। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই যৌথ অভিযান চালিয়ে অবৈধ দোকানপাটগুলো উচ্ছেদ করা হচ্ছে। তিনি আরও নিশ্চিত করেন, অভিযান শেষে এই জমিতে যেন আবার অবৈধ স্থাপনা বসতে না পারে, সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় একজন বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম বলেন, রেলের জমিতে এই অবৈধ দোকানপাটের ভিড়ে ঠিকমতো হাঁটাচলা করাই কঠিন ছিল। এখানে প্রায়ই চুরি-ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা ঘটত। শুধু তাই নয়, সারাদিনই রাস্তার দুই পাশে হকাররা ভ্যানে করে সবজি ও অন্যান্য জিনিসপত্র বিক্রি করতো। বিশেষ করে বিকালের পর ফুটপাত বা রাস্তা দিয়ে চলাচল করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ত।
গাজীপুর আদালতের আইনজীবী রফিকুল ইসলাম বলেন, “পুলিশ প্রায়ই এসব হকার ও ভ্যান উচ্ছেদ করে, কিন্তু তারা চলে যাওয়ার মুহূর্তের মধ্যেই আবার সবাই ফিরে এসে ফুটপাত ও রাস্তা দখল করে ব্যবসা শুরু করে। মনে হয়, এটা দেখার কেউ নেই।” তিনি প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করেন, এই উচ্ছেদ অভিযান যেন লোকদেখানো না হয়, এটি যেন স্থায়ীভাবে কার্যকর থাকে।
এদিকে, লোকমান হোসেন নামে একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী একটি পরামর্শ দিয়ে বলেন, “যে জায়গাটি উচ্ছেদ করা হলো, সেখানে সকালে ‘কৃষকের বাজার’ বসানো যেতে পারে। এতে মানুষ সরাসরি গ্রাম থেকে আনা তাজা সবজি কিনতে পারবে, আবার কৃষকরাও ভালো দাম পাবে। সব মিলিয়ে, জায়গাটি পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করা উচিত।”
রিপোর্টারের নাম 
























