ঢাকা ০৬:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬

গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের প্রতিবাদে জেরুজালেম সাহিত্য উৎসবে অংশ নিচ্ছেন না নোবেলজয়ী লেখক জে. এম. কোয়েটজি

দক্ষিণ আফ্রিকার নোবেলজয়ী লেখক জে. এম. কোয়েটজি গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের প্রতিবাদে জেরুজালেম ইন্টারন্যাশনাল রাইটার্স ফেস্টিভ্যালে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। উৎসব কর্তৃপক্ষকে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযানকে ‘গণহত্যামূলক অভিযান’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, এই ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের ভাবমূর্তি গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তার মতে, ‘ইসরায়েলের কলঙ্ক মুছতে বহু বছর সময় লাগবে।’

কোয়েটজি তার চিঠিতে উল্লেখ করেন যে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর গাজায় ইসরায়েলের যে সামরিক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে, তা তাকে ব্যক্তিগতভাবে হতাশ ও বিচলিত করেছে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে যারা ইসরায়েলকে সমর্থন করে আসছেন, তাদের অনেকেই এখন দেশটির সামরিক কর্মকাণ্ডে ‘বিরক্ত ও বিমুখ’ হয়ে পড়েছেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, শুধুমাত্র রাজনৈতিক নেতৃত্ব নয়, ইসরায়েলের বুদ্ধিজীবী, শিল্পী ও সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের একটি অংশও এই যুদ্ধের নৈতিক দায় এড়াতে পারে না।

জেরুজালেম ইন্টারন্যাশনাল রাইটার্স ফেস্টিভ্যালের শিল্প নির্দেশক জুলিয়া ফেরমেন্তো-জাইসলার গণমাধ্যমে কোয়েটজির চিঠির বিষয়টি তুলে ধরেন এবং মন্তব্য করেন যে, কোয়েটজির প্রতিক্রিয়া ছিল ‘অস্বাভাবিকভাবে কঠোর’ এবং উৎসব কর্তৃপক্ষকে তা বিস্মিত করেছে। তবে তিনি এটিও স্বীকার করেন যে, গাজা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বিভাজন ও বিতর্ক ক্রমেই বাড়ছে। বিশ্বসাহিত্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমকালীন লেখক হিসেবে পরিচিত কোয়েটজি ২০০৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। তার উপন্যাসে দীর্ঘদিন ধরেই ঔপনিবেশিকতা, রাষ্ট্রীয় সহিংসতা, নৈতিক সংকট ও মানবাধিকার প্রশ্ন গুরুত্ব পেয়ে এসেছে। বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদী শাসনব্যবস্থার অভিজ্ঞতা তার সাহিত্যচিন্তাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। তাই গাজা প্রসঙ্গে তার এই অবস্থান আন্তর্জাতিক সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক মহলে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ব্যারাকে ফিরছে সেনাবাহিনী: জুনের মধ্যে মাঠপর্যায় থেকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত

গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের প্রতিবাদে জেরুজালেম সাহিত্য উৎসবে অংশ নিচ্ছেন না নোবেলজয়ী লেখক জে. এম. কোয়েটজি

আপডেট সময় : ০৫:৫২:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

দক্ষিণ আফ্রিকার নোবেলজয়ী লেখক জে. এম. কোয়েটজি গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের প্রতিবাদে জেরুজালেম ইন্টারন্যাশনাল রাইটার্স ফেস্টিভ্যালে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। উৎসব কর্তৃপক্ষকে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযানকে ‘গণহত্যামূলক অভিযান’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, এই ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের ভাবমূর্তি গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তার মতে, ‘ইসরায়েলের কলঙ্ক মুছতে বহু বছর সময় লাগবে।’

কোয়েটজি তার চিঠিতে উল্লেখ করেন যে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর গাজায় ইসরায়েলের যে সামরিক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে, তা তাকে ব্যক্তিগতভাবে হতাশ ও বিচলিত করেছে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে যারা ইসরায়েলকে সমর্থন করে আসছেন, তাদের অনেকেই এখন দেশটির সামরিক কর্মকাণ্ডে ‘বিরক্ত ও বিমুখ’ হয়ে পড়েছেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, শুধুমাত্র রাজনৈতিক নেতৃত্ব নয়, ইসরায়েলের বুদ্ধিজীবী, শিল্পী ও সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের একটি অংশও এই যুদ্ধের নৈতিক দায় এড়াতে পারে না।

জেরুজালেম ইন্টারন্যাশনাল রাইটার্স ফেস্টিভ্যালের শিল্প নির্দেশক জুলিয়া ফেরমেন্তো-জাইসলার গণমাধ্যমে কোয়েটজির চিঠির বিষয়টি তুলে ধরেন এবং মন্তব্য করেন যে, কোয়েটজির প্রতিক্রিয়া ছিল ‘অস্বাভাবিকভাবে কঠোর’ এবং উৎসব কর্তৃপক্ষকে তা বিস্মিত করেছে। তবে তিনি এটিও স্বীকার করেন যে, গাজা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বিভাজন ও বিতর্ক ক্রমেই বাড়ছে। বিশ্বসাহিত্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমকালীন লেখক হিসেবে পরিচিত কোয়েটজি ২০০৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। তার উপন্যাসে দীর্ঘদিন ধরেই ঔপনিবেশিকতা, রাষ্ট্রীয় সহিংসতা, নৈতিক সংকট ও মানবাধিকার প্রশ্ন গুরুত্ব পেয়ে এসেছে। বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদী শাসনব্যবস্থার অভিজ্ঞতা তার সাহিত্যচিন্তাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। তাই গাজা প্রসঙ্গে তার এই অবস্থান আন্তর্জাতিক সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক মহলে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।