ঢাকা ১১:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ ও ক্ষমতাসীন-বিরোধী দলের সম্পর্ক: সংঘাত না সমন্বয়?

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৩:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের রাজনীতিতে ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী দলের সম্পর্ক বরাবরই এক জটিল এবং বহু আলোচিত বিষয়। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অপরিহার্য অংশ হলেও, এই দুই পক্ষের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশের অভাব প্রায়শই পরিলক্ষিত হয়। পারস্পরিক অবিশ্বাস, দোষারোপ এবং সংঘাতের সংস্কৃতি দেশের গণতন্ত্রকে দুর্বল করে তুলছে, যা জাতীয় অগ্রগতি ও স্থিতিশীলতার পথে বড় বাধা।

আমাদের রাজনৈতিক ইতিহাসে দেখা যায়, ক্ষমতা ও বিরোধিতার টানাপোড়েন প্রায়শই সংসদীয় বিতর্ক ছাপিয়ে রাজপথে সহিংস রূপ ধারণ করে। সংসদকে কার্যকর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু না বানিয়ে, অনেক সময় বিরোধী দল সংসদ বর্জন করে এবং রাজপথে আন্দোলনকেই প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। অন্যদিকে, ক্ষমতাসীন দলও অনেক ক্ষেত্রে বিরোধী দলের গঠনমূলক সমালোচনাকে গ্রহণ না করে দমন-পীড়নের পথ বেছে নেয়, যা গণতান্ত্রিক চর্চাকে ব্যাহত করে। এই অস্থিতিশীল সম্পর্ক দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভিত্তিকে দুর্বল করে দেয়। যখন ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী দল দেশের বৃহত্তর স্বার্থে একমত হতে পারে না, তখন গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। এর ফলে সাধারণ জনগণের মধ্যে রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি অনাস্থা তৈরি হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর। অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও এই রাজনৈতিক বিভেদ নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী দলের সম্পর্ক হওয়া উচিত গঠনমূলক, সহনশীল এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের উপর প্রতিষ্ঠিত। বিরোধী দল সরকারের ভুলত্রুটি ধরিয়ে দিয়ে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে এবং বিকল্প নীতি প্রস্তাব করবে। অন্যদিকে, ক্ষমতাসীন দল বিরোধী দলের গঠনমূলক সমালোচনাকে স্বাগত জানিয়ে নিজেদের নীতি ও কর্মসূচিতে প্রয়োজনীয় সংস্কার আনবে। সংসদ হবে আলোচনার মূল কেন্দ্র, যেখানে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে খোলামেলা বিতর্ক হবে এবং ঐকমত্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এই অচলাবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য উভয় পক্ষকেই উদার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপের পথ উন্মুক্ত করা, সংসদকে কার্যকর করা এবং একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া অপরিহার্য। দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করাও এই সম্পর্ক উন্নয়নে সহায়ক হবে। সর্বোপরি, জনকল্যাণকে প্রাধান্য দিয়ে জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার মানসিকতা তৈরি করতে হবে।

গণতন্ত্রের সৌন্দর্য তার বহুত্ববাদ এবং ভিন্ন মতের প্রতি শ্রদ্ধাবোধে। ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলের সম্পর্ক কেবল ক্ষমতার লড়াই নয়, বরং দেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণের অংশীদারিত্ব। এই সম্পর্ক যত বেশি সুসংহত হবে, বাংলাদেশের গণতন্ত্র তত বেশি বিকশিত হবে এবং জাতি হিসেবে আমরা তত বেশি সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাব।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সংসদে সংস্কার না হলে রাজপথে তীব্র আন্দোলনের হুঁশিয়ারি বিরোধী দলের

গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ ও ক্ষমতাসীন-বিরোধী দলের সম্পর্ক: সংঘাত না সমন্বয়?

আপডেট সময় : ০৯:৪৩:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশের রাজনীতিতে ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী দলের সম্পর্ক বরাবরই এক জটিল এবং বহু আলোচিত বিষয়। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অপরিহার্য অংশ হলেও, এই দুই পক্ষের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশের অভাব প্রায়শই পরিলক্ষিত হয়। পারস্পরিক অবিশ্বাস, দোষারোপ এবং সংঘাতের সংস্কৃতি দেশের গণতন্ত্রকে দুর্বল করে তুলছে, যা জাতীয় অগ্রগতি ও স্থিতিশীলতার পথে বড় বাধা।

আমাদের রাজনৈতিক ইতিহাসে দেখা যায়, ক্ষমতা ও বিরোধিতার টানাপোড়েন প্রায়শই সংসদীয় বিতর্ক ছাপিয়ে রাজপথে সহিংস রূপ ধারণ করে। সংসদকে কার্যকর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু না বানিয়ে, অনেক সময় বিরোধী দল সংসদ বর্জন করে এবং রাজপথে আন্দোলনকেই প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। অন্যদিকে, ক্ষমতাসীন দলও অনেক ক্ষেত্রে বিরোধী দলের গঠনমূলক সমালোচনাকে গ্রহণ না করে দমন-পীড়নের পথ বেছে নেয়, যা গণতান্ত্রিক চর্চাকে ব্যাহত করে। এই অস্থিতিশীল সম্পর্ক দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভিত্তিকে দুর্বল করে দেয়। যখন ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী দল দেশের বৃহত্তর স্বার্থে একমত হতে পারে না, তখন গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। এর ফলে সাধারণ জনগণের মধ্যে রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি অনাস্থা তৈরি হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর। অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও এই রাজনৈতিক বিভেদ নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী দলের সম্পর্ক হওয়া উচিত গঠনমূলক, সহনশীল এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের উপর প্রতিষ্ঠিত। বিরোধী দল সরকারের ভুলত্রুটি ধরিয়ে দিয়ে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে এবং বিকল্প নীতি প্রস্তাব করবে। অন্যদিকে, ক্ষমতাসীন দল বিরোধী দলের গঠনমূলক সমালোচনাকে স্বাগত জানিয়ে নিজেদের নীতি ও কর্মসূচিতে প্রয়োজনীয় সংস্কার আনবে। সংসদ হবে আলোচনার মূল কেন্দ্র, যেখানে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে খোলামেলা বিতর্ক হবে এবং ঐকমত্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এই অচলাবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য উভয় পক্ষকেই উদার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপের পথ উন্মুক্ত করা, সংসদকে কার্যকর করা এবং একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া অপরিহার্য। দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করাও এই সম্পর্ক উন্নয়নে সহায়ক হবে। সর্বোপরি, জনকল্যাণকে প্রাধান্য দিয়ে জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার মানসিকতা তৈরি করতে হবে।

গণতন্ত্রের সৌন্দর্য তার বহুত্ববাদ এবং ভিন্ন মতের প্রতি শ্রদ্ধাবোধে। ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলের সম্পর্ক কেবল ক্ষমতার লড়াই নয়, বরং দেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণের অংশীদারিত্ব। এই সম্পর্ক যত বেশি সুসংহত হবে, বাংলাদেশের গণতন্ত্র তত বেশি বিকশিত হবে এবং জাতি হিসেবে আমরা তত বেশি সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাব।