মধ্যপ্রাচ্যে চলমান নিরাপত্তা সংকট এবং কয়েকটি দেশের আকাশসীমা বন্ধ থাকার কারণে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গত কয়েক দিনে মোট ২৬৬টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে আজ শনিবার একদিনেই বাতিল হয়েছে ২০টি ফ্লাইট। এই পরিস্থিতি বিমান চলাচল সংস্থাগুলোর জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে।
ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার এবং জর্ডানসহ বেশ কয়েকটি দেশ তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়ায় এই বিপুল সংখ্যক ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) জনসংযোগ দফতরের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ কাউছার মাহমুদ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
শনিবার বাতিল হওয়া ২০টি ফ্লাইটের মধ্যে ছিল কুয়েত এয়ারলাইন্সের দুটি, জাজিরার দুটি, এয়ার অ্যারাবিয়ার ছয়টি (শারজাহ, ইউএই), গালফ এয়ারের দুটি (বাহরাইন), কাতার এয়ারওয়েজের চারটি (কাতার) এবং এমিরেটস এয়ারলাইনসের চারটি (সংযুক্ত আরব আমিরাত) ফ্লাইট।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের রুট স্থগিতকরণ
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং আকাশপথে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স তাদের নির্ধারিত সময়সূচীতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় এই সংস্থাটি মধ্যপ্রাচ্যের ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ রুটে আগামী ৮ মার্চ পর্যন্ত তাদের সকল ফ্লাইট বাতিল ঘোষণা করেছে। এর আগে ৩ থেকে ৫ মার্চ পর্যন্ত এই রুটগুলোতে ফ্লাইট বন্ধ রাখা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে ৮ মার্চ পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে। বিমান কর্তৃপক্ষ শুক্রবার দুপুরে ট্রাভেল এজেন্সিগুলোকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে যাত্রীদের বিষয়টি অবহিত করার অনুরোধ করেছে।
এমিরেটসের সীমিত পরিসরে কার্যক্রম
মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক আকাশসীমা আংশিকভাবে পুনরায় চালু হওয়ার পর এমিরেটস এয়ারলাইনস সীমিত পরিসরে তাদের ফ্লাইট পরিচালনা করছে। সংস্থাটি এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে যে, আকাশসীমা আংশিকভাবে উন্মুক্ত হওয়ার পর তারা সীমিত ফ্লাইট সূচি অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তাদের নেটওয়ার্ক শতভাগ চালু হওয়ার আশা করছে কর্তৃপক্ষ, যদিও এটি সংশ্লিষ্ট আকাশসীমার প্রাপ্যতা এবং সকল অপারেশনাল শর্ত পূরণের উপর নির্ভরশীল। এমিরেটস তাদের কার্যক্রম পরিচালনায় নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
অপারেশনাল হালনাগাদ তথ্যে বলা হয়েছে, গত ৫ মার্চ এমিরেটস দুবাই থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে প্রায় ৩০ হাজার যাত্রী পরিবহন করেছে। শনিবারের মধ্যে এয়ারলাইনসটি তাদের রুট নেটওয়ার্কের প্রায় ৬০ শতাংশ পুনরায় চালু করে ৮৩টি গন্তব্যে প্রতিদিন ১০৬টি রিটার্ন ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা করেছে। যাত্রীরা বর্তমানে সক্রিয় নেটওয়ার্ক ও ফ্লাইট সূচি দেখে বুকিং করতে পারবেন। পূর্বের বুকিং করা গ্রাহকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। আপাতত নিশ্চিত বুকিং ছাড়া যাত্রীদের বিমানবন্দরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 























