মাহে রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। ইতিকাফ শব্দের অর্থ হলো অবস্থান করা। ইসলামী পরিভাষায়, পুরুষদের জন্য নিয়তের সঙ্গে এমন মসজিদে অবস্থান করা যেখানে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের জামাত অনুষ্ঠিত হয়, তাকে ইতিকাফ বলে। নারীদের ক্ষেত্রে, রমজানের শেষ দশকে নিয়তের সঙ্গে ঘরের ভেতর নামাজের জন্য নির্ধারিত কোনো স্থানে অবস্থান করাকে ইতিকাফ বলা হয়।
হযরত মুহাম্মদ (সা.) রমজান মাসের শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন। ইতিকাফ করা ‘সুন্নাতে কেফায়া’, অর্থাৎ সমাজের পক্ষ থেকে কেউ একজন আদায় করলে সকলের পক্ষ থেকে তা আদায় হয়ে যাবে। তবে, কেউ ইতিকাফ না করলে সমাজের সকলে গুনাহগার হতে পারে।
ইতিকাফ সহিহ হওয়ার জন্য কিছু শর্ত রয়েছে। ইতিকাফকারীকে অবশ্যই মুসলমান, জ্ঞানবান এবং গোসল ফরজ অবস্থা, হায়েজ ও নিফাস থেকে পবিত্র হতে হবে। ইতিকাফ অবস্থায় অপ্রয়োজনীয় কথা বলা থেকে বিরত থাকতে হবে এবং নেক আমলের প্রতি মনোনিবেশ করতে হবে। এ সময় কোরআন তেলাওয়াত, হাদিস পাঠ, ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন ও শিক্ষা দেওয়া, নবী-রাসুলদের জীবনী পাঠ এবং ধর্মীয় গ্রন্থ অধ্যয়ন করা অত্যন্ত উত্তম। ইতিকাফের মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর নৈকট্য লাভ এবং দুনিয়াবি কাজকর্ম থেকে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে দূরে রাখা।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা যখন মসজিদে ইতিকাফ করবে তখন স্ত্রীদের সঙ্গে সহবাস করবে না।’ (সুরা আল-বাকারা: ১৮৭)। এই আয়াতের ব্যাখ্যায় সৈয়দ কুতুব শহীদ (রহ.) বলেছেন যে, ইতিকাফের সময়টি একান্তভাবে আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের জন্য নির্দিষ্ট। তাই এই সময়ে স্ত্রী সহবাস নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যাতে বান্দা নিজেকে সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর কাছে সমর্পণ করতে পারে।
ইতিকাফের জন্য নিয়তের পাশাপাশি এমন মসজিদে অবস্থান করা উচিত যেখানে নিয়মিত জামাত অনুষ্ঠিত হয়। ইতিকাফের জন্য সর্বোত্তম স্থান হলো মসজিদুল হারাম, এরপর মসজিদে নববী (সা.), তারপর বায়তুল মোকাদ্দাস এবং তারপর জামে মসজিদ। বিনা কারণে মসজিদ থেকে বের হলে ইতিকাফ ভঙ্গ হয়ে যায়।
রিপোর্টারের নাম 

























