ঢাকা ০৩:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬

তিনজনকে দায়ী করে অভিযোগপত্র, চার্জ গঠনের শুনানি ১ এপ্রিল

তিন বছর আগে এক বিকেলে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ। তীব্র বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে রাজধানীর সিদ্দিকবাজারের পুরো এলাকা। ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন চারপাশ। আতঙ্কিত মানুষ যে যেভাবে পারছে দিগবেদিক ছুটছেন। এরই মাঝে ‘ক্যাফে কুইন’ ভবনের ভেতরে ও বাইরে থাকা ২৬টি তাজা প্রাণ ঝরে যায়। আহতদের আত্মচিৎকারে ভারী হয়ে ওঠে আশপাশের এলাকা।

নর্থসাউথ রোডের সাততলা ‘ক্যাফে কুইন’ ভবনের সেই বিস্ফোরণে ভেঙে পড়ে ভবনের ৯টি কলামসহ দুটি ফ্লোর। বিস্ফোরণে ভবনে থাকা বিভিন্ন দোকানের কর্মচারীসহ প্রাণ হারান রাস্তায় থাকা যানবাহনের যাত্রী ও পথচারীও। ঘটনার দিনই ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল বিস্ফোরণের ধ্বংসস্তূপ থেকে ১৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করে।

এ ঘটনার দুদিন পর ৯ মার্চ ‘অবহেলাজনিত মৃত্যুর’ অভিযোগ এনে মামলা করেন বংশাল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) পলাশ সাহা। আলোচিত এ মামলায় প্রথমে তদন্ত শুরু করে বংশাল থানা পুলিশ। এরপর ডিবি পুলিশের হাত ঘুরে মামলটির তদন্তভার পায় কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট।

দুই বছর ৯ মাস পর গেল ডিসেম্বরে তিনজনকে অভিযুক্ত করে মামলার অভিযোগপত্র জমা দেন কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের বোম ডিসপোজাল ইউনিটের পরিদর্শক এস এম রাইসুল ইসলাম।

অভিযোগপত্রে কুইনস স্যানেটারি মার্কেটের ভবন মালিক ওয়াহিদুর রহমান ও মতিউর রহমান এবং সেনেটারি দোকানের মালিক আ. মোতালেব মিন্টুর ‘অবহেলা ও লোভের’ কারণে ওই ভবনে আন্ডারগ্রাউন্ডে গ্যাস জমে ভয়াবহ বিস্ফরেণ ঘটে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সিটিটিসির দেওয়া অভিযোগপত্রটি ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তার গত ১৪ জানুয়ারি গ্রহণ করেন। মামলাটি বিচারের জন্য গত ২০ জানুয়ারি মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হয়। আগামি ১ এপ্রিল মামলাটির অভিযোগ গঠনের পর জন্য ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. আলমগীর হোসেনের আদালতে পাঠানো হয়।

সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী শাহাদাৎ আলী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনার দিনই গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্ত তিনজন বর্তমানে জামিনে আছেন। আগামী ১ এপ্রিল এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।

অভিযোগপত্রে সিটিটিসির বোম ডিসপোজাল ইউনিটের পরিদর্শক এস এম রাইসুল ইসলাম উল্লেখ করেন, রাইজার থেকে মূল ভবনের গ্যাসের সংযোগ লাইন ভূমির উপরে দৃশ্যমান থাকার কথা। তবে গ্রাহক তা না করে রাইজার থেকে লাইনটি মাটির নিচ দিয়ে নেন। বিষয়টি নিশ্চিত করতে রাইসুল ইসলাম তিতাসের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে মাটি খুঁড়েন। এতে দেখা যায়, রাইজার থেকে ভবন পর্যন্ত বাণিজ্যিক সংযোগের দেড় ইঞ্চি ব্যাসের মোটা পাইপ বিচ্ছিন্ন না করেই আবাসিক সংযোগের পৌনে এক ইঞ্চি ব্যাসের পাইপ যুক্ত করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে আরো বলা হয়, ১৯৮২ সালে ভবনের মালিক ওয়াহিদুর রহমান ও মতিউর রহমানের বাবা রেজাউর রহমান প্রথম তিতাস গ্যাসের আবাসিক সংযোগ নেন। ১৯৮৩ সালে ওই ভবনে ‘ক্যাফে কুইন’ রেস্তোরাঁ যাত্রা শুরু করলে তিতাস গ্যাস থেকে একটি বাণিজ্যিক সংযোগ নেয় তারা। এরপর ২০০২ সালে রেস্তোরাঁটি বন্ধ করে দিয়ে তিতাস গ্যাসে আবেদনের মাধ্যমের বাণিজ্যিক সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করা হয়। ২০০৪ সালে আবার ওই ভবনে আবাসিক ব্যবহারের জন্য গ্যাসের লাইন বর্ধিত করা হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানের স্কুলে ১৬৫ শিশুর মৃত্যু: মার্কিন হামলার ইঙ্গিত দিলেন বিশেষজ্ঞরা

