প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, শিক্ষা, অর্থনীতি, স্বাস্থ্য এবং রাজনীতিসহ সমাজের প্রতিটি স্তরে নারীর সক্রিয় ও কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। আগামীকাল, ৮ মার্চ, ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আজ এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এই অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “আমরা এমন এক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখি যেখানে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে প্রত্যেকে সমান অধিকার, সম্মান, মর্যাদা এবং নিরাপত্তা নিয়ে পরিবার, রাষ্ট্র ও সমাজের উন্নয়নে অবদান রাখবেন।”
আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে বিশ্বের সকল নারীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি জাতির টেকসই উন্নয়ন তখনই সম্ভব যখন নারীর অধিকার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়। এই প্রেক্ষাপটে, ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস-২০২৬’-এর এবারের প্রতিপাদ্য ‘আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার, সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার’ অত্যন্ত সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকই নারী। তাই, নারীদের রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক মূল ধারা থেকে বিচ্ছিন্ন রেখে কোনো উন্নয়নই টেকসই হতে পারে না। বিশেষ করে, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ছাড়া সামগ্রিক উন্নয়ন সুফল বয়ে আনতে পারে না। বাংলাদেশেও জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি নারী। স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং গণতন্ত্রের মানসকন্যা বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের নারীদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করেছিলেন।
তাঁর ভাষ্যমতে, শহীদ জিয়াউর রহমানের শাসনামলে ১৯৭৬ সালে রাষ্ট্রপতির সচিবালয়ে ‘নারী বিষয়ক দপ্তর’ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৯৭৮ সালে ‘মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ গঠন করা হয়। পরবর্তীতে, বেগম খালেদা জিয়ার সরকার ১৯৯৪ সালে এটিকে ‘মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়’-এ উন্নীত করে।
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, বেগম খালেদা জিয়া নারীর আর্থ-সামাজিক ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষার ব্যবস্থা চালু করেছিলেন, যা ছিল বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়নের এক বৈপ্লবিক পদক্ষেপ। এই ধারাবাহিকতায়, বর্তমান সরকার নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নকে আরও জোরদার করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করেছে।
সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো নির্বাচনি অঙ্গীকার পূরণের অংশ হিসেবে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত বিনা মূল্যে শিক্ষা নিশ্চিত করা, উচ্চশিক্ষায় নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানো, মেয়েদের জন্য বিনামূল্যে স্কুল ইউনিফর্ম প্রদান, ডিজিটাল লার্নিং সুবিধা সম্প্রসারণ এবং আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটানো।”
নারীর নিরাপত্তা বিধানে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাইবার বুলিং এবং অনলাইনে নারীর প্রতি যেকোনো ধরনের হয়রানি বন্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, “আমাদের সমাজে সমতা হবে আমাদের অঙ্গীকার, মর্যাদা হবে বাস্তবতা, আর ক্ষমতায়ন হবে উন্নয়নের মূল ভিত্তি।”
আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সকল কর্মসূচির সর্বাঙ্গীন সাফল্য কামনা করে প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্য শেষ করেন।
—
রিপোর্টারের নাম 

























