ঢাকা ০৮:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬

কূটনীতিতে নারীর নেতৃত্ব: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের জোরালো আহ্বান

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে এবং বৈদেশিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে কূটনৈতিক অঙ্গনে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করা অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষ্যে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই অভিমত ব্যক্ত করেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বিদেশের বিভিন্ন মিশনে কর্মরত নারী কর্মকর্তার সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা কূটনীতিতে নারীর প্রতিনিধিত্ব বাড়ার একটি ইতিবাচক প্রতিফলন।

শামা ওবায়েদ উল্লেখ করেন যে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং overseas missionগুলোতে কর্মরত নারী কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তবে এই অংশগ্রহণ আরও বাড়ানো প্রয়োজন, যাতে তারা পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় সরাসরি অবদান রাখতে পারেন। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, ফরেন সার্ভিস এবং কূটনৈতিক ক্যাডারে আরও বেশি নারীকে উৎসাহিত করলে তাদের মেধা, যোগ্যতা এবং পেশাগত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব।

প্রতিমন্ত্রীর মতে, নেতৃত্ব এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নারীদের আরও বেশি সুযোগ দেওয়া উচিত। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আলোচনা এবং কূটনৈতিক কার্যক্রমে তাদের মূল্যবান দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত হবে। তিনি বলেন, “আমাদের জনসংখ্যার অর্ধেকই নারী। তাদের বাদ রেখে কোনো উন্নয়নই টেকসই হতে পারে না।”

নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়টি দীর্ঘকাল ধরে তাঁর দলের একটি অগ্রাধিকার বলে উল্লেখ করেন শামা ওবায়েদ। তিনি মনে করেন, প্রকৃত ক্ষমতায়ন তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু হওয়া প্রয়োজন। এ প্রসঙ্গে তিনি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে বলেন, এই উদ্যোগ গ্রামীণ নারীদের অর্থনৈতিকভাবে সবল করতে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে তাদের অবদান বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।

সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশে নারী শিক্ষার প্রসারে প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করেন। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার (প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন) নারীদের যোগ্যতা ও দক্ষতা অনুযায়ী জাতীয় উন্নয়নে অংশগ্রহণের সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে কাজ করছে, যাতে তারা কোনো প্রকার বাধার সম্মুখীন না হন।

পাশাপাশি, নারীর প্রতি সহিংসতা, ধর্ষণ এবং অনলাইন হয়রানির মতো গুরুতর অপরাধ মোকাবিলায় সরকারি সংস্থা, বেসরকারি সংগঠন এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সমন্বিত ও শক্তিশালী পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি জোর দেন।

শামা ওবায়েদ নারীদের সরাসরি নির্বাচন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের আরও বেশি সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। রাজনৈতিক অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে তিনি বলেন, কিছু রাজনৈতিক দল নারীদের প্রচারে ব্যবহার করলেও প্রার্থী হিসেবে তাদের মনোনয়ন দিতে প্রায়শই কার্পণ্য করে। তিনি একটি নির্দিষ্ট দলের (জামায়াতে ইসলামী) উদাহরণ টেনে বলেন, দলটি প্রায়ই নারীদের নির্বাচনী প্রচারণা বা গণমাধ্যমের আলোচনায় রাখলেও নির্বাচনে তাদের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেয় না। তবে বিএনপি নারী অংশগ্রহণের বিষয়ে নিজস্ব নীতি অনুসরণ করে এবং এই ক্ষেত্রে তাদের অঙ্গীকার স্পষ্ট।

পরিশেষে, প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, সরকারের নীতিগত পদক্ষেপগুলো নারীর ক্ষমতায়ন ও নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করবে। নারীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে আলাদা বাস সার্ভিসের মতো উদ্যোগগুলো এই প্রচেষ্টারই অংশ। তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, “আমাদের অঙ্গীকার স্পষ্ট – নারীর সুরক্ষা, ক্ষমতায়ন এবং সমান অংশগ্রহণ আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।”

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে জনসচেতনতা ও সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