তিনজনকে দায়ী করে অভিযোগপত্র, চার্জ গঠনের শুনানি ১ এপ্রিল

আপডেট সময় : ০১:২২:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬

তিন বছর আগে এক বিকেলে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ। তীব্র বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে রাজধানীর সিদ্দিকবাজারের পুরো এলাকা। ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন চারপাশ। আতঙ্কিত মানুষ যে যেভাবে পারছে দিগবেদিক ছুটছেন। এরই মাঝে ‘ক্যাফে কুইন’ ভবনের ভেতরে ও বাইরে থাকা ২৬টি তাজা প্রাণ ঝরে যায়। আহতদের আত্মচিৎকারে ভারী হয়ে ওঠে আশপাশের এলাকা।

নর্থসাউথ রোডের সাততলা ‘ক্যাফে কুইন’ ভবনের সেই বিস্ফোরণে ভেঙে পড়ে ভবনের ৯টি কলামসহ দুটি ফ্লোর। বিস্ফোরণে ভবনে থাকা বিভিন্ন দোকানের কর্মচারীসহ প্রাণ হারান রাস্তায় থাকা যানবাহনের যাত্রী ও পথচারীও। ঘটনার দিনই ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল বিস্ফোরণের ধ্বংসস্তূপ থেকে ১৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করে।

এ ঘটনার দুদিন পর ৯ মার্চ ‘অবহেলাজনিত মৃত্যুর’ অভিযোগ এনে মামলা করেন বংশাল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) পলাশ সাহা। আলোচিত এ মামলায় প্রথমে তদন্ত শুরু করে বংশাল থানা পুলিশ। এরপর ডিবি পুলিশের হাত ঘুরে মামলটির তদন্তভার পায় কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট।

দুই বছর ৯ মাস পর গেল ডিসেম্বরে তিনজনকে অভিযুক্ত করে মামলার অভিযোগপত্র জমা দেন কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের বোম ডিসপোজাল ইউনিটের পরিদর্শক এস এম রাইসুল ইসলাম।

অভিযোগপত্রে কুইনস স্যানেটারি মার্কেটের ভবন মালিক ওয়াহিদুর রহমান ও মতিউর রহমান এবং সেনেটারি দোকানের মালিক আ. মোতালেব মিন্টুর ‘অবহেলা ও লোভের’ কারণে ওই ভবনে আন্ডারগ্রাউন্ডে গ্যাস জমে ভয়াবহ বিস্ফরেণ ঘটে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সিটিটিসির দেওয়া অভিযোগপত্রটি ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তার গত ১৪ জানুয়ারি গ্রহণ করেন। মামলাটি বিচারের জন্য গত ২০ জানুয়ারি মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হয়। আগামি ১ এপ্রিল মামলাটির অভিযোগ গঠনের পর জন্য ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. আলমগীর হোসেনের আদালতে পাঠানো হয়।

সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী শাহাদাৎ আলী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনার দিনই গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্ত তিনজন বর্তমানে জামিনে আছেন। আগামী ১ এপ্রিল এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।

অভিযোগপত্রে সিটিটিসির বোম ডিসপোজাল ইউনিটের পরিদর্শক এস এম রাইসুল ইসলাম উল্লেখ করেন, রাইজার থেকে মূল ভবনের গ্যাসের সংযোগ লাইন ভূমির উপরে দৃশ্যমান থাকার কথা। তবে গ্রাহক তা না করে রাইজার থেকে লাইনটি মাটির নিচ দিয়ে নেন। বিষয়টি নিশ্চিত করতে রাইসুল ইসলাম তিতাসের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে মাটি খুঁড়েন। এতে দেখা যায়, রাইজার থেকে ভবন পর্যন্ত বাণিজ্যিক সংযোগের দেড় ইঞ্চি ব্যাসের মোটা পাইপ বিচ্ছিন্ন না করেই আবাসিক সংযোগের পৌনে এক ইঞ্চি ব্যাসের পাইপ যুক্ত করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে আরো বলা হয়, ১৯৮২ সালে ভবনের মালিক ওয়াহিদুর রহমান ও মতিউর রহমানের বাবা রেজাউর রহমান প্রথম তিতাস গ্যাসের আবাসিক সংযোগ নেন। ১৯৮৩ সালে ওই ভবনে ‘ক্যাফে কুইন’ রেস্তোরাঁ যাত্রা শুরু করলে তিতাস গ্যাস থেকে একটি বাণিজ্যিক সংযোগ নেয় তারা। এরপর ২০০২ সালে রেস্তোরাঁটি বন্ধ করে দিয়ে তিতাস গ্যাসে আবেদনের মাধ্যমের বাণিজ্যিক সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করা হয়। ২০০৪ সালে আবার ওই ভবনে আবাসিক ব্যবহারের জন্য গ্যাসের লাইন বর্ধিত করা হয়।