ঢাকা ০৩:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২৬

গুলিয়াখালী সমুদ্রসৈকত: যেখানে সবুজের মায়ায় সমুদ্রের হাতছানি

শহরের কর্মব্যস্ততা, ধুলোবালি আর মানসিক চাপ থেকে সাময়িক মুক্তি পেতে অনেকেই প্রকৃতির সান্নিধ্য খোঁজেন। তেমনি এক অব্যক্ত অস্থিরতা থেকে মুক্তির খোঁজে যাত্রা শুরু হয়েছিল গুলিয়াখালী সমুদ্রসৈকতের দিকে। যেখানে কোলাহলমুক্ত পরিবেশে নিজের ভেতরের শব্দগুলো স্পষ্ট শোনা যায়, আর প্রকৃতি তার অপার সৌন্দর্য নিয়ে ধরা দেয় নতুন রূপে।

ভোররাতে ঢাকা ছাড়ার পর মহাসড়কে বাসের ছুটে চলার সাথে সাথে যেন মানসিক ভারও ক্রমশ হালকা হতে থাকে। জানালার কাচে ভেসে আসা আলো-ছায়ার খেলায় পরিচিত নগরীর দৃশ্যপট ধীরে ধীরে পেছনে ফেলে আসে। সকালে সীতাকুণ্ড বাজারে পৌঁছে শহরতলির চেনা চিত্র—দোকানপাট, চায়ের কাপের ধোঁয়া আর রিকশার টুংটাং শব্দ। সেখান থেকে সিএনজি নিয়ে বেড়িবাঁধের দিকে এগোতেই দৃশ্যপট বদলে যেতে শুরু করে। কংক্রিটের দেয়াল সরে গিয়ে জায়গা নেয় উন্মুক্ত আকাশ, আর নোনা বাতাস জানান দেয় সমুদ্রের নৈকট্য। বেড়িবাঁধ থেকে প্রায় ১৫-২০ মিনিটের হাঁটা পথই যেন শহরের সব শব্দ ভুলিয়ে দিয়ে মনকে প্রস্তুত করে তোলে প্রকৃতির সান্নিধ্যের জন্য।

গুলিয়াখালীর প্রথম যে জিনিসটি মুগ্ধ করে তা হলো সমুদ্র নয়, বরং তার আগে বিস্তৃত সবুজ ঘাসের প্রান্তর। যেন মাটির ওপর বিছানো এক বিশাল কার্পেট, যা আঁকাবাঁকা সরু খাল দ্বারা বিভক্ত। ভাটার সময় খালের গায়ে কাদার নকশা, ছোট কাঁকড়ার আনাগোনা আর শ্যাওলার রেখা দেখা যায়। জোয়ারের সময় এই খালগুলো নীল জলে ভরে ওঠে এবং সবুজের বুক চিরে ছোট ছোট নদীর মতো বয়ে যায়। এই অনন্য দৃশ্যই গুলিয়াখালীকে অন্য সব সমুদ্রসৈকত থেকে আলাদা করে তোলে।

একসময় জেলেদের নিরিবিলি মাছ ধরার স্থান হিসেবে পরিচিত ছিল এই জায়গাটি। স্থানীয়দের মতে, ২০১৪ সালের দিকে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থী এখানে ঘুরে ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিলে স্থানটি পরিচিতি পেতে শুরু করে। ধীরে ধীরে ভ্রমণপিপাসুরা এখানে আসতে শুরু করলেও, এখনো এখানে বড় কোনো রিসোর্ট, উঁচু হোটেল কিংবা সারি সারি দোকানের বাণিজ্যিক দখল নেই। এই অনাড়ম্বরতাই গুলিয়াখালীর প্রধান সৌন্দর্য ও আকর্ষণ।

চট্টগ্রাম জেলার উপকূলে অবস্থিত এই সৈকতটি তার বালুকাবেলা, সবুজ ঘাসের মাঠ এবং শান্ত পরিবেশের জন্য অনন্য। কক্সবাজারের মতো দীর্ঘ বালুকাবেলা বা বাণিজ্যিক কোলাহল না থাকলেও, গুলিয়াখালী তার নিজস্ব শান্ত আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দিয়ে ভ্রমণকারীদের মনে এক ভিন্নরকম প্রশান্তি এনে দেয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইফতারিতে প্রাণ জুড়াক ফলের সতেজতায়: রকমারি সালাদের রেসিপি

