ঢাকা ০৩:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ভাঙিয়ে শিক্ষার্থীদের চাঁদা দাবি: তোলপাড়

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের সুনাম ক্ষুণ্ণ করে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মোটা অংকের চাঁদা আদায়ের এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়েরই দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। ‘লিংকার্স ইন বরিশাল ইউনিভার্সিটি’ নামের একটি ফেসবুক পেজের অ্যাডমিন ও মডারেটর হিসেবে পরিচিত এই শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স কোচিং সেন্টারের নাম ব্যবহার করে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। অভিযুক্তরা হলেন ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী মুকতাদির রিজভী এবং মার্কেটিং বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ইমরান মুন্না, যিনি আহম্মেদ মুন্না নামেও পরিচিত।

ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থীর অভিযোগ, সম্মানহানির ভয় দেখিয়ে তার কাছে এই চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার প্রতিষ্ঠান এবং তাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে একটি অডিও রেকর্ডিংও পাওয়া গেছে, যেখানে অভিযুক্ত আহমেদ মুন্না ও ভুক্তভোগী রিয়াজের মধ্যে আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত আলোচনার ইঙ্গিত মেলে। সেখানে ৬০ হাজার টাকা সমঝোতার বিষয়টিও উঠে আসে এবং সমাধানের জন্য পেজের অ্যাডমিন মুকতাদির রিজভীর সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী রিয়াজ হোসেন জানান, গত ৪ মার্চ তার প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের বেতন বকেয়া সংক্রান্ত একটি পোস্ট লিংকার্স পেজে দেওয়া হয়। পরদিন ৫ মার্চ সন্ধ্যায় ইমরান মুন্না ও তার এক সহযোগী সরাসরি তার অফিসে এসে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দিলে আরও পোস্ট করা হবে এবং সম্মানহানি করা হবে বলে হুমকি দেয়। বাধ্য হয়ে রিয়াজ তাৎক্ষণিকভাবে মুন্নাকে ৫ হাজার টাকা দিতে বাধ্য হন। তবে, অভিযুক্ত মডারেটর ইমরান মুন্না সরাসরি চাঁদা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে এটিকে অপপ্রচার বলে দাবি করেছেন। অন্যদিকে, পেজের অ্যাডমিন মুকতাদির রিজভী জানান, শিক্ষকদের বেতন বকেয়া থাকার অভিযোগের ভিত্তিতেই পেজে পোস্ট করা হয়েছিল এবং ভুক্তভোগী তার সঙ্গে যোগাযোগ করে সমঝোতার চেষ্টা করেছিলেন। তবে, মডারেটরের ৫ হাজার টাকা চাঁদা নেওয়ার বিষয়টি তিনি অবগত নন বলে জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ব্যবহার করে পরিচালিত এই অবৈধ পেজটি পূর্বেও বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছে বলে জানা যায়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিদ্যুৎকেন্দ্র সচল রাখতে সরকারের সহযোগিতা চাইলেন বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকরা

বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ভাঙিয়ে শিক্ষার্থীদের চাঁদা দাবি: তোলপাড়

আপডেট সময় : ০২:৫৯:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের সুনাম ক্ষুণ্ণ করে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মোটা অংকের চাঁদা আদায়ের এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়েরই দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। ‘লিংকার্স ইন বরিশাল ইউনিভার্সিটি’ নামের একটি ফেসবুক পেজের অ্যাডমিন ও মডারেটর হিসেবে পরিচিত এই শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স কোচিং সেন্টারের নাম ব্যবহার করে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। অভিযুক্তরা হলেন ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী মুকতাদির রিজভী এবং মার্কেটিং বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ইমরান মুন্না, যিনি আহম্মেদ মুন্না নামেও পরিচিত।

ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থীর অভিযোগ, সম্মানহানির ভয় দেখিয়ে তার কাছে এই চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার প্রতিষ্ঠান এবং তাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে একটি অডিও রেকর্ডিংও পাওয়া গেছে, যেখানে অভিযুক্ত আহমেদ মুন্না ও ভুক্তভোগী রিয়াজের মধ্যে আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত আলোচনার ইঙ্গিত মেলে। সেখানে ৬০ হাজার টাকা সমঝোতার বিষয়টিও উঠে আসে এবং সমাধানের জন্য পেজের অ্যাডমিন মুকতাদির রিজভীর সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী রিয়াজ হোসেন জানান, গত ৪ মার্চ তার প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের বেতন বকেয়া সংক্রান্ত একটি পোস্ট লিংকার্স পেজে দেওয়া হয়। পরদিন ৫ মার্চ সন্ধ্যায় ইমরান মুন্না ও তার এক সহযোগী সরাসরি তার অফিসে এসে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দিলে আরও পোস্ট করা হবে এবং সম্মানহানি করা হবে বলে হুমকি দেয়। বাধ্য হয়ে রিয়াজ তাৎক্ষণিকভাবে মুন্নাকে ৫ হাজার টাকা দিতে বাধ্য হন। তবে, অভিযুক্ত মডারেটর ইমরান মুন্না সরাসরি চাঁদা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে এটিকে অপপ্রচার বলে দাবি করেছেন। অন্যদিকে, পেজের অ্যাডমিন মুকতাদির রিজভী জানান, শিক্ষকদের বেতন বকেয়া থাকার অভিযোগের ভিত্তিতেই পেজে পোস্ট করা হয়েছিল এবং ভুক্তভোগী তার সঙ্গে যোগাযোগ করে সমঝোতার চেষ্টা করেছিলেন। তবে, মডারেটরের ৫ হাজার টাকা চাঁদা নেওয়ার বিষয়টি তিনি অবগত নন বলে জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ব্যবহার করে পরিচালিত এই অবৈধ পেজটি পূর্বেও বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছে বলে জানা যায়।