সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিলের দাবিতে দায়ের করা আপিলের শুনানি আগামী রোববার অনুষ্ঠিত হবে। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে গঠিত আপিল বেঞ্চে মামলাটি শুনানির জন্য অপেক্ষমান রয়েছে। গত ১৩ নভেম্বর হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি দেয় আপিল বিভাগ, এরপর থেকেই শুনানি শুরু হয়েছিল।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ৩০ জুন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপসহ সংবিধানের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনে পঞ্চদশ সংশোধনী আইন জাতীয় সংসদে পাস হয়। রাষ্ট্রপতি একই বছরের ৩ জুলাই এটি অনুমোদন করেন। এই সংশোধনীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির পিতা হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। এছাড়াও, জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সংখ্যা ৪৫ থেকে বাড়িয়ে ৫০ করা হয়। ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা পুনর্বহাল এবং জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি রাষ্ট্রীয় মূলনীতি হিসেবে সংযোজন করা হয়।
এই সংশোধনীতে রাষ্ট্রক্ষমতা অসাংবিধানিকভাবে দখলকে রাষ্ট্রদ্রোহ হিসেবে গণ্য করে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধানও যুক্ত করা হয়। পূর্বে মেয়াদ শেষ হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করার বিধান থাকলেও, সংশোধনীতে পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচ বিশিষ্ট ব্যক্তি এই সংশোধনী বাতিলের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেছিলেন। গত বছরের ১৯ আগস্ট হাইকোর্ট এ বিষয়ে একটি রুল জারি করেন। এই রুলে জানতে চাওয়া হয়েছিল কেন সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আইনকে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না। পরবর্তীতে, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, গণফোরাম এবং বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংস্থা এই রুলের সমর্থনে সহায়তাকারী (ইন্টারভেনার) হিসেবে যুক্ত হন এবং তাদের আইনজীবীরা পক্ষে বক্তব্য উপস্থাপন করেন। এছাড়াও, নওগাঁর বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোফাজ্জল হোসেনও একটি পৃথক রিট আবেদন করেন। রুলের শুনানি শেষে গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট রায় প্রদান করেন।
রায় ঘোষণার দিন আবেদনকারীদের আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া জানিয়েছিলেন যে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের বিধান, সংবিধান বাতিল বা স্থগিতকরণ এবং সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলী সংশোধন অযোগ্য সংক্রান্ত ৭ ক ও ৭ খ ধারা, মৌলিক অধিকার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে হাইকোর্টের ক্ষমতা হ্রাস বিষয়ক ৪৪(২) ধারা, এবং ১৪২ অনুচ্ছেদে গণভোটের বিধান বাতিলের বিষয়গুলো হাইকোর্টের রায়ে বাতিল হয়েছে। এর ফলে, সংবিধানের প্রস্তাবনা ও কিছু অনুচ্ছেদ সংশোধনে গণভোটের বিধান ফিরে আসছে। তিনি এই রায়টিকে ঐতিহাসিক বলে অভিহিত করেন এবং উল্লেখ করেন যে ৭ ক ও খ, ৪৪(২) ও ১৪২ অনুচ্ছেদ বিষয়ক রায়ের ফলে বাস্তবায়িত হয়েছে।
পরবর্তীতে, এই রায়ের বিরুদ্ধে সুজন সম্পাদকসহ চার বিশিষ্ট ব্যক্তি লিভ টু আপিল দায়ের করেন। অন্য তিনজন হলেন এম হাফিজ উদ্দিন খান, জোবাইরুল হক ভূঁইয়া ও জাহরা রহমান। বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোফাজ্জল হোসেনও একটি পৃথক লিভ টু আপিল করেন। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারও একটি লিভ টু আপিল করেন। এছাড়াও, বিএনপির পক্ষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং গণফোরাম নেতা সুব্রত চৌধুরীসহ কয়েকজন পক্ষভুক্ত হন। বদিউল আলম মজুমদারের আইনজীবীর দাবি অনুযায়ী, পুরো সংশোধনীটি বাতিল হওয়া উচিত।
রিপোর্টারের নাম 

























