ঢাকা ১০:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬

ধর্মদ্রোহ প্রতিরোধে খেলাফতের যুদ্ধ: শুরাহবিল ইবনে হাসানের ব্যর্থতা (তৃতীয় পর্ব)

খলিফা আবু বকর (রা.)-এর নির্দেশে তৃতীয় বাহিনী হিসেবে শুরাহবিল ইবনে হাসানের নেতৃত্বে তিন হাজার সৈন্যের একটি দল ধর্মদ্রোহীদের দমনের জন্য পাঠানো হয়। খলিফা তাঁকে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছিলেন যে, হানিফা গোত্রের কাছে পৌঁছে অপেক্ষা করতে হবে এবং সাহায্যকারী বাহিনী বা পরবর্তী নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত মুসাইলামা কাজ্জাবের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হওয়া যাবে না।

শুরাহবিল হানিফা গোত্রের কাছাকাছি পৌঁছে অবস্থান নেন এবং সাহায্যের অপেক্ষায় থাকেন। কিন্তু তাঁর মনে হলো, ইকরিমা ইবনে আবু জাহলের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে হানিফা গোত্রের সৈন্যরা হয়তো ক্লান্ত ও বিপর্যস্ত। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি একাই তাদের পরাজিত করতে পারবেন এবং অন্য কোনো সাহায্যকারী বাহিনীর প্রয়োজন হবে না। খলিফার সুস্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও, শুরাহবিল অপেক্ষা না করে আক্রমণের সিদ্ধান্ত নেন।

তিন হাজার সৈন্যের ক্ষুদ্র বাহিনী নিয়ে শুরাহবিল মুসাইলামার বিশাল বাহিনীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। কিন্তু ততক্ষণে মুসাইলামার সৈন্যসংখ্যা এক লাখে পৌঁছে গিয়েছিল। ফলে, ইকরিমার বাহিনীর মতো শুরাহবিলের বাহিনীও পরাজিত হয়। মুসাইলামার বিশাল বাহিনী শুরাহবিলের বাহিনীকে ছত্রভঙ্গ করে দেয় এবং তারা ময়দান ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।

খলিফার নির্দেশ অমান্য করার কারণে মুসলিম বাহিনী দ্বিতীয়বারের মতো বড় ক্ষতির সম্মুখীন হয়। শুরাহবিলের এই পরাজয়ের সংবাদে খলিফা আবু বকর (রা.) অত্যন্ত ব্যথিত হন এবং তাঁকে কঠোর নির্দেশ পাঠান, ‘আপনি নিজের অবস্থানে অটল থাকুন। মদিনায় ফিরে আসবেন না।’

এদিকে, মুসাইলামার বিরুদ্ধে যুদ্ধ যখন চলছিল, তখন খালিদ ইবনে ওয়ালিদ (রা.) উত্তরে বনু আসাদ ও বনু তামিম গোত্রের বিরুদ্ধে এক বিশাল ও গৌরবময় বিজয় অর্জন করেছিলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সমুদ্রের নীল জলরাশিতে পুরনো স্মৃতিতে ডুব দিলেন প্রভা

ধর্মদ্রোহ প্রতিরোধে খেলাফতের যুদ্ধ: শুরাহবিল ইবনে হাসানের ব্যর্থতা (তৃতীয় পর্ব)

আপডেট সময় : ০২:৫৬:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬

খলিফা আবু বকর (রা.)-এর নির্দেশে তৃতীয় বাহিনী হিসেবে শুরাহবিল ইবনে হাসানের নেতৃত্বে তিন হাজার সৈন্যের একটি দল ধর্মদ্রোহীদের দমনের জন্য পাঠানো হয়। খলিফা তাঁকে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছিলেন যে, হানিফা গোত্রের কাছে পৌঁছে অপেক্ষা করতে হবে এবং সাহায্যকারী বাহিনী বা পরবর্তী নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত মুসাইলামা কাজ্জাবের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হওয়া যাবে না।

শুরাহবিল হানিফা গোত্রের কাছাকাছি পৌঁছে অবস্থান নেন এবং সাহায্যের অপেক্ষায় থাকেন। কিন্তু তাঁর মনে হলো, ইকরিমা ইবনে আবু জাহলের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে হানিফা গোত্রের সৈন্যরা হয়তো ক্লান্ত ও বিপর্যস্ত। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি একাই তাদের পরাজিত করতে পারবেন এবং অন্য কোনো সাহায্যকারী বাহিনীর প্রয়োজন হবে না। খলিফার সুস্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও, শুরাহবিল অপেক্ষা না করে আক্রমণের সিদ্ধান্ত নেন।

তিন হাজার সৈন্যের ক্ষুদ্র বাহিনী নিয়ে শুরাহবিল মুসাইলামার বিশাল বাহিনীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। কিন্তু ততক্ষণে মুসাইলামার সৈন্যসংখ্যা এক লাখে পৌঁছে গিয়েছিল। ফলে, ইকরিমার বাহিনীর মতো শুরাহবিলের বাহিনীও পরাজিত হয়। মুসাইলামার বিশাল বাহিনী শুরাহবিলের বাহিনীকে ছত্রভঙ্গ করে দেয় এবং তারা ময়দান ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।

খলিফার নির্দেশ অমান্য করার কারণে মুসলিম বাহিনী দ্বিতীয়বারের মতো বড় ক্ষতির সম্মুখীন হয়। শুরাহবিলের এই পরাজয়ের সংবাদে খলিফা আবু বকর (রা.) অত্যন্ত ব্যথিত হন এবং তাঁকে কঠোর নির্দেশ পাঠান, ‘আপনি নিজের অবস্থানে অটল থাকুন। মদিনায় ফিরে আসবেন না।’

এদিকে, মুসাইলামার বিরুদ্ধে যুদ্ধ যখন চলছিল, তখন খালিদ ইবনে ওয়ালিদ (রা.) উত্তরে বনু আসাদ ও বনু তামিম গোত্রের বিরুদ্ধে এক বিশাল ও গৌরবময় বিজয় অর্জন করেছিলেন।