সংবিধান সংস্কার বা ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত গণভোটের ফলাফলে বড় ধরনের সংশোধনী এনেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন সংশোধনী অনুযায়ী, পূর্বঘোষিত ফলাফলের তুলনায় ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’ উভয় ভোটেই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কমেছে। ইসির দাবি, ‘করণিক ভুলের’ কারণেই এই সংশোধন করতে হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত এক অতিরিক্ত গেজেটের মাধ্যমে এই সংশোধিত তথ্য জানানো হয়।
সংশোধিত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ৭২ লাখ ২৫ হাজার ৯৮০ জন এবং ‘না’ ভোটের সংখ্যা ২ কোটি ১৯ লাখ ৬০ হাজার ২৩১ জন। হ্যাঁ এবং না ভোট মিলিয়ে সর্বমোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ৭ কোটি ৬৬ লাখ ২১ হাজার ৪০৭ জন। এর মধ্যে বাতিল হয়েছে ৭৪ লাখ ৩৫ হাজার ১৯৬টি ভোট। বাতিল ভোট বাদ দিয়ে মোট বৈধ ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি ৯১ লাখ ৮৬ হাজার ২১১ জন।
আগের প্রকাশিত ফলাফলের সঙ্গে তুলনা করে দেখা যায়, ‘হ্যাঁ’ ভোটের সংখ্যা কমেছে ৯ লাখ ৭৪ হাজার ৬৮০টি। অন্যদিকে, ‘না’ ভোটের সংখ্যা কমেছে ১ লাখ ১১ হাজার ৪৯৫টি। সার্বিকভাবে মোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা কমেছে ১০ লাখ ৭৩ হাজার ৬১৬টি, যা প্রায় ১১ লাখের কাছাকাছি। তবে একটি কৌতূহলোদ্দীপক বিষয় হলো, যেখানে বৈধ ভোটের সংখ্যা কমেছে, সেখানে বাতিল হওয়া ভোটের সংখ্যা আগের চেয়ে ১২ হাজার ৫৫৯টি বৃদ্ধি পেয়েছে।
কেন এই ফলাফল সংশোধন করতে হলো এবং ভোট সংখ্যা প্রায় ১১ লাখ কমে গেলো— এমন প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, “আগে করণিক ভুল ছিলো, ট্রান্সপজিশন এরর ছিলো। যার কারণে এ ভুল হয়েছে। করণিক ভুল তো হতেই পারে, যেহেতু হাতে করা হয়। যেগুলো এদিক-ওদিক হয়েছিল, সেগুলো কারেকশন করে পরে মাঠ থেকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ঠিক করা হয়েছে।”
তিনি আরও স্পষ্ট করেন, “মূল যে প্রতিপাদ্য… ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’; ‘হ্যাঁ’ এর সংখ্যা বেশি। সেটাতে কোনো বিচ্যুতি হয়নি।” অর্থাৎ, গণভোটের সামগ্রিক ফলাফলে ‘হ্যাঁ’ এর পাল্লাই ভারী রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই এই গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওইদিন দেশের ২৯৯টি আসনে ভোট গ্রহণ করা হয়। শেরপুর-৩ আসনে একজন প্রার্থীর মৃত্যু হওয়ায় ওই আসনে ভোট স্থগিত রেখেছে ইসি।
রিপোর্টারের নাম 




















