বৈশ্বিক অস্থিরতা ও অভ্যন্তরীণ চাহিদা বিবেচনায় দেশে জ্বালানি তেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে ভারত থেকে অতিরিক্ত ৫০ হাজার টন ডিজেল আমদানির পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। বর্তমানে ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে আসা তেলের পরিমাণ বাড়িয়ে এই ঘাটতি পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
পাইপলাইনের সক্ষমতা ও বর্তমান আমদানির চিত্র: ভারতের শিলিগুড়ি ডিপো থেকে বাংলাদেশের পার্বতীপুর ডিপো পর্যন্ত স্থাপিত পাইপলাইনের মাধ্যমে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেড (এনআরএল) থেকে ডিজেল আমদানি করে বাংলাদেশ। ২০১৭ সালে সই হওয়া ১৫ বছর মেয়াদী চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৬ সালে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৮০ হাজার টন ডিজেল আমদানির সুযোগ রয়েছে। তবে বর্তমানে প্রতি মাসে মাত্র ৫ হাজার টন ডিজেল আনা হচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এই আমদানির পরিমাণ এক লাফে অতিরিক্ত ৫০ হাজার টন বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে জ্বালানি বিভাগ।
কূটনৈতিক তৎপরতা ও সরকারি অবস্থান: জ্বালানি আমদানির এই প্রক্রিয়া দ্রুত করতে গত রোববার (৮ মার্চ) ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার সঙ্গে বৈঠক করেছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বৈঠকে তিনি জরুরি ভিত্তিতে ডিজেল সরবরাহ বাড়ানোর বিষয়ে ভারতের সহযোগিতা কামনা করেন।
জ্বালানি বিভাগের তথ্যমতে, গত তিন বছরে ভারত থেকে ডিজেল আমদানির চিত্র ছিল নিম্নরূপ:
- ২০২৩: ৩৫,৭১৮ টন
- ২০২৪: ২৮,২০৪ টন
- ২০২৫: ১,২৪,২১৬ টন
আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ: নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিপিসির একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশে তেলের কোনো মজুদ ঘাটতি নেই। তবে ভবিষ্যতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই ভারতসহ বিকল্প বিভিন্ন উৎস থেকে আমদানির আগাম পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তিনি জনসাধারণকে এ বিষয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এনআরএল-এর সঙ্গে এই অতিরিক্ত আমদানির চুক্তি সম্পন্ন হলে তা দেশের পরিবহন ও কৃষি খাতে জ্বালানি তেলের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
রিপোর্টারের নাম 























