ঢাকা ১১:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২৬

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত কর্তৃপক্ষ গঠনের চিন্তা

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়হীনতা কমাতে ও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের লক্ষ্যে বিভিন্ন সংস্থার কার্যক্রম এক প্ল্যাটফর্মে এনে একটি সমন্বিত কর্তৃপক্ষ গঠনের পরিকল্পনা করছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের অধীন বা সংশ্লিষ্ট একাধিক সংস্থা বর্তমানে আলাদা কাঠামোর অধীনে রয়েছে। ফলে কাজে সমন্বয়ের ঘাটতি, সময়ক্ষেপণ এবং ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, দুর্যোগ মোকাবিলায় কাজ করা বিভিন্ন সংস্থাকে এক ছাতার নিচে এনে একটি স্বতন্ত্র কর্তৃপক্ষ গঠন করা হবে। প্রস্তাবটি চূড়ান্ত হলে দুর্যোগ মোকাবিলা, উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ, প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমÑসবকিছু একটি সমন্বিত কাঠামোর অধীন পরিচালিত হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে একাধিক সংস্থা ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন যুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেÑবাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, সাইক্লোন প্রিপেয়ার্ডনেস প্রোগ্রাম (সিপিপি), রোভার স্কাউটসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী ও সহায়ক প্রতিষ্ঠান। এসব সংস্থার কাজের ধরন অনেক ক্ষেত্রে একই ধরনের। কিন্তু সংস্থাগুলো আলাদা কাঠামো ও ব্যবস্থাপনার মধ্যে পরিচালিত হচ্ছে। ফলে মাঠপর্যায়ে সমন্বয়হীনতা তৈরি হয়।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের এক যুগ্ম সচিব নাম প্রকাশ না করার শর্তে আমার দেশকে বলেন, কর্তৃপক্ষ আলাদা হলেও তাদের কাজের ধরন প্রায় একই। দুর্যোগ মোকাবিলার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি। তাই বিভিন্ন সংস্থাকে এক ছাতার নিচে এনে একটি সমন্বিত কর্তৃপক্ষ গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ই বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিক প্রস্তাব তৈরি করা হয়। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সেটি আবার আলোচনায় এসেছে। আগামী ১১ মার্চ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে মতবিনিময়ের কথা রয়েছে। ওই বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের অগ্রগতি, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় সমন্বিত কর্তৃপক্ষ গঠনের প্রস্তাব তুলে ধরা হতে পারে।

মন্ত্রণালয় মনে করছে, এ ধরনের একটি কর্তৃপক্ষ গঠন করা হলে দুর্যোগ মোকাবিলায় দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম বাস্তবায়ন এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করা সহজ হবে। পাশাপাশি প্রশাসনিক জটিলতা কমবে এবং ব্যয় ও সময়ের অপচয়ও অনেকাংশে কমে আসবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সামনে বৈশাখ মাস। বৈশাখ, জ্যৈষ্ঠ ও আষাঢ়Ñএ তিন মাসকে বাংলাদেশের ঋতুবদলের সময় হিসেবে ধরা হয়। এ মৌসুমে ঝড়, কালবৈশাখী, ঘূর্ণিঝড় ও বন্যাসহ বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি থাকে। ফলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে আগাম প্রস্তুতি এবং সমন্বিত ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রীর নীতিগত সম্মতি পেলে সমন্বিত দুর্যোগ কর্তৃপক্ষ গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করতে চায় মন্ত্রণালয়।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশের দুর্যোগের ধরন ও তীব্রতা বাড়ছে। এ বাস্তবতায় সমন্বিত ও আধুনিক কাঠামোর মাধ্যমে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা হলে দুর্যোগ মোকাবিলায় দেশের প্রস্তুতি আরো শক্তিশালী হবে।

এ বিষয়ে আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ আবদুল মান্নান আমার দেশকে বলেন, বাংলাদেশ ভৌগোলিকভাবে দুর্যোগপ্রবণ দেশ। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, কালবৈশাখী কিংবা জলোচ্ছ্বাসÑপ্রতিটি দুর্যোগ মোকাবিলায় দ্রুত সিদ্ধান্ত ও সমন্বিত ব্যবস্থা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন সংস্থা যদি আলাদা আলাদা কাঠামোয় কাজ করে, তাহলে অনেক সময় কার্যক্রমে দেরি হয়। তাই সমন্বিত একটি কর্তৃপক্ষ থাকলে পরিকল্পনা গ্রহণ, তথ্য আদান-প্রদান এবং মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম বাস্তবায়ন অনেক সহজ হবে।

তিনি আরো বলেন, বিশ্বের অনেক দুর্যোগপ্রবণ দেশে কেন্দ্রীয় সমন্বয় কাঠামোর মাধ্যমে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করা হয়। বাংলাদেশেও এমন একটি শক্তিশালী সমন্বিত কাঠামো গড়ে উঠলে তা দুর্যোগ মোকাবিলায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত কর্তৃপক্ষ গঠনের চিন্তা