কূটনীতিতে নারীর নেতৃত্ব: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের জোরালো আহ্বান

আপডেট সময় : ০৬:৪৪:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে এবং বৈদেশিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে কূটনৈতিক অঙ্গনে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করা অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষ্যে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই অভিমত ব্যক্ত করেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বিদেশের বিভিন্ন মিশনে কর্মরত নারী কর্মকর্তার সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা কূটনীতিতে নারীর প্রতিনিধিত্ব বাড়ার একটি ইতিবাচক প্রতিফলন।

শামা ওবায়েদ উল্লেখ করেন যে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং overseas missionগুলোতে কর্মরত নারী কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তবে এই অংশগ্রহণ আরও বাড়ানো প্রয়োজন, যাতে তারা পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় সরাসরি অবদান রাখতে পারেন। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, ফরেন সার্ভিস এবং কূটনৈতিক ক্যাডারে আরও বেশি নারীকে উৎসাহিত করলে তাদের মেধা, যোগ্যতা এবং পেশাগত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব।

প্রতিমন্ত্রীর মতে, নেতৃত্ব এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নারীদের আরও বেশি সুযোগ দেওয়া উচিত। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আলোচনা এবং কূটনৈতিক কার্যক্রমে তাদের মূল্যবান দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত হবে। তিনি বলেন, “আমাদের জনসংখ্যার অর্ধেকই নারী। তাদের বাদ রেখে কোনো উন্নয়নই টেকসই হতে পারে না।”

নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়টি দীর্ঘকাল ধরে তাঁর দলের একটি অগ্রাধিকার বলে উল্লেখ করেন শামা ওবায়েদ। তিনি মনে করেন, প্রকৃত ক্ষমতায়ন তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু হওয়া প্রয়োজন। এ প্রসঙ্গে তিনি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে বলেন, এই উদ্যোগ গ্রামীণ নারীদের অর্থনৈতিকভাবে সবল করতে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে তাদের অবদান বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।

সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশে নারী শিক্ষার প্রসারে প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করেন। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার (প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন) নারীদের যোগ্যতা ও দক্ষতা অনুযায়ী জাতীয় উন্নয়নে অংশগ্রহণের সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে কাজ করছে, যাতে তারা কোনো প্রকার বাধার সম্মুখীন না হন।

পাশাপাশি, নারীর প্রতি সহিংসতা, ধর্ষণ এবং অনলাইন হয়রানির মতো গুরুতর অপরাধ মোকাবিলায় সরকারি সংস্থা, বেসরকারি সংগঠন এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সমন্বিত ও শক্তিশালী পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি জোর দেন।

শামা ওবায়েদ নারীদের সরাসরি নির্বাচন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের আরও বেশি সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। রাজনৈতিক অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে তিনি বলেন, কিছু রাজনৈতিক দল নারীদের প্রচারে ব্যবহার করলেও প্রার্থী হিসেবে তাদের মনোনয়ন দিতে প্রায়শই কার্পণ্য করে। তিনি একটি নির্দিষ্ট দলের (জামায়াতে ইসলামী) উদাহরণ টেনে বলেন, দলটি প্রায়ই নারীদের নির্বাচনী প্রচারণা বা গণমাধ্যমের আলোচনায় রাখলেও নির্বাচনে তাদের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেয় না। তবে বিএনপি নারী অংশগ্রহণের বিষয়ে নিজস্ব নীতি অনুসরণ করে এবং এই ক্ষেত্রে তাদের অঙ্গীকার স্পষ্ট।

পরিশেষে, প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, সরকারের নীতিগত পদক্ষেপগুলো নারীর ক্ষমতায়ন ও নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করবে। নারীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে আলাদা বাস সার্ভিসের মতো উদ্যোগগুলো এই প্রচেষ্টারই অংশ। তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, “আমাদের অঙ্গীকার স্পষ্ট – নারীর সুরক্ষা, ক্ষমতায়ন এবং সমান অংশগ্রহণ আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।”