ঢাকা ১০:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬

ইসলামী রাষ্ট্রের বিজয়যাত্রা: শামের ভূমিতে নবীন রাষ্ট্রের পদার্পণ

মদিনার আকাশে তখন গোধূলির ম্লান আলো। মসজিদের আঙিনায় সাহাবিদের গুঞ্জন আজ অন্যদিনের চেয়ে একটু ভিন্ন। মাত্র কয়েক মাস আগে আরব উপদ্বীপের ধূলিধূসরিত প্রান্তরগুলোয় যে বিদ্রোহের আগুন দাউদাউ করে জ্বলছিল, তা এখন স্তিমিত। রিদ্দার (ধর্মত্যাগীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ) রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পর মদিনার নবীন রাষ্ট্রটি এক নতুন ভোরের মুখোমুখি। খলিফা আবু বকর মদিনার উপকণ্ঠে এক উঁচু টিলার উপর দাঁড়িয়ে উত্তর দিগন্তের দিকে তাকিয়ে আছেন। যে দিগন্তের ওপারে নীল কুয়াশায় ঢাকা সিরীয় মরুভূমি, আর তারও পরে দাঁড়িয়ে আছে হাজার বছরের প্রাচীন ও সমৃদ্ধ বৃহত্তর শাম অঞ্চল।

খলিফার দুই কাঁধে তখন বিরাট দায়িত্ব—একদিকে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর রেখে যাওয়া আমানতের সুরক্ষা, অন্যদিকে আরবের এই নতুন উদ্যমকে একটি মহৎ লক্ষ্যের দিকে পরিচালিত করা। রিদ্দার যুদ্ধের মাধ্যমে আরবের গোত্রগুলো আবার এক পতাকার নিচে এসেছে, তাদের সামরিক শক্তি এখন শানিত, তারা আত্মবিশ্বাসে পরিপূর্ণ। মদিনার শান্ত বাতাসে তখন বড় সংঘাতের ঘ্রাণ বিরাজ করছে, যেখানে আরবের এই নবজাত শক্তির প্রতিপক্ষ ছিল তৎকালীন বিশ্বের দুই পরাশক্তি—বাইজেন্টাইন ও পারস্য সাম্রাজ্য।

শাম ছিল রোম সাম্রাজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশ। সেখানে খ্রিষ্টানদের অনেক পবিত্র স্থান ও স্থাপনা অবস্থিত ছিল। পারসিকদের মতো রোমানরাও আরবদের আদিশত্রু ছিল; তবে পারসিকদের বৈরিতা ছিল মূলত রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কারণে, আর রোমানদের শত্রুতা ছিল প্রধানত ধর্মীয়ভিত্তিক।

বৃহত্তর শাম বলতে আধুনিক ভূরাজনীতির সীমানায় শুধু সিরিয়াকে বোঝায় না; বরং বর্তমান সিরিয়া, ফিলিস্তিন, জর্ডান এবং লেবাননকে নিজের বুকে ধারণ করা এক বিস্তৃত অঞ্চল বোঝায়। সপ্তম শতাব্দীর বিশ্ব ইতিহাসে শামের অবস্থান ছিল অনেকটা হীরাখচিত মুকুটের মতো, যার দিকে প্রতিটি সাম্রাজ্য তৃষ্ণার্ত চোখে তাকিয়ে থাকত।

শামের ভৌগোলিক অবস্থান একে বিশ্বের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছিল। পশ্চিমে নীল জলরাশির ভূমধ্যসাগর আর পূর্বে অন্তহীন সিরীয় মরুভূমি—এ দুইয়ের মধ্যে এক উর্বর করিডোর হিসেবে শাম দাঁড়িয়ে ছিল। এর উর্বর ভূমি এবং নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু একে মরুভূমির শুষ্ক রুক্ষতা থেকে পৃথক করেছিল। এটি ছিল তিনটি মহাদেশ—এশিয়া, আফ্রিকা এবং ইউরোপের এক মহান মিলনস্থল। প্রাচীন রেশম পথ (Silk Road) এবং লোহিত সাগর থেকে আসা ধূপ পথ (Incense Route) এই শামের বুক চিরে চলে গিয়েছিল সুদূর রোম ও পারস্যের দিকে।

শাম ম

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সমুদ্রের নীল জলরাশিতে পুরনো স্মৃতিতে ডুব দিলেন প্রভা

