দেশের বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষক, ছাত্র, ডাক্তার, প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন পেশার প্রায় ১২০০ বিশিষ্ট নাগরিক ‘ট্রান্সজেন্ডারদের পুরস্কৃত করার অপচেষ্টা বন্ধ করুন’ শীর্ষক একটি যৌথ বিবৃতি প্রদান করেছেন। গত রোববার (৮ মার্চ) এই বিবৃতিটি প্রকাশ করা হয়।
মূল্যবোধ আন্দোলনের মুখপাত্র প্রকৌশলী মুহাম্মাদ সাদাত কর্তৃক প্রেরিত এই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর কর্তৃক ঘোষিত জাতীয় যুব পুরস্কার-২০২৬ এর বিজ্ঞপ্তিতে জাতীয় যুব পুরস্কার নীতিমালা (সংশোধিত) ২০২৬ অনুযায়ী মোট ২০টি পুরস্কারের মধ্যে দুটি পুরস্কার (১০%) ট্রান্সজেন্ডারদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে সফল আত্মকর্মী ক্যাটাগরির ১৪টি পুরস্কারের মধ্যে একটি এবং যুব সংগঠক ক্যাটাগরির ৬টি পুরস্কারের মধ্যে একটি ট্রান্সজেন্ডারদের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয় যে, বাংলাদেশের সরকারি নীতিমালায় বর্তমানে স্বীকৃত লিঙ্গ কেবল তিনটি— নারী, পুরুষ এবং হিজড়া। ‘ট্রান্সজেন্ডার’ নামে কোনো লিঙ্গকে বাংলাদেশ সরকার এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়নি। এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠেছে, সরকারি স্বীকৃতির বাইরে থাকা একটি ধারণাকে কীভাবে রাষ্ট্রীয় নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করা হলো এবং সেই নীতির ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় পুরস্কার প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হলো?
বিবৃতিতে আরও স্পষ্ট করা হয়েছে যে, হিজড়া এবং ট্রান্সজেন্ডার এক বিষয় নয়। হিজড়ারা জন্মগতভাবে লিঙ্গগত জটিলতা বা প্রতিবন্ধিতায় আক্রান্ত একটি মানবিক গোষ্ঠী, যাদের পুনর্বাসন ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের নৈতিক দায়িত্ব। কিন্তু তথাকথিত ট্রান্সজেন্ডার ধারণা একটি ভিন্ন মতবাদ, যেখানে জন্মগতভাবে সুস্থ একজন ব্যক্তি নিজেকে বিপরীত লিঙ্গের বলে দাবি করেন।
বিবৃতিতে বাংলাদেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ৯১ শতাংশ মুসলিম অধ্যুষিত এই দেশে ইসলামি ঐতিহ্যের সঙ্গে এখানকার মূল্যবোধ গভীরভাবে সম্পৃক্ত। ইসলামের সুস্পষ্ট শিক্ষা এবং বিশ্বের অধিকাংশ আলেম-উলামার মতে, তথাকথিত ট্রান্সজেন্ডারবাদ একটি বিকৃত মতবাদ যা মানুষের স্বাভাবিক ও প্রাকৃতিক লিঙ্গ পরিচয়কে অস্বীকার করে।
বিবৃতিতে দুঃখ প্রকাশ করে বলা হয়েছে যে, বিগত সময়ে এই মতবাদকে বিভিন্নভাবে উৎসাহিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 

























