ঢাকা ০৭:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬

সরকার গঠনে ব্যর্থ থালাপতি বিজয়, রাজ্যপালের শর্ত ‘প্রমাণ আনুন ১১৮ বিধায়কের সমর্থন’

তামিলনাড়ুতে সরকার গঠনের দাবি নিয়ে দ্বিতীয় দিনেও রাজভবন থেকে খালি হাতে ফিরতে হলো জনপ্রিয় অভিনেতা ও টিভিকে প্রধান থালাপতি বিজয়কে। রাজ্যপাল রাজেন্দ্র আরলেকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, পর্যাপ্ত বিধায়কের সমর্থন না থাকায় এখনই শপথ গ্রহণ সম্ভব নয়। অন্তত ১১৮ জন বিধায়কের লিখিত সমর্থনের প্রমাণ দিলেই কেবল তাকে সরকার গঠনের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হবে।

বৃহস্পতিবার বিজয়ের সঙ্গে আলোচনার সময় রাজ্যপাল বলেন, ‘দয়া করে ১১৮ জন বিধায়কের স্বাক্ষরসহ সমর্থনের প্রমাণ নিয়ে আসুন। তারপরই শপথ গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।’ রাজ্যভবনের সূত্রমতে, সরকার গঠনের পর যাতে কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা তৈরি না হয় এবং দ্রুত সরকার ভেঙে না যায়, তা নিশ্চিত করতেই রাজ্যপাল লিখিত সমর্থনের ওপর জোর দিয়েছেন।

রাজ্যপাল বিজয়ের প্রতি আশ্বাস দিয়েছেন যে, তিনি অন্য কোনো দলকে সরকার গঠনের জন্য এখনই ডাকবেন না। বর্তমান বিধানসভার মেয়াদ আগামী ৯ মে শেষ হতে চলায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য রাজ্যপালের হাতে এখনো কয়েক দিন সময় আছে। উল্লেখ্য, এআইএডিএমকে নেতা এডাপ্পাদি কে পালানিস্বামী (ইপিএস) এখনো পর্যন্ত রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করার জন্য কোনো সময় চাননি।

এর আগে বুধবার বিজয় ১১২ জন বিধায়কের সমর্থন নিয়ে রাজভবনে গিয়েছিলেন। তিনি কংগ্রেসের ৫ জন বিধায়কের সমর্থনের কথা মৌখিকভাবে জানালেও রাজ্যপাল তা অপর্যাপ্ত বলে খারিজ করে দেন। নির্বাচনে দুটি আসনে জয়ী হওয়া বিজয় একটি আসন ছেড়ে দিলে তার দলের কার্যকর শক্তি দাঁড়াবে ১০৭। কংগ্রেসের ৫ জনসহ এই জোটের বর্তমান সদস্য সংখ্যা ১১২, যা সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার চেয়ে ৫টি কম।

বিজয়ের সরকার গঠনের সুযোগ না দেওয়ায় বিজেপি এবং কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলেছে ভিসিকে প্রধান থল থিরুমাভালাভান। তিনি বলেন, ‘বিজেপি, অমিত শাহ ও মোদি তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। সংবিধান অনুযায়ী একক বৃহত্তম দলের নেতা হিসেবে বিজয়কে শপথ নেওয়ার সুযোগ দিয়ে পরে বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের সময় দেওয়া উচিত।’ একই সুর শোনা গেছে সিপিআই-এর তামিলনাড়ু শাখার পক্ষ থেকেও। তারা জানিয়েছে, শপথের আগে বিজয়কে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে বলা ‘অসংগত’ এবং রাজ্যপালের উচিত সংবিধান অনুযায়ী কাজ করা। ভারতের সংবিধানের ১৬৪(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাজ্যপাল মুখ্যমন্ত্রী নিয়োগের ক্ষমতা রাখেন। তবে, ঝুলন্ত বিধানসভার ক্ষেত্রে কাকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে, সে বিষয়ে রাজ্যপালের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নতুন কোচের বেতন সর্বোচ্চ ৪০ হাজার ডলার, সর্বনিম্ন ১৫ হাজার

