ঢাকা ০২:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬

এক ছাদের নিচে ভিন্ন মতের সহাবস্থান: ঢাবি সাংবাদিক সমিতির ইফতার মাহফিলে ছাত্রসংগঠনগুলোর মিলন

শিক্ষাঙ্গনে গণতান্ত্রিক সহাবস্থান, সুস্থ রাজনৈতিক চর্চা এবং সম্প্রীতির পরিবেশ জোরদার করার লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (ডুজা) এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। শুক্রবার (৬ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিয়াশীল প্রায় ২০টি রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা এক মঞ্চে মিলিত হন।

‘গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধার: প্রত্যাশিত শিক্ষাঙ্গণ’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতৃবৃন্দ ক্যাম্পাসের বিরাজমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মহিউদ্দিন মুজাহিদ মাহি অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এবং সাধারণ সম্পাদক মাহাদি হাসান সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান বলেন, ডুজার এই আয়োজনের মাধ্যমে বিভিন্ন মতাদর্শের প্রতিনিধিরা একত্রিত হওয়ার সুযোগ পান। তিনি উল্লেখ করেন যে, ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও এই ধরনের অনুষ্ঠানে তাদের এক ছাদের নিচে আনা সম্ভব হয়, যা একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। উপাচার্য ক্যাম্পাসে সবসময় রাজনৈতিক সহাবস্থান বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং শিক্ষার্থীদের সুস্থ রাজনৈতিক চর্চার সুযোগ ও বিশ্ববিদ্যালয়কে গণতান্ত্রিক চর্চার উন্মুক্ত ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা বলেন, সাংবাদিক সমিতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়ে সহায়তা করে এবং বিভিন্ন ত্রুটি-বিচ্যুতি তুলে ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে সাহায্য করে। উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ এই ধরনের আয়োজনকে রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর মধ্যে সংলাপের সুযোগ তৈরিকারী এবং ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক পরিবেশ শক্তিশালীকরণে সহায়ক বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সম্প্রীতির ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করছে।

বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ক্যাম্পাস সাংবাদিকরা সবসময় সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে কথা বলেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থিতিশীলতা ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ছাত্রসংগঠনগুলোর নেতারাও ক্যাম্পাসে সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ ও সহাবস্থানের ওপর জোর দেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির ‘মব সংস্কৃতি’ দূর করে আসন্ন ছাত্রসংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে একটি সুস্থ পরিবেশ প্রত্যাশা করেন। তিনি ক্যাম্পাসে ‘গুপ্ত রাজনীতি’ বন্ধের আহ্বান জানান এবং ভুয়া ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে গুজব ছড়ানোর বিষয়ে সাংবাদিকদের সতর্ক থাকার অনুরোধ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহ-সভাপতি আবু সাদিক কায়েম জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে গণতান্ত্রিক ক্যাম্পাসের কথা বলেন এবং ডাকসু নির্বাচনকে বার্ষিক ক্যালেন্ডারের আওতায় আনার দাবি জানান।

বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রীর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক জাবির আহমেদ জুবেল বলেন, ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা অপরিহার্য এবং তিনি শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার আহ্বান জানান। বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি নাজমুল হাসান রাজনৈতিক মতপার্থক্য সত্ত্বেও শিক্ষাঙ্গনে সহনশীলতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং সব ছাত্রসংগঠনকে সহিংসতা ও অসহিষ্ণুতা পরিহার করে শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানান।

এ ছাড়াও অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা, ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদ আহসান, ছাত্রপক্ষের কেন্দ্রীয় সভাপতি মোহাম্মদ প্রিন্স, ছাত্র ফেডারেশনের ঢাবি শাখার আহ্বায়ক আরমানুল হক, ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি মুনতাসীর আহমেদ, এবং সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট (মার্কসবাদী)-এর সভাপতি সালমান সিদ্দিকী তাদের মূল্যবান বক্তব্য রাখেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে বিশেষ পেশায় সৈনিক নিয়োগ: আবেদন শুরু ৮ মার্চ