আপডেট সময় : ০৯:৪৩:৫৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়হীনতা কমাতে ও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের লক্ষ্যে বিভিন্ন সংস্থার কার্যক্রম এক প্ল্যাটফর্মে এনে একটি সমন্বিত কর্তৃপক্ষ গঠনের পরিকল্পনা করছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের অধীন বা সংশ্লিষ্ট একাধিক সংস্থা বর্তমানে আলাদা কাঠামোর অধীনে রয়েছে। ফলে কাজে সমন্বয়ের ঘাটতি, সময়ক্ষেপণ এবং ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, দুর্যোগ মোকাবিলায় কাজ করা বিভিন্ন সংস্থাকে এক ছাতার নিচে এনে একটি স্বতন্ত্র কর্তৃপক্ষ গঠন করা হবে। প্রস্তাবটি চূড়ান্ত হলে দুর্যোগ মোকাবিলা, উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ, প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমÑসবকিছু একটি সমন্বিত কাঠামোর অধীন পরিচালিত হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে একাধিক সংস্থা ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন যুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেÑবাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, সাইক্লোন প্রিপেয়ার্ডনেস প্রোগ্রাম (সিপিপি), রোভার স্কাউটসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী ও সহায়ক প্রতিষ্ঠান। এসব সংস্থার কাজের ধরন অনেক ক্ষেত্রে একই ধরনের। কিন্তু সংস্থাগুলো আলাদা কাঠামো ও ব্যবস্থাপনার মধ্যে পরিচালিত হচ্ছে। ফলে মাঠপর্যায়ে সমন্বয়হীনতা তৈরি হয়।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের এক যুগ্ম সচিব নাম প্রকাশ না করার শর্তে আমার দেশকে বলেন, কর্তৃপক্ষ আলাদা হলেও তাদের কাজের ধরন প্রায় একই। দুর্যোগ মোকাবিলার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি। তাই বিভিন্ন সংস্থাকে এক ছাতার নিচে এনে একটি সমন্বিত কর্তৃপক্ষ গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ই বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিক প্রস্তাব তৈরি করা হয়। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সেটি আবার আলোচনায় এসেছে। আগামী ১১ মার্চ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে মতবিনিময়ের কথা রয়েছে। ওই বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের অগ্রগতি, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় সমন্বিত কর্তৃপক্ষ গঠনের প্রস্তাব তুলে ধরা হতে পারে।

মন্ত্রণালয় মনে করছে, এ ধরনের একটি কর্তৃপক্ষ গঠন করা হলে দুর্যোগ মোকাবিলায় দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম বাস্তবায়ন এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করা সহজ হবে। পাশাপাশি প্রশাসনিক জটিলতা কমবে এবং ব্যয় ও সময়ের অপচয়ও অনেকাংশে কমে আসবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সামনে বৈশাখ মাস। বৈশাখ, জ্যৈষ্ঠ ও আষাঢ়Ñএ তিন মাসকে বাংলাদেশের ঋতুবদলের সময় হিসেবে ধরা হয়। এ মৌসুমে ঝড়, কালবৈশাখী, ঘূর্ণিঝড় ও বন্যাসহ বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি থাকে। ফলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে আগাম প্রস্তুতি এবং সমন্বিত ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রীর নীতিগত সম্মতি পেলে সমন্বিত দুর্যোগ কর্তৃপক্ষ গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করতে চায় মন্ত্রণালয়।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশের দুর্যোগের ধরন ও তীব্রতা বাড়ছে। এ বাস্তবতায় সমন্বিত ও আধুনিক কাঠামোর মাধ্যমে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা হলে দুর্যোগ মোকাবিলায় দেশের প্রস্তুতি আরো শক্তিশালী হবে।

এ বিষয়ে আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ আবদুল মান্নান আমার দেশকে বলেন, বাংলাদেশ ভৌগোলিকভাবে দুর্যোগপ্রবণ দেশ। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, কালবৈশাখী কিংবা জলোচ্ছ্বাসÑপ্রতিটি দুর্যোগ মোকাবিলায় দ্রুত সিদ্ধান্ত ও সমন্বিত ব্যবস্থা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন সংস্থা যদি আলাদা আলাদা কাঠামোয় কাজ করে, তাহলে অনেক সময় কার্যক্রমে দেরি হয়। তাই সমন্বিত একটি কর্তৃপক্ষ থাকলে পরিকল্পনা গ্রহণ, তথ্য আদান-প্রদান এবং মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম বাস্তবায়ন অনেক সহজ হবে।

তিনি আরো বলেন, বিশ্বের অনেক দুর্যোগপ্রবণ দেশে কেন্দ্রীয় সমন্বয় কাঠামোর মাধ্যমে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করা হয়। বাংলাদেশেও এমন একটি শক্তিশালী সমন্বিত কাঠামো গড়ে উঠলে তা দুর্যোগ মোকাবিলায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।