প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে অমর একুশে গ্রন্থমেলা লেখক, পাঠক ও প্রকাশকদের জন্য এক মিলনমেলা। সৃষ্টিশীলতার এই উৎসবে নতুন বইয়ের ঘ্রাণ আর পাঠকের আনাগোনায় প্রাণবন্ত থাকে পুরো মাস। কিন্তু এবার পবিত্র রমজান মাস মেলার একটি বড় অংশজুড়ে থাকায় লেখক ও প্রকাশকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে গভীর আর্থিক শঙ্কা। বই বিক্রিতে ব্যাপক ধস নামার আশঙ্কায় তাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে, যা মেলায় আগত বইপ্রেমীদের উৎসাহেও কিছুটা ভাটা ফেলতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।
লেখকদের জন্য একুশে বইমেলা শুধু বই প্রকাশের প্ল্যাটফর্ম নয়, এটি তাদের সারা বছরের আয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। অনেক লেখকই মেলার সময় প্রকাশিত বইয়ের রয়্যালটির ওপর অনেকটা নির্ভরশীল থাকেন। রমজান মাসে দিনের বেলায় রোজা রাখা, ইফতার ও সাহরির প্রস্তুতি এবং তারাবির নামাজসহ নানা ধর্মীয় কর্মকা্ণ্ডে ব্যস্ত থাকেন সাধারণ মানুষ। ফলে বইমেলায় দর্শনার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা। বিশেষ করে নতুন লেখক ও যারা মেলার বিক্রি থেকে তাৎক্ষণিক আর্থিক সুবিধা পান, তাদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে। তাদের আশঙ্কা, মেলার শেষ সপ্তাহে ঈদের কেনাকাটার ভিড় বাড়লে বইয়ের প্রতি পাঠকের আগ্রহ আরও কমবে।
প্রকাশকরাও এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। প্রতি বছর গ্রন্থমেলাকে কেন্দ্র করে তারা বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করেন নতুন বই প্রকাশে, স্টল ভাড়া, কর্মী নিয়োগ ও প্রচারণায়। বিক্রি প্রত্যাশিত না হলে এই বিনিয়োগ তুলে আনা তাদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। অনেক প্রকাশকই জানিয়েছেন, রমজানে বইমেলা হওয়ায় তাদের বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। এতে একদিকে যেমন তাদের আর্থিক ক্ষতি হবে, তেমনি আগামীতে নতুন বই প্রকাশে তাদের উৎসাহে ভাটা পড়তে পারে। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি প্রকাশনা সংস্থাগুলোর জন্য এটি অস্তিত্বের প্রশ্ন হয়ে দাঁড়াতে পারে।
যদিও মেলার আয়োজকরা বলছেন, রমজানেও পাঠকদের আনাগোনা থাকবে, তবে লেখক-প্রকাশকদের বাস্তব অভিজ্ঞতা ভিন্ন কথা বলছে। দিনের বেলায় রোজার ক্লান্তি এবং সন্ধ্যার পর ইফতার ও ধর্মীয় ব্যস্ততার কারণে অনেকেই মেলায় আসতে নিরুৎসাহিত হতে পারেন। এর ফলে বইমেলা তার চিরায়ত প্রাণবন্ততা কিছুটা হারাতে পারে এবং এর মূল উদ্দেশ্য, অর্থাৎ বইয়ের প্রচার ও প্রসারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বইমেলা ও রমজান – এই দুই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় একই সময়ে পড়ায় সৃষ্ট এই পরিস্থিতি লেখক, প্রকাশক ও পাঠকদের জন্য এক নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে এসেছে।
রিপোর্টারের নাম 



















