ঢাকা ০৮:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬

রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে ব্যবসায়ীদের সংযম অবলম্বনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

পবিত্র রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি না করে ব্যবসায়ীদের সংযম অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সুচিন্তিত যাকাত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দেশে দারিদ্র্য বিমোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব।

গতকাল (শনিবার) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এতিম ও আলেম-ওলামাদের সম্মানে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

রমজানকে ত্যাগ ও সংযমের মাস হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য যে, প্রতি বছর রমজান মাস এলেই কিছু অসাধু ব্যবসায়ী নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন। তারা এই পবিত্র মাসকে কেবল মুনাফা অর্জনের সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করেন। যারা এই অনৈতিক পন্থা অবলম্বন করছেন, তাদের প্রতি আমার বিনীত অনুরোধ, আপনারা সাধারণ মানুষের কষ্টের কারণ হবেন না।

ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম যাকাত সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে যাকাত ব্যবস্থাপনা নিয়ে একটি পরিকল্পনার কথা তিনি সকলের সাথে ভাগ করে নিতে চান। ইসলামের বিধান অনুযায়ী, অনেক বিত্তবান ব্যক্তি নিজ উদ্যোগে যাকাত প্রদান করেন, আবার কেউ কেউ সরকারি ‘যাকাত বোর্ডের’ মাধ্যমেও তা পরিশোধ করেন। বিভিন্ন গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ২০-২৫ হাজার কোটি টাকার বেশি যাকাত আদায় হয়ে থাকে, যা কিছু মহলের মতে আরও বেশি হতে পারে। তবে, সুপরিকল্পিত ও সুসংগঠিতভাবে যাকাত বণ্টন না হওয়ার কারণে বিত্তবানদের যাকাত আদায় হলেও, তা দারিদ্র্য বিমোচনে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখছে, তা একটি বড় প্রশ্ন।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, যাকাত দাতাদের এমনভাবে যাকাত বণ্টনে উৎসাহিত করা উচিত যাতে একজন যাকাতগ্রহীতা প্রথম বছর যাকাত গ্রহণের পর পরবর্তী বছর আর যাকাতগ্রহীতার প্রয়োজন না হয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পরিকল্পিতভাবে যাকাত বিতরণ করা গেলে দারিদ্র্য দূরীকরণে যাকাত যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে পারে। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে সরকার যাকাত ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও লক্ষ্যভিত্তিক করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এবারের রমজানে এটিই হয়তো শেষ ইফতার মাহফিল। আজকের এই ইফতার মাহফিলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অতিথি হলো ‘এতিম সন্তানেরা’। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে এতিমের অধিকার নিশ্চিত করার ব্যাপারে মুসলমানদের প্রতি কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। এতিমদের প্রতি দায়িত্ব পালনের গুরুত্ব এবং আজকের এই ইফতার মাহফিলের আয়োজন তারই প্রতিফলন।

তিনি আরও জানান, সাধারণত প্রতি বছর রমজানের প্রথম দিনেই আলেম-ওলামা-মাশায়েখ এবং এতিমদের সম্মানে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। তবে দেশের বর্তমান বাস্তবতায় এবার আয়োজনে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে গ্যাস, বিদ্যুৎ, জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় সংকোচন ও কৃচ্ছ্র সাধনের অংশ হিসেবে এবারের রমজানে আজকের এবং গতকালের ইফতার মাহফিলসহ মোট দুটি আয়োজনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লেবাননজুড়ে ইসরাইলের ভয়াবহ বিমান হামলা: লক্ষ্যবস্তু হিজবুল্লাহর ‘এলিট ফোর্স’ ও সমরাস্ত্রাগার

রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে ব্যবসায়ীদের সংযম অবলম্বনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট সময় : ০৭:০৯:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬

পবিত্র রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি না করে ব্যবসায়ীদের সংযম অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সুচিন্তিত যাকাত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দেশে দারিদ্র্য বিমোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব।

গতকাল (শনিবার) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এতিম ও আলেম-ওলামাদের সম্মানে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

রমজানকে ত্যাগ ও সংযমের মাস হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য যে, প্রতি বছর রমজান মাস এলেই কিছু অসাধু ব্যবসায়ী নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন। তারা এই পবিত্র মাসকে কেবল মুনাফা অর্জনের সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করেন। যারা এই অনৈতিক পন্থা অবলম্বন করছেন, তাদের প্রতি আমার বিনীত অনুরোধ, আপনারা সাধারণ মানুষের কষ্টের কারণ হবেন না।

ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম যাকাত সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে যাকাত ব্যবস্থাপনা নিয়ে একটি পরিকল্পনার কথা তিনি সকলের সাথে ভাগ করে নিতে চান। ইসলামের বিধান অনুযায়ী, অনেক বিত্তবান ব্যক্তি নিজ উদ্যোগে যাকাত প্রদান করেন, আবার কেউ কেউ সরকারি ‘যাকাত বোর্ডের’ মাধ্যমেও তা পরিশোধ করেন। বিভিন্ন গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ২০-২৫ হাজার কোটি টাকার বেশি যাকাত আদায় হয়ে থাকে, যা কিছু মহলের মতে আরও বেশি হতে পারে। তবে, সুপরিকল্পিত ও সুসংগঠিতভাবে যাকাত বণ্টন না হওয়ার কারণে বিত্তবানদের যাকাত আদায় হলেও, তা দারিদ্র্য বিমোচনে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখছে, তা একটি বড় প্রশ্ন।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, যাকাত দাতাদের এমনভাবে যাকাত বণ্টনে উৎসাহিত করা উচিত যাতে একজন যাকাতগ্রহীতা প্রথম বছর যাকাত গ্রহণের পর পরবর্তী বছর আর যাকাতগ্রহীতার প্রয়োজন না হয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পরিকল্পিতভাবে যাকাত বিতরণ করা গেলে দারিদ্র্য দূরীকরণে যাকাত যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে পারে। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে সরকার যাকাত ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও লক্ষ্যভিত্তিক করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এবারের রমজানে এটিই হয়তো শেষ ইফতার মাহফিল। আজকের এই ইফতার মাহফিলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অতিথি হলো ‘এতিম সন্তানেরা’। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে এতিমের অধিকার নিশ্চিত করার ব্যাপারে মুসলমানদের প্রতি কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। এতিমদের প্রতি দায়িত্ব পালনের গুরুত্ব এবং আজকের এই ইফতার মাহফিলের আয়োজন তারই প্রতিফলন।

তিনি আরও জানান, সাধারণত প্রতি বছর রমজানের প্রথম দিনেই আলেম-ওলামা-মাশায়েখ এবং এতিমদের সম্মানে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। তবে দেশের বর্তমান বাস্তবতায় এবার আয়োজনে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে গ্যাস, বিদ্যুৎ, জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় সংকোচন ও কৃচ্ছ্র সাধনের অংশ হিসেবে এবারের রমজানে আজকের এবং গতকালের ইফতার মাহফিলসহ মোট দুটি আয়োজনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।