এক ছাদের নিচে ভিন্ন মতের সহাবস্থান: ঢাবি সাংবাদিক সমিতির ইফতার মাহফিলে ছাত্রসংগঠনগুলোর মিলন

আপডেট সময় : ১০:৩১:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬

শিক্ষাঙ্গনে গণতান্ত্রিক সহাবস্থান, সুস্থ রাজনৈতিক চর্চা এবং সম্প্রীতির পরিবেশ জোরদার করার লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (ডুজা) এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। শুক্রবার (৬ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিয়াশীল প্রায় ২০টি রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা এক মঞ্চে মিলিত হন।

‘গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধার: প্রত্যাশিত শিক্ষাঙ্গণ’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতৃবৃন্দ ক্যাম্পাসের বিরাজমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মহিউদ্দিন মুজাহিদ মাহি অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এবং সাধারণ সম্পাদক মাহাদি হাসান সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান বলেন, ডুজার এই আয়োজনের মাধ্যমে বিভিন্ন মতাদর্শের প্রতিনিধিরা একত্রিত হওয়ার সুযোগ পান। তিনি উল্লেখ করেন যে, ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও এই ধরনের অনুষ্ঠানে তাদের এক ছাদের নিচে আনা সম্ভব হয়, যা একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। উপাচার্য ক্যাম্পাসে সবসময় রাজনৈতিক সহাবস্থান বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং শিক্ষার্থীদের সুস্থ রাজনৈতিক চর্চার সুযোগ ও বিশ্ববিদ্যালয়কে গণতান্ত্রিক চর্চার উন্মুক্ত ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা বলেন, সাংবাদিক সমিতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়ে সহায়তা করে এবং বিভিন্ন ত্রুটি-বিচ্যুতি তুলে ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে সাহায্য করে। উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ এই ধরনের আয়োজনকে রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর মধ্যে সংলাপের সুযোগ তৈরিকারী এবং ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক পরিবেশ শক্তিশালীকরণে সহায়ক বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সম্প্রীতির ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করছে।

বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ক্যাম্পাস সাংবাদিকরা সবসময় সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে কথা বলেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থিতিশীলতা ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ছাত্রসংগঠনগুলোর নেতারাও ক্যাম্পাসে সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ ও সহাবস্থানের ওপর জোর দেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির ‘মব সংস্কৃতি’ দূর করে আসন্ন ছাত্রসংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে একটি সুস্থ পরিবেশ প্রত্যাশা করেন। তিনি ক্যাম্পাসে ‘গুপ্ত রাজনীতি’ বন্ধের আহ্বান জানান এবং ভুয়া ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে গুজব ছড়ানোর বিষয়ে সাংবাদিকদের সতর্ক থাকার অনুরোধ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহ-সভাপতি আবু সাদিক কায়েম জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে গণতান্ত্রিক ক্যাম্পাসের কথা বলেন এবং ডাকসু নির্বাচনকে বার্ষিক ক্যালেন্ডারের আওতায় আনার দাবি জানান।

বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রীর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক জাবির আহমেদ জুবেল বলেন, ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা অপরিহার্য এবং তিনি শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার আহ্বান জানান। বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি নাজমুল হাসান রাজনৈতিক মতপার্থক্য সত্ত্বেও শিক্ষাঙ্গনে সহনশীলতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং সব ছাত্রসংগঠনকে সহিংসতা ও অসহিষ্ণুতা পরিহার করে শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানান।

এ ছাড়াও অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা, ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদ আহসান, ছাত্রপক্ষের কেন্দ্রীয় সভাপতি মোহাম্মদ প্রিন্স, ছাত্র ফেডারেশনের ঢাবি শাখার আহ্বায়ক আরমানুল হক, ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি মুনতাসীর আহমেদ, এবং সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট (মার্কসবাদী)-এর সভাপতি সালমান সিদ্দিকী তাদের মূল্যবান বক্তব্য রাখেন।