দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) দীর্ঘদিন ধরে কার্যত অকার্যকর অবস্থায় থাকলেও, সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর আতিথেয়তায় এক ইফতার মাহফিলে সদস্য দেশগুলোর কূটনীতিকদের অংশগ্রহণ নতুন আশার সঞ্চার করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আমন্ত্রণে শুক্রবার (৬ মার্চ) সার্কভুক্ত দেশগুলোর প্রতিনিধিরা এক টেবিলে বসেছেন, যা আঞ্চলিক এই জোটকে পুনরায় সক্রিয় করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের দৃঢ় সংকল্পের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
দক্ষিণ এশিয়ার আটটি দেশের আঞ্চলিক জোট সার্কের সর্বশেষ শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৪ সালে। এরপর থেকে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক মতপার্থক্য, বিশেষত ভারত ও পাকিস্তানের দ্বন্দ্বের কারণে সার্কের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ এবং আফগানিস্তান এই জোটের সদস্য।
বিএনপি সরকারের বৈদেশিক নীতিতে বরাবরই ‘বাংলাদেশ প্রথম’ স্লোগানকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বৈদেশিক নীতি অনুসরণ করে বাংলাদেশ সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করতে চাইছে। উল্লেখ্য, সার্ক প্রতিষ্ঠার ধারণা প্রথম দিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান এবং তার উদ্যোগেই ১৯৮৫ সালের ৮ ডিসেম্বর এই সংস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়।
ক্ষমতায় আসার পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সার্ককে সক্রিয় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, সার্ক গঠনের উদ্যোগ ছিল বাংলাদেশের এবং তার সরকার এই জোটকে পুনরায় গতিশীল করতে চায়। শুক্রবারের ইফতার মাহফিলকে প্রধানমন্ত্রীর সেই অঙ্গীকার পূরণের প্রথম ধাপ হিসেবে দেখছেন কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ইফতার অনুষ্ঠানে অংশ নেন ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মা, নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারী, ভুটানের রাষ্ট্রদূত দাশো কারমা হামু দর্জি, পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার ও শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রদূত ধর্মপাল বীরাককোডি এবং তাদের সহধর্মিণীরা। এই শীর্ষস্থানীয় কূটনীতিকদের উপস্থিতি সার্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
যদিও শীর্ষ সম্মেলন বন্ধ রয়েছে, সদস্য রাষ্ট্রগুলো নিয়মিত বার্ষিক চাঁদা পরিশোধ করছে এবং নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে অবস্থিত সার্ক সচিবালয়ও কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা এবং ভারতে সার্কের আঞ্চলিক কেন্দ্র রয়েছে। তবে ভারতের আপত্তির কারণে ইসলামাবাদে অবস্থিত সার্ক এনার্জি সেন্টার এখনো স্থবির।
সার্ককে গতিশীল করতে ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিরলসভাবে কাজ করছে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান সংস্থার মহাসচিব মো. গোলাম সারওয়ারের কাছে সার্ককে কীভাবে আরও গতিশীল করা যায়, সে বিষয়ে জানতে চেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর ইফতার মাহফিলের মাধ্যমে বাংলাদেশ যে সার্ককে পুনরায় কার্যকর করতে বদ্ধপরিকর, সেই বার্তা স্পষ্ট হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 

























