লিবিয়ায় মানবেতর জীবনযাপন ও বন্দিদশা কাটিয়ে ১৭৫ জন বাংলাদেশি নাগরিক দেশে ফিরেছেন। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে বুরাক এয়ারের একটি বিশেষ ফ্লাইটে তারা ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের সমন্বিত উদ্যোগে লিবিয়া সরকার ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহযোগিতায় তাদের এই প্রত্যাবাসন সম্পন্ন হয়।
প্রত্যাবাসিতদের মধ্যে লিবিয়ার বেনগাজীস্থ গানফুদা ডিটেনশন সেন্টারে আটক ছিলেন ৩০ জন। এছাড়া, বেনগাজী ও এর আশপাশের এলাকায় বসবাসরত দুস্থ, অসহায় ও শারীরিকভাবে অসুস্থ আরও ১৪৫ জন স্বেচ্ছায় দেশে ফিরেছেন। তারা সবাই অনিয়মিতভাবে লিবিয়ায় অবস্থান করছিলেন।
জানা যায়, ইউরোপে উন্নত জীবনের স্বপ্ন নিয়ে এদের অধিকাংশই মানবপাচারকারীদের প্ররোচনা ও সহযোগিতায় অবৈধভাবে সমুদ্রপথে লিবিয়ায় প্রবেশ করেছিলেন। সেখানে তারা বিভিন্ন সময়ে অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে, যা তাদের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছিল।
বিমানবন্দরে পৌঁছালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার প্রতিনিধিরা তাদের অভ্যর্থনা জানান। অবৈধ পথে বিদেশগমনের ঝুঁকি ও পরিণতি সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিজেদের দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার জন্য তাদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) প্রত্যাবাসিত প্রত্যেককে পথখরচা, প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং প্রয়োজনে অস্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থা করেছে।
উল্লেখ্য, লিবিয়ার বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 




















