## শিরোনাম: জাকাত ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন এনে দারিদ্র্য বিমোচনের নতুন দিগন্ত উন্মোচন
ঢাকা: দারিদ্র্য বিমোচনে জাকাত ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও লক্ষ্যভিত্তিক করার এক যুগান্তকারী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে জাকাত বিতরণ নিশ্চিত করা গেলে আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে কেবল জাকাতের মাধ্যমেই দেশে দারিদ্র্য নিরসন সম্ভব। শনিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় আলেম, মাশায়েখ এবং এতিমদের সম্মানে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
বিস্তারিত:
ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম জাকাত। দেশের বিত্তবানদের অনেকেই ব্যক্তিগত উদ্যোগে এবং কেউ কেউ সরকারি ‘জাকাত বোর্ড’-এর মাধ্যমে জাকাত আদায় করে থাকেন। বিভিন্ন গবেষণা মতে, বাংলাদেশে প্রতি বছর জাকাতের পরিমাণ ২০ থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকার বেশি। তবে, সুপরিকল্পিত ও সুসংগঠিতভাবে জাকাত বিতরণ না হওয়ায় বিত্তবানদের জাকাত আদায় হলেও তা দারিদ্র্য বিমোচনে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে জাকাত দাতাদের উৎসাহিত করার ওপর জোর দেন, যাতে একজন জাকাতগ্রহীতা প্রথম বছর জাকাত পাওয়ার পর দ্বিতীয় বছর আর জাকাতের উপর নির্ভরশীল না থাকেন। তিনি বলেন, “বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিকল্পিতভাবে জাকাত বিতরণ করা গেলে দারিদ্র্য বিমোচনে জাকাত এক যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করতে পারে।” এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে সরকার জাকাত ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও লক্ষ্যভিত্তিক করার উদ্যোগ নিয়েছে।
দেশের প্রায় চার কোটি পরিবারের মধ্যে হতদরিদ্র পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করে প্রতি বছর পর্যায়ক্রমে ৫ লাখ পরিবারকে এক লাখ টাকা করে জাকাত দেওয়ার একটি প্রস্তাবনা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বিশ্বাস প্রকাশ করেন যে, এই উদ্যোগের ফলে অধিকাংশ পরিবার আগামী বছরগুলোতে আর জাকাতের উপর নির্ভরশীল থাকবে না।
আলেম, মাশায়েখ এবং ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী আহ্বান জানান, যাতে তাঁরা বিত্তবানদের জাকাতকে দারিদ্র্য বিমোচনে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করার ব্যাপারে সচেতন করেন। তিনি ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিদ্যমান ‘জাকাত বোর্ড’-কে দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম, ইসলামিক স্কলার এবং সরকারি কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে পুনর্গঠনের প্রস্তাব দেন। তাঁর মতে, জাকাতকে দারিদ্র্য বিমোচনে সফলভাবে ব্যবহার করে বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্বে একটি মডেল হিসেবে পরিচিতি লাভ করতে পারে।
পবিত্র রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং মুনাফালোভের প্রবণতার কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “রমজান মাসকে লোভ-লাভের মাস বানিয়ে ফেলা উচিত নয়।” তিনি অসাধু ব্যবসায়ীদের প্রতি মানুষের কষ্টের কারণ না হওয়ার বিনীত আহ্বান জানান।
ঐতিহ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর রমজানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য ইফতারের আয়োজন করা হয়। তবে, বৈশ্বিক পরিস্থিতি এবং ব্যয় সংকোচনের অংশ হিসেবে এবার সীমিত সংখ্যক ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। আজকের ইফতার মাহফিলের মূল আকর্ষণ ছিল এতিম শিশুরা, যাদের প্রতি কোরআন ও হাদিসে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজকের এই ইফতার মাহফিল এতিমদের প্রতি বিত্তবানদের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের ব্যাপারে একটি ইতিবাচক বার্তা দেবে।” তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, বিত্তবানরা এতিমদের প্রতি তাদের কর্তব্য পালন করলে পিতৃহারা এতিম সন্তানেরা আত্মবিশ্বাসের সাথে সমাজে এগিয়ে যেতে পারবে।
রিপোর্টারের নাম 

























