ঢাকা ১০:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

টিএসসি এলাকায় নারী হেনস্তার ঘটনায় ঢাবির ৩ শিক্ষার্থী বহিষ্কার

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসের টিএসসি এলাকায় দুই নারীকে লাঞ্ছিত ও হেনস্তা করার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থীকে ছয় মাসের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমেদ। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা হলেন – থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শাহরিয়ার ইসলাম তুষার, বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের রাকিব আহমেদ এবং নৃবিজ্ঞান বিভাগের শাহরিয়ার তানজিল।

ঘটনাটি ঘটে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে, টিএসসি সংলগ্ন রাজু ভাস্কর্যের কাছে। অভিযোগ রয়েছে, কয়েকজন শিক্ষার্থী সেখানে ঘুরতে আসা দুই নারী ও তাদের সঙ্গে থাকা দুই ব্যক্তিকে উত্ত্যক্ত করেন, গালিগালাজ করেন এবং তাদের একজন সঙ্গীকে মারধর করেন। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, এক তরুণ বাঁশ হাতে একজন নারীর দিকে তেড়ে যাচ্ছেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও সহপাঠীদের তথ্য অনুযায়ী, এই তরুণ বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রাকিব আহমেদ। ভিডিওতে থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার ইসলাম তুষারকেও দেখা গেছে বলে তার পরিচিতজনরা দাবি করেছেন।

ভুক্তভোগী নারীদের একজন অভিযোগ করেন, পুরান ঢাকার নাজিরাবাজার থেকে সেহরি খেয়ে তারা টিএসসিতে ঘুরতে এসেছিলেন। এ সময় কয়েকজন শিক্ষার্থী তাদের “প্রোস্টিটিউট” বলে আখ্যায়িত করেন এবং তাদের সঙ্গে থাকা ব্যক্তিকে মারধর করেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে আমরা নিরাপদ নই। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেরাই আমাদের মারে।”

এই ঘটনার পরদিন, ভুক্তভোগী নারীদের সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমেদ গণমাধ্যমকে জানান, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করা হয়েছে। ফুটেজে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের লাঠি হাতে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং নারীদের সঙ্গে থাকা একজনকে হেলমেট দিয়ে আঘাত করার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে নারীদের সরাসরি লাঠি দিয়ে আঘাত করার স্পষ্ট প্রমাণ মেলেনি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রক্টর আরও জানান, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট তিন শিক্ষার্থীকে ছয় মাসের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী শাহরিয়ার ইসলাম তুষার পূর্বে গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন যে, সেহরি খেয়ে ফেরার পথে টিএসসিতে তিনি এক নারী ও এক পুরুষকে “অশালীন” অবস্থায় দেখে তাদের পরিচয় জানতে চেয়েছিলেন। এই নিয়ে কথা-কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তি হলেও তিনি কোনো নারীর গায়ে হাত তোলেননি বলে দাবি করেন।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত রাকিব আহমেদ লাঠি হাতে নেওয়ার কথা স্বীকার করলেও কাউকে আঘাত করার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তার দাবি, নারীদের সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা নেশাগ্রস্ত ছিলেন এবং তারাই আগ্রাসী আচরণ করেছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়ায় তিন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসলামী ব্যাংকের রেমিট্যান্স উৎসবে মোটরসাইকেল উপহার পেলেন ঢাকার গ্রাহক

টিএসসি এলাকায় নারী হেনস্তার ঘটনায় ঢাবির ৩ শিক্ষার্থী বহিষ্কার

আপডেট সময় : ০৯:০৮:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসের টিএসসি এলাকায় দুই নারীকে লাঞ্ছিত ও হেনস্তা করার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থীকে ছয় মাসের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমেদ। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা হলেন – থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শাহরিয়ার ইসলাম তুষার, বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের রাকিব আহমেদ এবং নৃবিজ্ঞান বিভাগের শাহরিয়ার তানজিল।

ঘটনাটি ঘটে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে, টিএসসি সংলগ্ন রাজু ভাস্কর্যের কাছে। অভিযোগ রয়েছে, কয়েকজন শিক্ষার্থী সেখানে ঘুরতে আসা দুই নারী ও তাদের সঙ্গে থাকা দুই ব্যক্তিকে উত্ত্যক্ত করেন, গালিগালাজ করেন এবং তাদের একজন সঙ্গীকে মারধর করেন। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, এক তরুণ বাঁশ হাতে একজন নারীর দিকে তেড়ে যাচ্ছেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও সহপাঠীদের তথ্য অনুযায়ী, এই তরুণ বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রাকিব আহমেদ। ভিডিওতে থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার ইসলাম তুষারকেও দেখা গেছে বলে তার পরিচিতজনরা দাবি করেছেন।

ভুক্তভোগী নারীদের একজন অভিযোগ করেন, পুরান ঢাকার নাজিরাবাজার থেকে সেহরি খেয়ে তারা টিএসসিতে ঘুরতে এসেছিলেন। এ সময় কয়েকজন শিক্ষার্থী তাদের “প্রোস্টিটিউট” বলে আখ্যায়িত করেন এবং তাদের সঙ্গে থাকা ব্যক্তিকে মারধর করেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে আমরা নিরাপদ নই। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেরাই আমাদের মারে।”

এই ঘটনার পরদিন, ভুক্তভোগী নারীদের সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমেদ গণমাধ্যমকে জানান, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করা হয়েছে। ফুটেজে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের লাঠি হাতে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং নারীদের সঙ্গে থাকা একজনকে হেলমেট দিয়ে আঘাত করার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে নারীদের সরাসরি লাঠি দিয়ে আঘাত করার স্পষ্ট প্রমাণ মেলেনি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রক্টর আরও জানান, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট তিন শিক্ষার্থীকে ছয় মাসের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী শাহরিয়ার ইসলাম তুষার পূর্বে গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন যে, সেহরি খেয়ে ফেরার পথে টিএসসিতে তিনি এক নারী ও এক পুরুষকে “অশালীন” অবস্থায় দেখে তাদের পরিচয় জানতে চেয়েছিলেন। এই নিয়ে কথা-কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তি হলেও তিনি কোনো নারীর গায়ে হাত তোলেননি বলে দাবি করেন।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত রাকিব আহমেদ লাঠি হাতে নেওয়ার কথা স্বীকার করলেও কাউকে আঘাত করার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তার দাবি, নারীদের সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা নেশাগ্রস্ত ছিলেন এবং তারাই আগ্রাসী আচরণ করেছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়ায় তিন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।