সরকার গঠনে ব্যর্থ থালাপতি বিজয়, রাজ্যপালের শর্ত ‘প্রমাণ আনুন ১১৮ বিধায়কের সমর্থন’

আপডেট সময় : ০৫:৫৮:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

তামিলনাড়ুতে সরকার গঠনের দাবি নিয়ে দ্বিতীয় দিনেও রাজভবন থেকে খালি হাতে ফিরতে হলো জনপ্রিয় অভিনেতা ও টিভিকে প্রধান থালাপতি বিজয়কে। রাজ্যপাল রাজেন্দ্র আরলেকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, পর্যাপ্ত বিধায়কের সমর্থন না থাকায় এখনই শপথ গ্রহণ সম্ভব নয়। অন্তত ১১৮ জন বিধায়কের লিখিত সমর্থনের প্রমাণ দিলেই কেবল তাকে সরকার গঠনের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হবে।

বৃহস্পতিবার বিজয়ের সঙ্গে আলোচনার সময় রাজ্যপাল বলেন, ‘দয়া করে ১১৮ জন বিধায়কের স্বাক্ষরসহ সমর্থনের প্রমাণ নিয়ে আসুন। তারপরই শপথ গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।’ রাজ্যভবনের সূত্রমতে, সরকার গঠনের পর যাতে কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা তৈরি না হয় এবং দ্রুত সরকার ভেঙে না যায়, তা নিশ্চিত করতেই রাজ্যপাল লিখিত সমর্থনের ওপর জোর দিয়েছেন।

রাজ্যপাল বিজয়ের প্রতি আশ্বাস দিয়েছেন যে, তিনি অন্য কোনো দলকে সরকার গঠনের জন্য এখনই ডাকবেন না। বর্তমান বিধানসভার মেয়াদ আগামী ৯ মে শেষ হতে চলায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য রাজ্যপালের হাতে এখনো কয়েক দিন সময় আছে। উল্লেখ্য, এআইএডিএমকে নেতা এডাপ্পাদি কে পালানিস্বামী (ইপিএস) এখনো পর্যন্ত রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করার জন্য কোনো সময় চাননি।

এর আগে বুধবার বিজয় ১১২ জন বিধায়কের সমর্থন নিয়ে রাজভবনে গিয়েছিলেন। তিনি কংগ্রেসের ৫ জন বিধায়কের সমর্থনের কথা মৌখিকভাবে জানালেও রাজ্যপাল তা অপর্যাপ্ত বলে খারিজ করে দেন। নির্বাচনে দুটি আসনে জয়ী হওয়া বিজয় একটি আসন ছেড়ে দিলে তার দলের কার্যকর শক্তি দাঁড়াবে ১০৭। কংগ্রেসের ৫ জনসহ এই জোটের বর্তমান সদস্য সংখ্যা ১১২, যা সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার চেয়ে ৫টি কম।

বিজয়ের সরকার গঠনের সুযোগ না দেওয়ায় বিজেপি এবং কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলেছে ভিসিকে প্রধান থল থিরুমাভালাভান। তিনি বলেন, ‘বিজেপি, অমিত শাহ ও মোদি তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। সংবিধান অনুযায়ী একক বৃহত্তম দলের নেতা হিসেবে বিজয়কে শপথ নেওয়ার সুযোগ দিয়ে পরে বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের সময় দেওয়া উচিত।’ একই সুর শোনা গেছে সিপিআই-এর তামিলনাড়ু শাখার পক্ষ থেকেও। তারা জানিয়েছে, শপথের আগে বিজয়কে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে বলা ‘অসংগত’ এবং রাজ্যপালের উচিত সংবিধান অনুযায়ী কাজ করা। ভারতের সংবিধানের ১৬৪(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাজ্যপাল মুখ্যমন্ত্রী নিয়োগের ক্ষমতা রাখেন। তবে, ঝুলন্ত বিধানসভার ক্ষেত্রে কাকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে, সে বিষয়ে রাজ্যপালের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।