গুলিয়াখালী সমুদ্রসৈকত: যেখানে সবুজের মায়ায় সমুদ্রের হাতছানি

আপডেট সময় : ০১:৪৭:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

শহরের কর্মব্যস্ততা, ধুলোবালি আর মানসিক চাপ থেকে সাময়িক মুক্তি পেতে অনেকেই প্রকৃতির সান্নিধ্য খোঁজেন। তেমনি এক অব্যক্ত অস্থিরতা থেকে মুক্তির খোঁজে যাত্রা শুরু হয়েছিল গুলিয়াখালী সমুদ্রসৈকতের দিকে। যেখানে কোলাহলমুক্ত পরিবেশে নিজের ভেতরের শব্দগুলো স্পষ্ট শোনা যায়, আর প্রকৃতি তার অপার সৌন্দর্য নিয়ে ধরা দেয় নতুন রূপে।

ভোররাতে ঢাকা ছাড়ার পর মহাসড়কে বাসের ছুটে চলার সাথে সাথে যেন মানসিক ভারও ক্রমশ হালকা হতে থাকে। জানালার কাচে ভেসে আসা আলো-ছায়ার খেলায় পরিচিত নগরীর দৃশ্যপট ধীরে ধীরে পেছনে ফেলে আসে। সকালে সীতাকুণ্ড বাজারে পৌঁছে শহরতলির চেনা চিত্র—দোকানপাট, চায়ের কাপের ধোঁয়া আর রিকশার টুংটাং শব্দ। সেখান থেকে সিএনজি নিয়ে বেড়িবাঁধের দিকে এগোতেই দৃশ্যপট বদলে যেতে শুরু করে। কংক্রিটের দেয়াল সরে গিয়ে জায়গা নেয় উন্মুক্ত আকাশ, আর নোনা বাতাস জানান দেয় সমুদ্রের নৈকট্য। বেড়িবাঁধ থেকে প্রায় ১৫-২০ মিনিটের হাঁটা পথই যেন শহরের সব শব্দ ভুলিয়ে দিয়ে মনকে প্রস্তুত করে তোলে প্রকৃতির সান্নিধ্যের জন্য।

গুলিয়াখালীর প্রথম যে জিনিসটি মুগ্ধ করে তা হলো সমুদ্র নয়, বরং তার আগে বিস্তৃত সবুজ ঘাসের প্রান্তর। যেন মাটির ওপর বিছানো এক বিশাল কার্পেট, যা আঁকাবাঁকা সরু খাল দ্বারা বিভক্ত। ভাটার সময় খালের গায়ে কাদার নকশা, ছোট কাঁকড়ার আনাগোনা আর শ্যাওলার রেখা দেখা যায়। জোয়ারের সময় এই খালগুলো নীল জলে ভরে ওঠে এবং সবুজের বুক চিরে ছোট ছোট নদীর মতো বয়ে যায়। এই অনন্য দৃশ্যই গুলিয়াখালীকে অন্য সব সমুদ্রসৈকত থেকে আলাদা করে তোলে।

একসময় জেলেদের নিরিবিলি মাছ ধরার স্থান হিসেবে পরিচিত ছিল এই জায়গাটি। স্থানীয়দের মতে, ২০১৪ সালের দিকে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থী এখানে ঘুরে ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিলে স্থানটি পরিচিতি পেতে শুরু করে। ধীরে ধীরে ভ্রমণপিপাসুরা এখানে আসতে শুরু করলেও, এখনো এখানে বড় কোনো রিসোর্ট, উঁচু হোটেল কিংবা সারি সারি দোকানের বাণিজ্যিক দখল নেই। এই অনাড়ম্বরতাই গুলিয়াখালীর প্রধান সৌন্দর্য ও আকর্ষণ।

চট্টগ্রাম জেলার উপকূলে অবস্থিত এই সৈকতটি তার বালুকাবেলা, সবুজ ঘাসের মাঠ এবং শান্ত পরিবেশের জন্য অনন্য। কক্সবাজারের মতো দীর্ঘ বালুকাবেলা বা বাণিজ্যিক কোলাহল না থাকলেও, গুলিয়াখালী তার নিজস্ব শান্ত আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দিয়ে ভ্রমণকারীদের মনে এক ভিন্নরকম প্রশান্তি এনে দেয়।