গ্রুপ পর্বে টানা তিন ম্যাচ হেরে নারী এশিয়ান কাপে বাংলাদেশের মিশন শেষ হয়েছে। উজবেকিস্তানের কাছে হারের পর বাংলাদেশ কোচ পিটার বাটলার বলেছেন, এশিয়ান কাপের মতো উচ্চ পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় ফুটবল খেলা অত্যন্ত কঠিন। তার মতে, বাংলাদেশ সাফ ফুটবলে টানা দুইবারের চ্যাম্পিয়ন হলেও এশিয়ান মঞ্চ সম্পূর্ণ ভিন্ন। তবে তিনি মনে করেন, এই টুর্নামেন্ট থেকে বাংলাদেশের প্রাপ্তি মূলত অভিজ্ঞতা।
বাটলার বলেন, ‘শেখার অনেক কিছু আছে। যদি মন খোলা রাখেন, তাহলে অনেক কিছুই শেখা যায়। আমি ইংলিশ ফুটবলের প্রায় প্রতিটি স্তরে কাজ করেছি, তাই আমি বাস্তববাদী। যখন অন্য দেশগুলোর মতো লজিস্টিক সাপোর্ট, নিয়মিত ম্যাচ ও ক্যাম্পের সুবিধা পাবেন না, তখন তাদের সঙ্গে পাল্লা দেওয়া কঠিন।’
উজবেকিস্তানের কাছে ৪-০ গোলে হারের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বাটলার বলেন, ‘আমরা খারাপ ফুটবল খেলিনি। অনেক সময়ই ভালো খেলেছি। কিন্তু যখন আপনি এমন একটি দলের বিপক্ষে খেলবেন, যারা ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে আমাদের চেয়ে ৬০-৭০ ধাপ এগিয়ে এবং শারীরিকভাবে অনেক বেশি শক্তিশালী—তখন পার্থক্যটা স্পষ্ট হয়ে যায়। তারা ম্যাচ বিশ্লেষণের জন্য টিভি ক্যামেরা ও ভিডিও সরঞ্জাম নিয়ে আসে, যা আমাদের নেই। অনেক সময় মনে হয়, যেন একজন বক্সার এক হাত পেছনে বেঁধে রেখে লড়াই করতে নেমেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যদি বড় দলগুলোর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান, তাহলে বুঝতে হবে—সাফের তুলনায় এই পর্যায়ের ফুটবল অনেক বেশি কঠিন। সাফে আপনি আসলে সেভাবে পরীক্ষিত হন না।’ প্রতিটি ম্যাচ হারলেও বাংলাদেশের মেয়েরা ইতিবাচক ফুটবল খেলেছে বলে কোচ মনে করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা এখানে যে পর্যন্ত এসেছি, সেটাও সত্যি বলতে অলৌকিক কিছু। আশা করি, আমার সঙ্গে একমত হবেন। আমরা ভাগ্যের জোরে জিতিনি, আমরা ভালো ফুটবল খেলেছি।’
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে বাটলার তার কোচ পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি ইংল্যান্ডে ফিরে যাচ্ছি। স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলব। এরপর আমার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে ভাবব। কারণ যেভাবে প্রত্যাশা ছিল, সেভাবে যদি সহায়তা বা সমর্থন না পাই, তাহলে দায়িত্ব চালিয়ে নেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়। আমি কোনো জাদুকর নই।’
রিপোর্টারের নাম 
























