ঢাকা ০৮:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

শিক্ষিকা হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে উত্তাল ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে নৃশংসভাবে হত্যার প্রতিবাদ এবং হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ইবি শিক্ষকরা।

রবিবার বেলা ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন জিয়া পরিষদ, ইউট্যাব ও গ্রীণ ফোরামের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং শাখা ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা। মানববন্ধনে উপস্থিত হয়ে সংহতি জানান ইবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলী ও ট্রেজারার অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন হত্যাকাণ্ডের শিকার শিক্ষিকার স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান ও চার সন্তানসহ আত্মীয় স্বজনরা।

এসময় ইউট্যাবের সাংগঠনিক সম্পাদক ড. গফুর গাজী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে রক্তের দাগ মুছতে না মুছতেই আবারো রক্তের ছাপ লেগে গেছে। হত্যাকারীদের এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে যাতে এই ক্যাম্পাসে আর কখনো হত্যাকাণ্ড না হয়। আর কোনো রক্তের দাগ আমাদের দেখতে না হয়। গ্রীণ ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, শিক্ষিকা রুনা অত্যন্ত সৎ ও বিনয়ী ছিলেন। অফিসকক্ষে তাকে হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দাবি জানান তিনি। প্রত্যেকটি ভবন এলাকায় আনসার মোতায়েন করে নিরাপত্তা নিশ্চিতেরও আহ্বান জানান।

জিয়া পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. ফারুকুজ্জামান খান বলেন, কিছুদিন আগে ক্যাম্পাসে ছাত্র নিহত হয়েছে। এখন পর্যন্ত পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন থেকে একটা বিবৃতিও পাইনি। ওই হত্যাকাণ্ডই শিক্ষিকা হত্যাকাণ্ডের জন্ম দিয়েছে। অপরাধী যখন বুঝতে পারে অপরাধ করলে কোনো শাস্তি হবে না, তখন সে নৃশংস থেকে নৃশংসতর হয়ে ওঠে। ইবি প্রশাসনকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, যদি আপনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গিয়ে বিচার না পান, তাহলে আমরা ছাত্র-শিক্ষকরা মিলে রাস্তায় দাঁড়াব, কিন্তু আপনি বসে থাকবেন না।

উপাচার্য ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এটি নজিরবিহীন ঘটনা। হত্যার বিচারের জন্য রাজনৈতিক সরকারের যে পর্যায়ে যাওয়া প্রয়োজন, প্রশাসন যাবে। একটি মামলা হয়েছে, আমরাও একটা কমিটি করেছি। বিভাগ যাতে সচল থাকে, সে ব্যাপারেও আমরা কাজ করছি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিআরটি প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী

শিক্ষিকা হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে উত্তাল ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস

আপডেট সময় : ০৭:৩২:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে নৃশংসভাবে হত্যার প্রতিবাদ এবং হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ইবি শিক্ষকরা।

রবিবার বেলা ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন জিয়া পরিষদ, ইউট্যাব ও গ্রীণ ফোরামের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং শাখা ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা। মানববন্ধনে উপস্থিত হয়ে সংহতি জানান ইবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলী ও ট্রেজারার অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন হত্যাকাণ্ডের শিকার শিক্ষিকার স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান ও চার সন্তানসহ আত্মীয় স্বজনরা।

এসময় ইউট্যাবের সাংগঠনিক সম্পাদক ড. গফুর গাজী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে রক্তের দাগ মুছতে না মুছতেই আবারো রক্তের ছাপ লেগে গেছে। হত্যাকারীদের এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে যাতে এই ক্যাম্পাসে আর কখনো হত্যাকাণ্ড না হয়। আর কোনো রক্তের দাগ আমাদের দেখতে না হয়। গ্রীণ ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, শিক্ষিকা রুনা অত্যন্ত সৎ ও বিনয়ী ছিলেন। অফিসকক্ষে তাকে হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দাবি জানান তিনি। প্রত্যেকটি ভবন এলাকায় আনসার মোতায়েন করে নিরাপত্তা নিশ্চিতেরও আহ্বান জানান।

জিয়া পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. ফারুকুজ্জামান খান বলেন, কিছুদিন আগে ক্যাম্পাসে ছাত্র নিহত হয়েছে। এখন পর্যন্ত পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন থেকে একটা বিবৃতিও পাইনি। ওই হত্যাকাণ্ডই শিক্ষিকা হত্যাকাণ্ডের জন্ম দিয়েছে। অপরাধী যখন বুঝতে পারে অপরাধ করলে কোনো শাস্তি হবে না, তখন সে নৃশংস থেকে নৃশংসতর হয়ে ওঠে। ইবি প্রশাসনকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, যদি আপনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গিয়ে বিচার না পান, তাহলে আমরা ছাত্র-শিক্ষকরা মিলে রাস্তায় দাঁড়াব, কিন্তু আপনি বসে থাকবেন না।

উপাচার্য ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এটি নজিরবিহীন ঘটনা। হত্যার বিচারের জন্য রাজনৈতিক সরকারের যে পর্যায়ে যাওয়া প্রয়োজন, প্রশাসন যাবে। একটি মামলা হয়েছে, আমরাও একটা কমিটি করেছি। বিভাগ যাতে সচল থাকে, সে ব্যাপারেও আমরা কাজ করছি।