ঢাকা ০৯:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬

থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে জনসচেতনতা ও সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

বংশগত রোগ থ্যালাসেমিয়া নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, এই মারণব্যাধি প্রতিরোধে সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষকে সচেতন করে তুলতে হবে। শনিবার ঢাকার গ্রীন রোডে অবস্থিত বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতির (বিটিএস) প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত ‘বিটিএস লটারি ২০২৫’ এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন উল্লেখ করেন যে, বর্তমানে বাংলাদেশের প্রায় ১১.৪ শতাংশ জনগোষ্ঠী, যা প্রায় ২ কোটি মানুষের সমান, থ্যালাসেমিয়ার বাহক। এই সংখ্যা পূর্বের যেকোনো সময়ের তুলনায় উদ্বেগজনকভাবে বেশি। তিনি আরও বলেন, থ্যালাসেমিয়ার চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং আক্রান্তদের প্রায় ৯০ শতাংশই এই ব্যয়ভার বহন করতে সক্ষম নন। তাই রোগটি প্রতিরোধের জন্য আগে থেকেই সতর্কতা অবলম্বন করা গেলে আক্রান্তের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

তিনি বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতির নেতাদের থ্যালাসেমিয়া নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ, নীতিগত উদ্যোগ এবং চিকিৎসা সহায়তার প্রয়োজনীয়তা সংক্রান্ত একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রস্তুত করে সরকারের কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। প্রতিমন্ত্রী আশ্বস্ত করেন যে, বাংলাদেশে যেন আর কোনো শিশু থ্যালাসেমিয়া নিয়ে জন্মগ্রহণ না করে, সে লক্ষ্যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, সমাজে যারা থ্যালাসেমিয়া নিয়ে লড়াই করছেন, তাদের প্রতি সঠিক যত্ন ও সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে তারা সমাজের সম্পদে পরিণত হতে পারেন। এজন্য প্রয়োজন কার্যকর উদ্যোগ। থ্যালাসেমিয়া আক্রান্তদের আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি মানসিক সহায়তাও তাদের সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে, থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত দুই তরুণ-তরুণী, নওশীন তানজীম এবং লুবাবা তাসনীম, তাদের জীবন সংগ্রামের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তাদের অভিভাবকরাও তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন। তারা হিমোগ্লোবিন ইলেক্ট্রোফোরেসিস টেস্ট বিনামূল্যে করানোর এবং একটি বিশেষায়িত থ্যালাসেমিয়া হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি এই রোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সরকারি উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানান।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে, প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন ‘বিটিএস লটারি ২০২৫’ এর বিজয়ীদের হাতে পুরস্কারের চেক তুলে দেন। এ সময় সৈয়দ দীদার বখত, অধ্যাপক ডা. এম এ খানসহ বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতির অন্যান্য উপদেষ্টাবৃন্দ এবং নির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান ইস্যুতে সংলাপের ওপর জোর এরদোয়ানের, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনালাপ

থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে জনসচেতনতা ও সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৮:২৬:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬

বংশগত রোগ থ্যালাসেমিয়া নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, এই মারণব্যাধি প্রতিরোধে সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষকে সচেতন করে তুলতে হবে। শনিবার ঢাকার গ্রীন রোডে অবস্থিত বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতির (বিটিএস) প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত ‘বিটিএস লটারি ২০২৫’ এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন উল্লেখ করেন যে, বর্তমানে বাংলাদেশের প্রায় ১১.৪ শতাংশ জনগোষ্ঠী, যা প্রায় ২ কোটি মানুষের সমান, থ্যালাসেমিয়ার বাহক। এই সংখ্যা পূর্বের যেকোনো সময়ের তুলনায় উদ্বেগজনকভাবে বেশি। তিনি আরও বলেন, থ্যালাসেমিয়ার চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং আক্রান্তদের প্রায় ৯০ শতাংশই এই ব্যয়ভার বহন করতে সক্ষম নন। তাই রোগটি প্রতিরোধের জন্য আগে থেকেই সতর্কতা অবলম্বন করা গেলে আক্রান্তের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

তিনি বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতির নেতাদের থ্যালাসেমিয়া নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ, নীতিগত উদ্যোগ এবং চিকিৎসা সহায়তার প্রয়োজনীয়তা সংক্রান্ত একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রস্তুত করে সরকারের কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। প্রতিমন্ত্রী আশ্বস্ত করেন যে, বাংলাদেশে যেন আর কোনো শিশু থ্যালাসেমিয়া নিয়ে জন্মগ্রহণ না করে, সে লক্ষ্যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, সমাজে যারা থ্যালাসেমিয়া নিয়ে লড়াই করছেন, তাদের প্রতি সঠিক যত্ন ও সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে তারা সমাজের সম্পদে পরিণত হতে পারেন। এজন্য প্রয়োজন কার্যকর উদ্যোগ। থ্যালাসেমিয়া আক্রান্তদের আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি মানসিক সহায়তাও তাদের সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে, থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত দুই তরুণ-তরুণী, নওশীন তানজীম এবং লুবাবা তাসনীম, তাদের জীবন সংগ্রামের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তাদের অভিভাবকরাও তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন। তারা হিমোগ্লোবিন ইলেক্ট্রোফোরেসিস টেস্ট বিনামূল্যে করানোর এবং একটি বিশেষায়িত থ্যালাসেমিয়া হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি এই রোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সরকারি উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানান।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে, প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন ‘বিটিএস লটারি ২০২৫’ এর বিজয়ীদের হাতে পুরস্কারের চেক তুলে দেন। এ সময় সৈয়দ দীদার বখত, অধ্যাপক ডা. এম এ খানসহ বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতির অন্যান্য উপদেষ্টাবৃন্দ এবং নির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।