ঢাকা ০১:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

রমজানের ১৯তম তারাবিতে নবীজির প্রতি দরুদ ও সালামের গুরুত্ব

পবিত্র রমজান মাসে ১৯তম তারাবিতে আজ সূরা আহযাব (৩১-৭৩), সূরা সাবা, সূরা ফাতির এবং সূরা ইয়াসিন (১-২১) তেলাওয়াত করা হবে। এই অংশটি কোরআনের ২২তম পারায় অন্তর্ভুক্ত। আজকের তেলাওয়াতের মূল বিষয়বস্তু হলো নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি দরুদ ও সালাম প্রেরণ এবং মুসলিম উম্মাহর জন্য তাঁর নির্দেশনা।

সূরা আহযাবের শেষের দিকে নবীপত্নীদের প্রতি কিছু গুরুত্বপূর্ণ নসিহত পেশ করা হয়েছে। আর্থিক স্বচ্ছলতা অর্জনের আকাঙ্ক্ষা এবং আখিরাতের চিরস্থায়ী নেয়ামতের মধ্যে কোনটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ, তা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। নবীপত্নীরা আখিরাতকে প্রাধান্য দিয়ে ধৈর্য ধারণের শিক্ষা দিয়েছেন। এছাড়াও, নারীদের জন্য কিছু আদব ও শিষ্টাচার বর্ণিত হয়েছে, যেমন – কোমলতা অবলম্বন করে কথা বলা, ঘরে অবস্থান করা, জাহেলি যুগের মতো সাজসজ্জা পরিহার করা, সালাত কায়েম করা, জাকাত আদায় করা, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করা এবং কোরআন ও হাদিসের চর্চা করা।

সূরায় দশটি গুণের কথা বলা হয়েছে যা প্রত্যেক মুসলমানের মধ্যে থাকা আবশ্যক: ইসলাম, ঈমান, আল্লাহর আনুগত্য, সততা, ধৈর্য, সালাতে বিনয়, সদকা, সিয়াম, লজ্জাস্থানের হেফাজত এবং আল্লাহর অধিক জিকির। এছাড়াও, পালকপুত্রের তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীকে বিয়ে, নবীজির খতমে নবুয়ত এবং তাঁর বহুবিবাহ প্রসঙ্গে আলোকপাত করা হয়েছে। সূরাটিতে অনুমতি ছাড়া কারো ঘরে প্রবেশ না করা, দাওয়াতে খাওয়ার পর দ্রুত স্থান ত্যাগ করা এবং পর্দার আড়াল থেকে প্রয়োজনীয় জিনিস চাওয়ার মতো আদব ও শিষ্টাচারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সবশেষে, আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআন এবং বিভিন্ন আমানত পালনের দায়িত্ব মানুষকে দিয়েছেন, যা গ্রহণ করতে পাহাড়, আসমান ও জমিনও অক্ষমতা প্রকাশ করেছিল।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অস্ট্রেলিয়াকে লজ্জাজনক বিশ্বরেকর্ড উপহার দিল বাংলাদেশ

রমজানের ১৯তম তারাবিতে নবীজির প্রতি দরুদ ও সালামের গুরুত্ব

আপডেট সময় : ০৯:৫৯:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

পবিত্র রমজান মাসে ১৯তম তারাবিতে আজ সূরা আহযাব (৩১-৭৩), সূরা সাবা, সূরা ফাতির এবং সূরা ইয়াসিন (১-২১) তেলাওয়াত করা হবে। এই অংশটি কোরআনের ২২তম পারায় অন্তর্ভুক্ত। আজকের তেলাওয়াতের মূল বিষয়বস্তু হলো নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি দরুদ ও সালাম প্রেরণ এবং মুসলিম উম্মাহর জন্য তাঁর নির্দেশনা।

সূরা আহযাবের শেষের দিকে নবীপত্নীদের প্রতি কিছু গুরুত্বপূর্ণ নসিহত পেশ করা হয়েছে। আর্থিক স্বচ্ছলতা অর্জনের আকাঙ্ক্ষা এবং আখিরাতের চিরস্থায়ী নেয়ামতের মধ্যে কোনটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ, তা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। নবীপত্নীরা আখিরাতকে প্রাধান্য দিয়ে ধৈর্য ধারণের শিক্ষা দিয়েছেন। এছাড়াও, নারীদের জন্য কিছু আদব ও শিষ্টাচার বর্ণিত হয়েছে, যেমন – কোমলতা অবলম্বন করে কথা বলা, ঘরে অবস্থান করা, জাহেলি যুগের মতো সাজসজ্জা পরিহার করা, সালাত কায়েম করা, জাকাত আদায় করা, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করা এবং কোরআন ও হাদিসের চর্চা করা।

সূরায় দশটি গুণের কথা বলা হয়েছে যা প্রত্যেক মুসলমানের মধ্যে থাকা আবশ্যক: ইসলাম, ঈমান, আল্লাহর আনুগত্য, সততা, ধৈর্য, সালাতে বিনয়, সদকা, সিয়াম, লজ্জাস্থানের হেফাজত এবং আল্লাহর অধিক জিকির। এছাড়াও, পালকপুত্রের তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীকে বিয়ে, নবীজির খতমে নবুয়ত এবং তাঁর বহুবিবাহ প্রসঙ্গে আলোকপাত করা হয়েছে। সূরাটিতে অনুমতি ছাড়া কারো ঘরে প্রবেশ না করা, দাওয়াতে খাওয়ার পর দ্রুত স্থান ত্যাগ করা এবং পর্দার আড়াল থেকে প্রয়োজনীয় জিনিস চাওয়ার মতো আদব ও শিষ্টাচারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সবশেষে, আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআন এবং বিভিন্ন আমানত পালনের দায়িত্ব মানুষকে দিয়েছেন, যা গ্রহণ করতে পাহাড়, আসমান ও জমিনও অক্ষমতা প্রকাশ করেছিল।