ইসলামী রাষ্ট্রের বিজয়যাত্রা: শামের ভূমিতে নবীন রাষ্ট্রের পদার্পণ

আপডেট সময় : ০২:৫৭:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬

মদিনার আকাশে তখন গোধূলির ম্লান আলো। মসজিদের আঙিনায় সাহাবিদের গুঞ্জন আজ অন্যদিনের চেয়ে একটু ভিন্ন। মাত্র কয়েক মাস আগে আরব উপদ্বীপের ধূলিধূসরিত প্রান্তরগুলোয় যে বিদ্রোহের আগুন দাউদাউ করে জ্বলছিল, তা এখন স্তিমিত। রিদ্দার (ধর্মত্যাগীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ) রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পর মদিনার নবীন রাষ্ট্রটি এক নতুন ভোরের মুখোমুখি। খলিফা আবু বকর মদিনার উপকণ্ঠে এক উঁচু টিলার উপর দাঁড়িয়ে উত্তর দিগন্তের দিকে তাকিয়ে আছেন। যে দিগন্তের ওপারে নীল কুয়াশায় ঢাকা সিরীয় মরুভূমি, আর তারও পরে দাঁড়িয়ে আছে হাজার বছরের প্রাচীন ও সমৃদ্ধ বৃহত্তর শাম অঞ্চল।

খলিফার দুই কাঁধে তখন বিরাট দায়িত্ব—একদিকে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর রেখে যাওয়া আমানতের সুরক্ষা, অন্যদিকে আরবের এই নতুন উদ্যমকে একটি মহৎ লক্ষ্যের দিকে পরিচালিত করা। রিদ্দার যুদ্ধের মাধ্যমে আরবের গোত্রগুলো আবার এক পতাকার নিচে এসেছে, তাদের সামরিক শক্তি এখন শানিত, তারা আত্মবিশ্বাসে পরিপূর্ণ। মদিনার শান্ত বাতাসে তখন বড় সংঘাতের ঘ্রাণ বিরাজ করছে, যেখানে আরবের এই নবজাত শক্তির প্রতিপক্ষ ছিল তৎকালীন বিশ্বের দুই পরাশক্তি—বাইজেন্টাইন ও পারস্য সাম্রাজ্য।

শাম ছিল রোম সাম্রাজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশ। সেখানে খ্রিষ্টানদের অনেক পবিত্র স্থান ও স্থাপনা অবস্থিত ছিল। পারসিকদের মতো রোমানরাও আরবদের আদিশত্রু ছিল; তবে পারসিকদের বৈরিতা ছিল মূলত রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কারণে, আর রোমানদের শত্রুতা ছিল প্রধানত ধর্মীয়ভিত্তিক।

বৃহত্তর শাম বলতে আধুনিক ভূরাজনীতির সীমানায় শুধু সিরিয়াকে বোঝায় না; বরং বর্তমান সিরিয়া, ফিলিস্তিন, জর্ডান এবং লেবাননকে নিজের বুকে ধারণ করা এক বিস্তৃত অঞ্চল বোঝায়। সপ্তম শতাব্দীর বিশ্ব ইতিহাসে শামের অবস্থান ছিল অনেকটা হীরাখচিত মুকুটের মতো, যার দিকে প্রতিটি সাম্রাজ্য তৃষ্ণার্ত চোখে তাকিয়ে থাকত।

শামের ভৌগোলিক অবস্থান একে বিশ্বের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছিল। পশ্চিমে নীল জলরাশির ভূমধ্যসাগর আর পূর্বে অন্তহীন সিরীয় মরুভূমি—এ দুইয়ের মধ্যে এক উর্বর করিডোর হিসেবে শাম দাঁড়িয়ে ছিল। এর উর্বর ভূমি এবং নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু একে মরুভূমির শুষ্ক রুক্ষতা থেকে পৃথক করেছিল। এটি ছিল তিনটি মহাদেশ—এশিয়া, আফ্রিকা এবং ইউরোপের এক মহান মিলনস্থল। প্রাচীন রেশম পথ (Silk Road) এবং লোহিত সাগর থেকে আসা ধূপ পথ (Incense Route) এই শামের বুক চিরে চলে গিয়েছিল সুদূর রোম ও পারস্যের দিকে।

শাম ম